মার্কিন র্যাপ সংগীতশিল্পী নিকি মিনাজকে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, প্রস্তাবটি ভালো এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি ভাববেন।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ফ্লোরিডায় ডানপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক বেনি জনসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ট্রাম্প। জনসন জানতে চান, হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিকি মিনাজকে নিয়োগ দেওয়া উচিত কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি ভালো ধারণা। আমি বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করব।’ এরপর তিনি মজা করে জনসনকেও প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার প্রস্তাব দেন। বলেন, জনসনও এ পদে ভালো করবেন।
তবে ট্রাম্পের মন্তব্যকে আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নিকি মিনাজ কিংবা জনসন—কাউকেই এ পদের জন্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদটি দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। গত ২৭ আগস্ট ক্যারোলিন লিভিট দায়িত্ব ছাড়ার পর ৪৫ দিন পদটি শূন্য ছিল। এরপর কেটি জাকারিয়া দায়িত্ব নিলেও মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন। এ সময় তিনি মাত্র একবার সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেছিলেন, যার স্থায়িত্ব ছিল ১৪ মিনিট।
এদিকে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দল এখন নির্বাচনী প্রচারণায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্প নিজেই তাঁর প্রশাসনের নীতি ও কর্মসূচি জনগণের কাছে তুলে ধরছেন।
নিকি মিনাজকে ঘিরে আলোচনার পেছনে আরও কিছু ঘটনা রয়েছে। সম্প্রতি স্টিভেন চেউং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন, যেখানে তিনি নতুন প্রেস সেক্রেটারি পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেন। ওই পোস্টে নিকি মিনাজ মার্কিন পতাকা ও হাসির প্রতিক্রিয়া জানান। এতে তাঁকে ঘিরে জল্পনা আরও বাড়ে।
গত ২৫ অক্টোবর মিশিগানের পোর্ট হুরন শহরে ট্রাম্পের একটি নির্বাচনী প্রচারণায়ও দেখা যায় নিকি মিনাজকে। সেখানে তিনি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানান।
তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় নিকি মিনাজ এখনো পিছিয়ে রয়েছেন। পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার কলশি ও পলিমার্কেটের হিসাব অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের প্রধান উপপ্রেস সেক্রেটারি অ্যালেক্সা কেলি এ পদে নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনায় এগিয়ে আছেন। তাঁর সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ।
এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সিএনএনের বিশ্লেষক স্কট জেনিংস, হ্যারিসন ফিল্ডস, মার্গো মার্টিন, নাটালি হার্প, মরিয়া বার্টিরামো, এলিজাবেথ পিপকো ও বেন ফার্গুসন।
পূর্বাভাস বাজারে নিকি মিনাজের নিয়োগের সম্ভাবনা কলশিতে ৫ শতাংশ এবং পলিমার্কেটে ৩ শতাংশ দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প আগে মার্গো মার্টিনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ পদে স্থায়ী নিয়োগের সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা।












