মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদকে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১০১ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক সম্প্রতি তাঁর সাত দশকের জীবনসঙ্গী ও মালয়েশিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত ছিলেন।
মাহাথিরের সহযোগী সুফি ইউসুফ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে তাঁকে ভর্তি করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক রোগনির্ণয় তখনও পাওয়া যায়নি।

সুফি জানান, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর মাহাথির পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিচ্ছিলেন না। এর ফলে তিনি শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। বুধবার এক বার্তায় সুফি বলেন, মাহাথিরের অবস্থা স্থিতিশীল।
তিনি বলেন, স্ত্রীর মৃত্যুতে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব—সব মিলিয়ে মাহাথিরের শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে। ১০১ বছর বয়সী একজন মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি মোটেই ভালো নয়।
সিতি হাসমাহ সোমবার ১০০ বছর বয়সে মারা যান। তিনি নিজেও একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। মাহাথির ও সিতি হাসমাহ প্রায় সাত দশক একসঙ্গে সংসার করেছেন এবং তাঁদের সাত সন্তান রয়েছে।
স্ত্রীর মৃত্যুর পর মাহাথিরকে গভীরভাবে শোকাহত অবস্থায় দেখা যায়। তাঁর স্ত্রীর শেষকৃত্যের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাঁকে মালয়েশিয়ার সাবেক রাজার সঙ্গে কথা বলার সময় কাঁদতে দেখা যায়। সেখানে আবেগাপ্লুত মাহাথির বলেন, তিনি আশা করেননি যে সিতি হাসমাহ সেদিনই মারা যাবেন।

মাহাথিরের দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। অতীতে তাঁর হৃদ্যন্ত্রে একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং বাইপাস সার্জারিও করতে হয়েছে। বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁকে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেও পড়ে গিয়ে কোমরের হাড়ে চোট পাওয়ার পর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
মাহাথির মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি প্রথমবার ১৯৮১ সালে দেশটির চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ২০০৩ সাল পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন।
এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৮ সালে ৯২ বছর বয়সে আবারও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২০ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল ৯২ বছর, যা তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সে দায়িত্ব পালন করা সরকারপ্রধানদের একজন হিসেবে পরিচিত করে।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকা মাহাথিরের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন তাঁর সহযোগী। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন সামনে আসার পরই পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।












