বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো এখন এমন এক আর্থিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ, ঋণের সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় এবং সরকারি বন্ডের বাজারে অস্থিরতা—সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বাধীনতা ও দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সুদের হার নির্ধারণের বাইরেও তাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ: আর্থিক বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে গিয়ে তারা কতটা সরকারি ঋণের দায় নিজেদের কাঁধে নেবে?
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বন্ড কেনার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ঋণবাজারে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষত ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং ২০২০ সালের করোনাভাইরাস মহামারির সময় অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকারি ঋণের বিপুল সম্প্রসারণ ও মূল্যস্ফীতির চাপ সেই নীতির কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের বিশাল বন্ডভান্ডার কমানোর পথে থাকলেও সরকারগুলো ক্রমবর্ধমান ঋণব্যয়ের চাপ সামলাতে আবারও তাদের সহায়তা চাইতে পারে।
এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন: কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি শুধু মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে, নাকি প্রয়োজনের সময় সরকারের ঋণসংকট সামলানোর ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা নেবে?

রাজনৈতিক বাস্তবতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাকে চাপে ফেলছে
যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে আগামী এক বছরে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যয় কমানো কিংবা বড় ধরনের আর্থিক কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগ নেওয়া রাজনৈতিকভাবে কঠিন। অথচ ঋণবাজারে চাপ অব্যাহত থাকলে সরকারগুলোর ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
এই চাপ সামলানোর জন্য সরকারগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিকে তাকাতে পারে। সরকারি বন্ডের চাহিদা বাড়ানো কিংবা বাজারে অস্থিরতা কমাতে জরুরি সহায়তা দেওয়া হলে স্বল্প মেয়াদে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। কিন্তু এমন পদক্ষেপের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি ও সরকারের অর্থায়নের মধ্যে সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিষ্পত্তি ব্যাংকের প্রধান পাবলো হার্নান্দেজ দে কস সম্প্রতি জরুরি পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার নীতিগত সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো, বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখার জন্য নেওয়া পদক্ষেপ এবং অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া মুদ্রানীতিকে আলাদা করে দেখতে হবে।
২০২২ সালে ব্রিটিশ সরকারি বন্ডের বাজারে অস্থিরতার সময় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সীমিত ও স্বল্পস্থায়ী হস্তক্ষেপ এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ। তবে প্রতিটি পরিস্থিতি একই রকম নয়। বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটলেও সরকারি ঋণের ব্যয় বাড়তে পারে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়—সহায়তা দিলে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বাড়তে পারে, আর সহায়তা না দিলে বাজারের চাপ সরকার ও অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করতে পারে।
ঋণের পাহাড়, কিন্তু সুদ পরিশোধের সক্ষমতা সীমিত
বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে জমে ওঠা সরকারি ঋণের বোঝা। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ব্যাপকভাবে সরকারি বন্ড কিনতে শুরু করে। এর ফলে সরকারগুলোর ঋণ নেওয়ার পরিবেশ তুলনামূলক সহজ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মহামারির ধাক্কা সামলাতে আরও বড় অঙ্কের সরকারি ব্যয় ও ঋণ প্রয়োজন হয়।
এখন সেই ঋণ পরিশোধের খরচ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, জি-৭ অর্থনীতিগুলোর গড় সরকারি ঋণ গ্রহণের ব্যয় ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর্যায়ে ফিরে এলেও বার্ষিক সুদ পরিশোধের ব্যয় প্রায় ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ, ওই সময়ের তুলনায় এসব দেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ হয়ে ৬০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।
উন্নত অর্থনীতিগুলো সম্মিলিতভাবে শুধু সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধেই বছরে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করছে। এই ব্যয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা কিংবা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে তাদের সম্ভাব্য ব্যয়ের চেয়েও বেশি।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও তাদের বন্ডভান্ডার কমাচ্ছে। ২০২২ সালের শুরুতে জি-৭ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত বন্ডভান্ডার ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছিল। এরপর তা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতিসুদ বাড়ানো হয়েছে। বন্ডভান্ডার সংকোচন ও সুদের হার বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের সূচক প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে এবং বাজারে ঋণ নেওয়ার প্রত্যাশিত ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সহজ পথ নেই। সরকারগুলো যদি ব্যয় কমাতে ব্যর্থ হয়, তবে ঋণ আরও বাড়বে। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি আগের মতো বন্ড কিনে বাজারে সহায়তা দেয়, তবে সরকারি ঋণের সম্প্রসারণে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

বন্ড কেনার নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অবস্থান বদলাচ্ছে
সরকারি বন্ড কেনার মাধ্যমে বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর নীতি, যা পরিমাণগত শিথিলতা নামে পরিচিত, একসময় অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হতো। এখন সেই নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সংশয় বাড়ছে।
সমালোচকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ড কেনার ফলে সরকারগুলো সহজে ঋণ নিতে পেরেছে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের চাপ কম অনুভব করেছে। একই সঙ্গে সম্পদের দাম বেড়ে যাওয়ায় শেয়ার ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদের মালিকেরা তুলনামূলক বেশি লাভবান হয়েছেন। ফলে সম্পদের মালিকানা ও আয়বৈষম্য নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধান কেভিন ওয়ার্শ দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বন্ডভান্ডার সম্প্রসারণের বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁর মতে, গত ১৮ বছরের বন্ড কেনার অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে রাজস্বনীতির কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তিনি বন্ডভান্ডার আরও কমানোর উপায় খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংস্কার উদ্যোগও নিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সরকারি বন্ড বিক্রি অব্যাহত রেখেছে, যদিও এখন স্বল্পমেয়াদি বন্ডের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তার বিশাল সম্পদভান্ডার কমাচ্ছে। ইউরোজোনের মোট দেশজ উৎপাদনের ৪০ শতাংশেরও বেশি সমপরিমাণ সম্পদভান্ডার নিয়ে এই সংকোচন এমন এক সময়ে চলছে, যখন ফ্রান্সের বন্ডবাজারে ইউরোপের পুরোনো ঋণসংকটের কিছু লক্ষণ ফিরে আসছে।
অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো একদিকে আগের নীতির সীমাবদ্ধতা থেকে সরে আসতে চাইছে, অন্যদিকে বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হলে আবারও হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। এই দ্বৈত অবস্থান ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণকে আরও জটিল করে তুলছে।
বন্ডবাজারে বদলে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের চরিত্র
সরকারি বন্ডের বাজারে অস্থিরতার আরেকটি কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের ধরনে পরিবর্তন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বন্ড কেনা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণপত্রে পেনশন তহবিলের চাহিদাও কমছে। নির্ধারিত সুবিধাভিত্তিক পেনশনব্যবস্থা সংকুচিত হচ্ছে এবং অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আগের মতো বাজারে সক্রিয় নেই।
এই শূন্যস্থান পূরণ করছে হেজ ফান্ডের মতো স্বল্পমেয়াদি ও তুলনামূলক ঝুঁকিপ্রবণ বিনিয়োগকারী। তারা বাজারে তারল্য বাড়াতে সাহায্য করলেও সুদের হার কিংবা বন্ডের দামে সামান্য পরিবর্তন হলে দ্রুত বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে পারে। অস্থিরতার সময় অনেক বিনিয়োগকারী একই সঙ্গে বিক্রি শুরু করলে বাজারের চাপ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সরকারি বন্ডের বাজারে হেজ ফান্ডের কার্যক্রম তাই নিয়ন্ত্রকদের উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। এসব তহবিলের লেনদেনে ঋণনির্ভরতা বেশি হলে তাদের সঙ্গে কাজ করা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিও বাড়ে। বাজারে অতিরিক্ত ঋণনির্ভর বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণের কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সময়টিও রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে সংবেদনশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে এসএমবিসি নিক্কোর সুদহার কৌশলবিদ জোসেফ আবাতে জানিয়েছেন, ২০২০ সালের পর সরকারি বন্ডের নগদ ও ভবিষ্যৎ চুক্তির দামের পার্থক্য কাজে লাগানো হেজ ফান্ডগুলোর চাহিদা চার গুণ বেড়েছে। এখন এসব লেনদেনের পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি বন্ডের প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন সরকারি ঋণ সরবরাহের প্রতি বাজারের সংবেদনশীলতা গত এক দশকে দ্বিগুণ হয়েছে। নতুন ঋণ সরবরাহ ১ শতাংশ বাড়লে পাঁচ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার প্রায় ৮ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়তে পারে। অর্থাৎ, সরকার যত বেশি ঋণ বাজারে ছাড়বে, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সেই ঋণ গ্রহণের ব্যয় বাড়ার ঝুঁকিও তত বেশি হবে।

সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণই কি একমাত্র পথ?
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সরকারি ঋণের পরিমাণ বার্ষিক বিশ্ব অর্থনীতির মোট উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর বিশ্বাসযোগ্য রাজস্বসংহতি পরিকল্পনা জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে সরকারের আর্থিক সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত নয়—এটাই তাঁর বক্তব্যের মূল কথা।
কিন্তু বাস্তবে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া রাজনৈতিকভাবে কঠিন। অনেক উন্নত দেশে জনসংখ্যার বার্ধক্যের কারণে পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় বাড়ছে। একই সময়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে সরকারগুলোকে একদিকে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সেবা বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্যও বাড়তি অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি পুরোপুরি সরে দাঁড়ায়, তবে বাজারের অস্থিরতা আরও তীব্র হতে পারে। আবার সরকারকে সহায়তা করতে গিয়ে তারা যদি নিয়মিত বন্ড কেনা শুরু করে, তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও ঋণ নেওয়ার প্রবণতা উৎসাহিত হতে পারে।
সমাধানের জন্য তাই শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে পরিবর্তন আনলেই হবে না। সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় ও রাজস্বের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে বন্ডবাজারে অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা ও স্বল্পমেয়াদি জল্পনামূলক লেনদেনের ঝুঁকি কমানোর উপায় খুঁজতে হবে। তবে এসব সংস্কারের ফল পেতে সময় লাগবে, আর বর্তমান বাজারের চাপ অপেক্ষা করার সুযোগ দিচ্ছে না।
শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে প্রশ্নটি শুধু অর্থনীতির নয়, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতারও। বাজারে সাময়িক স্বস্তি দিতে গিয়ে তারা যদি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প হয়ে ওঠে, তবে দীর্ঘমেয়াদে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল হতে পারে। অন্যদিকে, সংকটের মুহূর্তে দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়বে।
এই দুই ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য জরুরি সহায়তার স্পষ্ট সীমা, দায়িত্বশীল রাজস্বনীতি এবং বন্ডবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা মোকাবিলা—তিনটিই প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে শেষ পর্যন্ত সরকারকে রক্ষা করা এবং বাজারের আস্থা বজায় রাখার মধ্যে একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু সরকারগুলো যদি নিজেদের ঋণ ও ব্যয়ের সমস্যার সমাধান না করে, তবে সেই সিদ্ধান্তের দায় একা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে সামলানো সম্ভব হবে না।












