সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর বড় একটি অংশ। ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে রোববার (১ নভেম্বর) সকালে মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। এতে মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও। অফিসগামী মানুষসহ বিভিন্ন কাজে বের হওয়া যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সকাল থেকে মিরপুরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন আটকে থাকায় অনেক যাত্রী বিকল্প পথ বেছে নেন। কেউ দীর্ঘ পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, কেউ মেট্রোরেল ব্যবহার করেন। আবার অনেকে যানজট ও অবরোধের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।
মিরপুরের তিন এলাকায় সড়ক অবরোধ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর ১০ থেকে ১২ নম্বর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকরা। এতে গাবতলী থেকে মিরপুর ১০ হয়ে আগারগাঁও ও মহাখালীগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
একইভাবে গাবতলী থেকে মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বর হয়ে কালশী, বিমানবন্দর এবং যমুনা ফিউচার পার্ক হয়ে প্রগতি সরণির দিকে চলাচলকারী যানবাহনও আটকে পড়ে। বাসসহ অন্যান্য যানবাহন এসব সড়কে চলতে না পারায় বিকল্প পথে চাপ বাড়তে থাকে।
অবরোধের প্রভাব পড়ে ফার্মগেট, শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব ও কারওয়ান বাজার এলাকাতেও। মিরপুর থেকে এসব এলাকার দিকে সরাসরি যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়।
মেট্রোরেলে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়
সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে মেট্রোরেলের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে স্টেশন ও ট্রেনে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ভিড় তৈরি হয়।
মিরপুর-১১ এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আহমেদ জরুরি কাজে তেজগাঁও যাওয়ার জন্য সকালে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। কিন্তু বাসা থেকে বের হয়েই অবরোধের মুখে পড়েন। পরে গাড়ি বাসায় রেখে মেট্রোরেলে ফার্মগেট যান। সেখান থেকে তেজগাঁওয়ে পৌঁছান।
তিনি জানান, সড়কপথে আগারগাঁও কিংবা ফার্মগেট যাওয়ার যাত্রীরাও মেট্রোরেল ব্যবহার করায় সেখানে প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়েছে।
আরেক যাত্রী ইমন জানান, অবরোধের কারণে তিনি মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বর এলাকায় যেতে পারেননি। বাধ্য হয়ে কালশী সড়ক ব্যবহার করতে হয়েছে তাঁকে। এ পথে কয়েকবার তাঁর মোটরসাইকেল আটকে দেওয়া হলেও অনুরোধ করে সেখান থেকে বের হতে পেরেছেন।
বিকল্প সড়কেও বাড়তি চাপ
তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার রফিকুল ইসলাম জানান, মিরপুর ১০ নম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট সড়ক পুরোপুরি বন্ধ থাকায় ওই এলাকার যানবাহন অন্য পথে চলাচলের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে গুলিস্তানগামী গাড়িগুলো বিকল্প হিসেবে তেজগাঁও এলাকার সড়ক ব্যবহার করায় সেখানে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে।
তিনি বলেন, বাড়তি যানবাহনের চাপের মধ্যেও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। অনেকেই বাসে করে রওনা দিয়েও অবরোধের কারণে মাঝপথে নেমে যান। পরে অবরোধের এলাকা হেঁটে পার হয়ে অটোরিকশা বা অন্য যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন
পোশাকশ্রমিকরা গত কয়েক দিন ধরে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। শনিবারের মতো রোববারও মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় তাঁদের অবরোধ কর্মসূচি চলে।
শ্রমিকদের এই আন্দোলনের কারণে মিরপুরের পাশাপাশি রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এক এলাকার অবরোধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে অন্য এলাকাতেও। ফলে কর্মদিবসের শুরুতেই রাজধানীর বিভিন্ন পথে যাতায়াতকারীদের দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়।
মিরপুরে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। মেট্রোরেলেও বেড়েছে যাত্রীদের চাপ।










