এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নারী হকি দলের ঐতিহাসিক অভিষেকটা হলো কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে। আসরের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী চীনের কাছে ১৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।
আজ জাপানের কাকামিগাহারার গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে পুল ‘এ’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া বাংলাদেশ শুরুতে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানোর চেষ্টা করলেও চীন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি।
ম্যাচের প্রথম তিন মিনিট পর্যন্ত চীনের আক্রমণ ঠেকিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চীন প্রথম গোল করার পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে তারা।
প্রথম কোয়ার্টারেই চার গোল করে চীন। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আরও তিনবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠিয়ে বিরতিতে ৭-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এশিয়ান গেমসের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
বিরতির পরও চীনের আক্রমণের গতি কমেনি। দ্বিতীয়ার্ধে আরও ছয় গোল করে শেষ পর্যন্ত ১৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তারা।
বিশ্ব হকিতে চীনের অবস্থানও বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটির কঠিন হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে। চীন বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয়। তারা এশিয়ান গেমসের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে জিতেছে রৌপ্যপদক।
তবে ফল যতই একতরফা হোক, বাংলাদেশের জন্য জাপানের এই যাত্রার গুরুত্ব কমছে না। ইতিহাসে প্রথমবার এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ পাওয়া দলটি মাত্র পাঁচ মাস আগে সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করেছিল।
এপ্রিল মাসে জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে হংকংকে ২-১ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিকভাবে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ নারী হকি দল। সেটিই ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের প্রথম বড় অভিযাত্রা।
জাপানে যাওয়া বাংলাদেশের বেশির ভাগ খেলোয়াড় চীন থেকেই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তারা সেখানে জুনিয়র নারী এশিয়া কাপে অংশ নিয়েছিলেন। অধিনায়ক অর্পিতা পাল, গোলরক্ষক মোহুয়া ও হীমাদ্রী সুখ এবং ডিফেন্ডার নীলাদ্রি নীল, রিতু আক্তার ও নিনিসেন রাখাইন জাপানে দলের সঙ্গে যোগ দেন।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অবস্থান পড়েছে পুল ‘এ’-তে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে চীন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কাজাখস্তান ও চাইনিজ তাইপে।
চীনের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার দিয়ে শুরু হলেও টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সামনে আরও চারটি ম্যাচ রয়েছে। আগামীকাল দ্বিতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া, ২৫ সেপ্টেম্বর কাজাখস্তান এবং ২৭ সেপ্টেম্বর চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে খেলবে তারা।
চীনের কাছে ১৩ গোলের হার বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে কঠিন অভিজ্ঞতা। কিন্তু এশিয়ান গেমসে প্রথমবার পা রাখার যে ঐতিহাসিক অর্জন, সেটিই এখন বাংলাদেশের নারী হকির সামনে আরও বড় আন্তর্জাতিক পথচলার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।












