যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী আলিনা হাব্বা মিলডনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিচার বিভাগের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নিজের জন্য ৫ কোটি ডলারের একটি চুক্তি নিশ্চিত করাকে তিনি ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
শনিবার ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের মার-আ-লাগো ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করেছি, এটি সম্পূর্ণ আপত্তিকর ও চরম বাড়াবাড়ি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষের অভিযোগে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হওয়া ভেনেজুয়েলার ব্যাংকার হুলিও হেরেরা ভেলুতিনির পরিবারের সঙ্গে হাব্বা মিলডনের একটি বড় অঙ্কের চুক্তি হয়েছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে একটি সমঝোতার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগে ভেলুতিনির বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেলুতিনির পরিবার চার বছরের জন্য হাব্বা মিলডনকে ৫ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছিল। চুক্তিতে বছরে ১ কোটি ডলার এবং অতিরিক্ত বোনাস দেওয়ার কথা ছিল।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি হাব্বা মিলডনকে জানিয়েছিলেন, তিনি চান না তাঁকে এই অর্থ দেওয়া হোক। পুরো ঘটনাকে তিনি ‘ভয়াবহ’ বলেও অভিহিত করেন।
সরকারি দায়িত্বে থাকতেই চুক্তি
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে কনকর্ড পার্টনার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই হাব্বা মিলডন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করেন। প্রতিষ্ঠানটি ভেলুতিনির পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
চুক্তি করার সময় হাব্বা মিলডন নিউ জার্সির ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে এর আগেই আদালতের এক সিদ্ধান্তে তাঁকে মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।
তিনি ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। একই দিন তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি তিনি কনকর্ড পার্টনার্সে কাজ শুরু করার সময়ও ওই সরকারি পদে ছিলেন।
ভেলুতিনিকে ক্ষমা করেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ব্যাংকার হুলিও হেরেরা ভেলুতিনিকে প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতাবলে ক্ষমা করেন।
তবে হাব্বা মিলডন গত সপ্তাহে এসব অভিযোগের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কাউকে ক্ষমা করার বিনিময়ে তিনি কখনো অর্থ নেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা বিচার বিভাগের কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বৈঠকও হয়নি। কাউকে ক্ষমা করানোর জন্য তিনি কোনো কাজ করেননি বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।












