ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওলেশকিতে বছরের পর বছর যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানোর পর অবশেষে সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছেন বহু বাসিন্দা। তাঁদের ভাষায়, দীর্ঘদিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ছিল যেন নরকে বসবাস করা।
শহরটির বাসিন্দা ওলহা বলেন, পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। তাই তাঁরা বুঝতে পারেন, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
চার বছর পর খেরসন অঞ্চলে প্রথমবারের মতো কয়েক দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির সুযোগ তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া মানবিক যুদ্ধবিরতির ফলে ওলেশকির বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
হাজারো মানুষ আটকে ছিলেন
ধারণা করা হচ্ছিল, ওলেশকি ও আশপাশের এলাকায় তখনো প্রায় ছয় হাজার মানুষ বসবাস করছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০০ শিশু। শহরটির ভেতরেই ছিলেন প্রায় এক হাজার ৭০০ বাসিন্দা।
শুক্রবার তাঁদের শহর ছাড়ার জন্য চার ঘণ্টার একটি সময়সীমা দেওয়া হয়। এ সময় প্রায় ৭৫০ জনকে সরিয়ে নিতে ২৫টি বাসের একটি বহর প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ছিল অ্যাম্বুলেন্সও।
রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকা পেরিয়ে দক্ষিণ রাশিয়ায় পৌঁছান উদ্ধার হওয়া বাসিন্দারা। সেখান থেকে বিমানে বেলারুশ যাওয়ার পর শনিবার বাসে করে তাঁদের ইউক্রেনের চেরনিহিভের একটি সামরিক স্থাপনায় নেওয়া হয়।
দুর্বল বৃদ্ধদের নিতে হয় স্ট্রেচারে
চেরনিহিভে পৌঁছানোর পর উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এরপর তাঁদের নিজ নিজ গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, খাদ্যসংকট ও কঠিন জীবনযাপনের প্রভাবে অনেকের শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। বিশেষ করে কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দাকে এতটাই অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় পাওয়া যায় যে তাঁদের স্ট্রেচারে করে বহন করতে হয়।
তবে সেখানে ছিল স্বজনদের সঙ্গে পুনর্মিলনের আবেগঘন মুহূর্তও। দীর্ঘ বিচ্ছেদ ও অনিশ্চয়তার পর পরিবারের সদস্যদের আবার কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।












