মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ডের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ‘নিউ বালেশ্বর’ বাসটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে প্রাইভেটকারটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে ফিরছিল।
পুলিশ জানায়, প্রাইভেটকারটি মিয়ামি রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেয়ে ঢাকার দিকে ফিরছিল। একপর্যায়ে গাড়িটি সড়কের বিপরীত পাশ দিয়ে কিছুটা পথ চলছিল। পরে ঢাকামুখী লেনে ফিরে আসার জন্য চালক ইউটার্ন নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক এ সময় চট্টগ্রামমুখী ‘নিউ বালেশ্বর’ বাসটির সঙ্গে প্রাইভেটকারটির সংঘর্ষ হয়।
অর্থাৎ, বাসটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে এবং প্রাইভেটকারটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার আগে প্রাইভেটকারটি সড়কের ভুল পাশে ছিল এবং ইউটার্ন নেওয়ার সময় চট্টগ্রামমুখী বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।
সংঘর্ষের পর বাসটি সড়কের মাঝের বিভাজকের ওপর উঠে উল্টে যায়। অন্যদিকে প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাইভেটকারের চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে পরে ভবেরচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। ফলে দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় চারজনে।
নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, নিহত চারজনই প্রাইভেটকারে ছিলেন।
অন্য আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ।












