ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী জানিয়েছে, তারা পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্কে নতুন করে আরও কিছু এলাকা পুনর্দখল করেছে। ফলে যুদ্ধের ময়দানে একদিকে রুশ হামলা অব্যাহত থাকলেও অন্যদিকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টা অগ্রগতির দাবিও সামনে এসেছে।
সোমবারের এসব হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন জাতিসংঘে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের চেষ্টা চলছিল। গত এক সপ্তাহে যুদ্ধের অবসান নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ দেখা গেলেও মাঠপর্যায়ে সংঘাত থামেনি।
ইউক্রেনের থার্ড আর্মি কোর জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক অভিযানে পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক এলাকায় আরও ৫১ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করা হয়েছে। এতে সাম্প্রতিক অভিযানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর পুনর্দখল করা মোট এলাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭৬ বর্গকিলোমিটারে।
ইউক্রেনীয় বাহিনী আরও জানিয়েছে, রুশ প্রতিরক্ষা অবস্থানে হামলার জন্য সোভিয়েত আমলের বিটিআর-৬০ সাঁজোয়া যানকে রূপান্তর করে চালকবিহীন বিস্ফোরক যান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলভিত্তিক রোবটও হামলায় কাজে লাগানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতির দাবি করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী দোনেৎস্কের নোভোভোদিয়ানে এবং উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলের উলানোভে দখলে নিয়েছে। এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রুশ হামলায় ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। খারকিভে একটি নয়তলা আবাসিক ভবনে হামলায় ৩৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জন শিশু রয়েছে।
চেরনিহিভ অঞ্চলেও রুশ ড্রোন হামলায় চারজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় তিনটি অবকাঠামো স্থাপনায় আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাশিয়ার দাবি, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২৫৪টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত বা প্রতিহত করেছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট, যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চললেও রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই সামরিকভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। একদিকে বেসামরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে সামনের সারিতে নতুন করে ভূখণ্ড দখল ও পুনর্দখলের দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।












