স্রোতেরা কালনাগিনী
স্রোতেরা কালনাগিনী স্বদেশ রায় ঘুটঘুটে অন্ধকার মাঝে মাঝে নামে কালিন্দির বুকে তখন নদীর জলের স্রোতেরা কালনাগিনী হয়— তাদের নিঃশ্বাসে নামে বিষ।
সাহিত্য বিভাগের খবর, প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ।
স্রোতেরা কালনাগিনী স্বদেশ রায় ঘুটঘুটে অন্ধকার মাঝে মাঝে নামে কালিন্দির বুকে তখন নদীর জলের স্রোতেরা কালনাগিনী হয়— তাদের নিঃশ্বাসে নামে বিষ।
সপ্তম পরিচ্ছেদ এমন সময় চুবুক কাছে এসে দাঁড়ালেন। বললুম, 'বসুন। চা খাবেন নাকি একটু?' 'সময় নেই। বরিস, যাবে নাকি আমার সঙ্গে? কও।'
হৈরব ও ভৈরব 'ঠিকোই, ঠিকোই, সাধ হইতো সবতেরে রানী কইরা রাখি, তর বউঠাইনে চাইলে তবে না স্যান, হ্যা যদি জাগা না দ্যায়!
নজরুল সেদিন কবির আগমনে বালুচরের কৃষাণ-পল্লীতে সাড়া পড়িয়া গেল। ওপাড়া হইতে আজগর ফকিরকে খবর দেওয় হইল, চর-কেষ্টপুরের মথুর ফকিরও আসিলেন।
সপ্তম পরিচ্ছেদ আমি বললুম, 'বাচ্চা বেদে, তুমি আমাদের সঙ্গে আসতে গেলে কেন? তোমার জাতভাইদের তো ফৌজে যোগ দিতে ডাকা হয় নি?'
হৈরব ও ভৈরব দলছুট তাতানো হাওয়া হৈরবের চারপাশে ঘুরপাক খায় কয়েকটা মড়মড়ে বৌনার পাতা খর্থর করে বাজনা তোলে।
নজরুল অল্পক্ষণ পরেই কবি ঘড়ি দেখিয়া বলিলেন, "আমাকে এখন হুগলি যেতে হবে।" আগাইয়া গিয়া বলিলাম, "আমি বহুদূর থেকে আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।"
সপ্তম পরিচ্ছেদ দিন দুই পরে বাচ্চা বেদে একটু ভালো বোধ করতে লাগল।
হৈরব ও ভৈরব হৈরব হাসে। যোগমায়ার এক চিলতে ছায়ার ছেঁডাপাটিতে একটু এগিয়ে ব'সে বলে, 'ফোটের বিষে আমার বলে দিশা আছিলো না, যেমুন ভূঁইয়ায় ভূঁইসা থুইছে, অহনে তুই কছকি আরাম, কিনা আরামখান!
নজরুল তাঁহার ভিতরে কবি এবং দেশপ্রেমিক এক সঙ্গে বাসা বাঁধিয়াছিল। আদর্শবাদী-নেতা এবং সাহিত্যিকের সমন্বয় সাধিত হইয়াছিল।
হৈরব ও ভৈরব 'মন অন্নময়, কি বুঝছস, অন্ন নাই তো মনই নাই; শ্যাষম্যাষ হ্যা অন্নেই ধরছে টান, তো মন পামু কই' কিছুক্ষণের জন্যে থামে হৈরব।
নজরুল কবি কিন্তু তাঁর জীবনে ইহাদের ভোলেন নাই। মাসিমাকে কবি একখানা সুন্দর শাড়ি উপহার দিয়াছিলেন।
পাতা ২০ / ১০৬ মোট ১,২৬৩টি লেখা