দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোকে আধুনিক করে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপ দেওয়া হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এ কথা জানিয়েছেন। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি ক্রিকেট একাডেমির উদ্বোধন করে তিনি এ ঘোষণা দেন। একাডেমিতে খেলার মাঠ ও ড্রেসিংরুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন অবকাঠামো বানানোর আগে বিদ্যমান মাঠ ও স্টেডিয়ামগুলো ব্যবহারযোগ্য করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি জেলা স্টেডিয়াম এক জায়গায় অনেক খেলার আয়োজন করতে পারবে। ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি সাঁতার, ভলিবল ও টেবিল টেনিস হবে। দাবা, আর্চারি, শুটিং ও হকির জন্যও সুবিধা রাখা হবে। স্টেডিয়ামে দর্শকদের গ্যালারি, ড্রেসিংরুম ও প্রেসবক্স থাকবে। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। শহরের ওয়ার্ড পর্যায়ে ফুটসালের সুবিধা গড়ে তোলা হবে। স্টেডিয়ামগুলোতে একাধিক খেলার ব্যবস্থা থাকলে বছরজুড়ে মাঠ ব্যস্ত থাকবে। এতে রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কাজে লাগবে।
আমিনুল হক বলেন, তরুণদের খেলাধুলায় ব্যস্ত রাখতে পারলে তারা ক্ষতিকর কাজ থেকে দূরে থাকবে। আগামী পাঠ্যক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাবিষয়ক বই রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। খেলোয়াড়দের সারা বছর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা হবে। লক্ষ্য হলো আগামী পাঁচ বছরে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসে প্রতিযোগিতার মতো দল গড়ে তোলা।
দেশের অনেক জেলা স্টেডিয়াম বছরের বেশির ভাগ সময় অব্যবহৃত পড়ে থাকে। কোথাও মাঠ খারাপ, কোথাও ফ্লাডলাইট বা ড্রেসিংরুম অকেজো। ফলে স্থানীয় ক্রিকেট ও ফুটবল লিগ নিয়মিত হয় না। জেলা থেকে নতুন খেলোয়াড় উঠে আসার পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জেলা স্টেডিয়াম সংস্কারের ঘোষণা তৃণমূলের খেলাধুলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বয়সভিত্তিক দলগুলোর অনুশীলনের জন্যও জেলায় মানসম্মত মাঠ দরকার। এখন অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে অনুশীলনের জন্য ঢাকায় আসতে হয়। এতে খরচ বাড়ে, অনেকে মাঝপথে খেলা ছেড়ে দেন। জেলায় সুবিধা বাড়লে সেই চাপ কমবে।
সিলেট অঞ্চল থেকে উঠে আসা নাসুম আহমেদ, খালেদ আহমেদ ও আবু জায়েদের মতো ক্রিকেটাররা জাতীয় দলে খেলেছেন। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্ট ম্যাচও হয়েছে। শ্রীমঙ্গলের নতুন একাডেমি এই অঞ্চলের প্রতিভা খোঁজার কাজে বাড়তি সুযোগ তৈরি করবে। ক্রিকেটের বাইরের খেলাতেও সম্ভাবনা আছে। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে আর্চারিতে একাধিক সোনা জিতেছে বাংলাদেশ। ঠিকমতো সুযোগ পেলে সাঁতার, শুটিং ও হকিতেও জেলা থেকে খেলোয়াড় উঠে আসতে পারে। সে জন্য জেলা স্টেডিয়াম সারা বছর সচল রাখা জরুরি।
চা-বাগানঘেরা শ্রীমঙ্গলে ক্রিকেট একাডেমি হওয়ায় সিলেট অঞ্চলের তরুণ ক্রিকেটাররা উপকৃত হবেন। এর আগে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেছিলেন প্রতিমন্ত্রী। তবে বাজেট কত, কোন জেলায় আগে কাজ শুরু হবে, তা এখনো জানানো হয়নি। জাতীয় দল এখন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৯ অক্টোবরের আবুধাবি টেস্টের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। মাঠের এই ঘোষণা কতটা মাঠে গড়ায়, তা দেখার অপেক্ষা থাকল খেলোয়াড় ও সংগঠকদের।











