আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করে গ্রিডে ৪ হাজার মেগাওয়াট যোগ করতে চায় সরকার। কিন্তু গত ৩০ দিনে যোগ হয়েছে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট। এই গতিতে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব কি না, সে প্রশ্ন তুলেছে সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে কমিটির সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই হারে চললে লক্ষ্যের অনেক নিচে থেকে যাবে অর্জন।
কমিটি মন্ত্রণালয়ের কাছে বিস্তারিত হিসাব চেয়েছে। প্রতি মাসের অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর খরচের হিসাবও চাওয়া হয়েছে। সৌর প্যানেল ও ইনভার্টার আমদানির জন্য কত ঋণপত্র খোলা হয়েছে, তা-ও জানতে চেয়েছে কমিটি। এসব তথ্য পরের বৈঠকে উপস্থাপন করতে হবে। খরচ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বৈঠকে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৫০ মেগাওয়াটের একটি ছাদভিত্তিক প্রকল্পে সাধারণত খরচ হওয়ার কথা প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। অথচ মন্ত্রণালয় একই আকারের প্রকল্পে ৩৫০ কোটি টাকার বেশি খরচ প্রস্তাব করেছে। তাই প্রতিটি প্রকল্পের আলাদা খরচের হিসাব চেয়েছে কমিটি।
সাধারণ গ্রাহকের জন্যও এই কর্মসূচিতে সুযোগ রাখা হয়েছে। কেউ ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাসা বা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর ব্যবস্থা বসালে বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করতে পারবেন। প্রতি ইউনিটের জন্য তিনি পাবেন ১০ টাকা ৫০ পয়সা। এই দাম ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে। অর্থাৎ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করলে নিজের বিদ্যুৎ বিলও কমবে, আবার বাড়তি আয়েরও সুযোগ থাকবে। তবে খরচ, অনুমোদন ও সংযোগের নিয়ম নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে এখনো পরিষ্কার তথ্য কম। আগ্রহী গ্রাহকদের নিজের এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছ থেকে নিয়ম জেনে নেওয়াই ভালো।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের বিদ্যুৎ খাত এখনো আমদানি করা জ্বালানির ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। তেল ও গ্যাস কিনতে প্রতিবছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে সেই চাপ সরাসরি পড়ে সরকারের বাজেট ও গ্রাহকের বিলে। ছাদের সৌরবিদ্যুৎ এই নির্ভরতা কিছুটা কমাতে পারে। এতে নতুন জমিও লাগে না। বৈঠকে ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েও কথা হয়েছে। হাসনাত আবদুল্লাহ এ খাতে পরিশোধ করা ২ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার ফরেনসিক নিরীক্ষা দাবি করেন। তাঁর মতে, প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতেই এই চার্জ দেওয়া উচিত।
এখন দেখার বিষয়, পরের বৈঠকে মন্ত্রণালয় কী হিসাব নিয়ে আসে। লক্ষ্য পূরণে বাকি আছে চার মাসের কিছু বেশি সময়। ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন দ্রুত বাড়াতে হলে প্যানেল আমদানি, সংযোগ অনুমোদন ও গ্রাহকের কাছে সহজ তথ্য পৌঁছানো দরকার। খরচের হিসাবেও স্বচ্ছতা লাগবে। না হলে কর্মসূচিটি কাগজে বড় লক্ষ্য হয়েই থেকে যেতে পারে। আর গ্রিডে প্রতিশ্রুত বিদ্যুৎ না এলে আমদানি করা জ্বালানির ওপর চাপও কমবে না। গ্রাহকেরা সাড়া দেবেন কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে খরচ কত কমে আর প্রক্রিয়া কত সহজ হয় তার ওপর। সরকারের সামনে তাই সময় কম, কাজ অনেক।












