আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলতে এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দল। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর হবে ম্যাচটি। ম্যাচের আগে দুবাইয়ে স্বাগতিক আমিরাতের বিপক্ষে দুই দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে দল, যা শেষ হয়েছে সোমবার। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট তাই গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ। দলের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়া সফরের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। একই সময়ে জাপানে এশিয়ান গেমসে খেলেছে বাংলাদেশের আরেকটি দল। সেমিফাইনালে পাকিস্তান আর ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে পদক ছাড়াই ফিরছে তারা। টেস্ট দলের সামনে তাই সুখবর দেওয়ার দায়িত্বও।
ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসের কথা শুনিয়েছেন পেসার হাসান মাহমুদ। তাঁর মতে, দলে এখন এমন আবহ তৈরি হয়েছে যে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে আধিপত্য দেখাতে পারে। আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সেই জয়কে বড় অর্জনের সিঁড়ি হিসেবে দেখছেন হাসান। তিনি বলেছেন, এখন সবাই বুঝতে পারছে বাংলাদেশেও বিশ্বমানের পেসার আছে। এ বছর ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল কেন্টের হয়েও খেলেছেন এই পেসার।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের সিরিজটি শেষ হয় ১-১ সমতায়। ডারউইনে প্রথম টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। পরে ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবু সিরিজ ড্র করাকে বড় অর্জন হিসেবেই দেখছে দল। হাসান মনে করেন, সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের গ্রাফ ওপরের দিকেই যাবে। শান্তর নেতৃত্বে টেস্ট দল সাম্প্রতিক সময়ে বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করার সামর্থ্য দেখিয়েছে।
নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে পেসার তাসকিন আহমেদকে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে তাসকিনকে পুরোপুরি পেতে চায় দল। দলে ফিরেছেন তাওহীদ হৃদয় ও জাকের আলী অনিক। পেস আক্রমণে হাসানের সঙ্গে আছেন খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী ও শরিফুল ইসলাম। স্পিন সামলাবেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। ব্যাটিংয়ে আছেন মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও মুমিনুল হকের মতো অভিজ্ঞরা। ভ্রমণকারী বিকল্প হিসেবে আছেন নাঈম হাসান, মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন। চোট কাটিয়ে ফেরার পথে থাকা পেসার নাহিদ রানা ১০ অক্টোবর থেকে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবেন বলে জানিয়েছেন বাশার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে একাদশ কেমন হবে, তা ঠিক হবে প্রস্তুতি ম্যাচের পর।
টেস্টের পর আমিরাতেই হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। ১৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ে ও ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ফাইনাল ২৩ অক্টোবর। এরপর দেশে ফিরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ। প্রথম টেস্ট ২৮ অক্টোবর মিরপুরে, দ্বিতীয়টি ৫ নভেম্বর সিলেটে। চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় এগোতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের বিকল্প নেই। অস্ট্রেলিয়ায় যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, আবুধাবিতে তার পরীক্ষা দিতে হবে শান্তদের। ঘরের মাঠে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে নামার আগে আবুধাবির টেস্টটি তাই প্রস্তুতিরও বড় সুযোগ।











