মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টেলিভিশনসহ ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে বাংলাদেশে বাড়ছে ই-বর্জ্যের পরিমাণও। যথাযথ সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় এসব বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমেই বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় আয়োজিত ই-বর্জ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক প্রচারণায় এ আহ্বান জানানো হয়। ভলান্টিয়ার ফর এনভায়রনমেন্ট (ভিএফই) ও ইউক্যান যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সার্বিক সহযোগিতা দেয় ভাঙাড়িওয়ালা।
ই-বর্জ্যে মাটি, পানি ও বায়ুদূষণের ঝুঁকি
প্রচারণায় বক্তারা বলেন, ব্যবহারের অনুপযোগী মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, টেলিভিশন, ব্যাটারি ও চার্জারে সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর পদার্থ থাকতে পারে। এসব বর্জ্য সাধারণ গৃহস্থালি আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া কিংবা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পুড়িয়ে ফেললে মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হয়।
এর প্রভাব শুধু পরিবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শে আসা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
বক্তারা জানান, ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। দেশে ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও বর্জ্য সংগ্রহ, আলাদা করা এবং নিরাপদ পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা একই গতিতে সম্প্রসারিত হয়নি।
সচেতনতার পাশাপাশি বাস্তব উদ্যোগ প্রয়োজন
ইউক্যানের প্রতিষ্ঠাতা যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পরিবর্তন আনতে তরুণ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু সচেতনতা তৈরি করলেই হবে না, সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে।
ভলান্টিয়ার ফর এনভায়রনমেন্টের পরিচালক শেখ শাহরুখ ফারহান বলেন, ই-বর্জ্য দূষণ সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে সচেতন থাকা যথেষ্ট নয়। তরুণদের নিজেদের পরিবার ও আশপাশের মানুষের মধ্যে নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চর্চা ছড়িয়ে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
ভাঙাড়িওয়ালার উদ্যোক্তা নাসিম নেক বলেন, ই-বর্জ্যকে সাধারণ আবর্জনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এসব বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করে যথাযথ পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। এ কাজে ভাঙাড়ি সংগ্রহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদেরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ সংগ্রহের পরামর্শ
প্রচারণায় অংশগ্রহণকারীরা বসুন্ধরা সিটি ও আশপাশের এলাকার ক্রেতা, বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।
এ সময় ব্যবহারের অনুপযোগী ইলেকট্রনিক পণ্য যত্রতত্র না ফেলা, নির্ধারিত সংগ্রহকেন্দ্রে জমা দেওয়া এবং সচল যন্ত্রপাতি সম্ভব হলে মেরামত করে পুনরায় ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। আর ব্যবহার অনুপযোগী পণ্য নিরাপদ উপায়ে পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থায় পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। নাগরিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
‘রিসাইকেল, রিথিঙ্ক, রিফর্ম, রিইউজ’—পুনর্ব্যবহার, নতুন করে ভাবা, সংস্কার ও পুনরায় ব্যবহারের বার্তা নিয়েই প্রচারণাটি পরিচালিত হয়।












