মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ সেপ্টেম্বরের শেষে শুরু হওয়ার কথা ছিল। আগস্টের শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়ার তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ছয় মাসে ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেবে। এর বাইরে আরও ১০ হাজার কর্মী যাবেন শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে। কিন্তু মাসের শেষ দিনে এসেও মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এই অনিশ্চয়তার সুযোগ নিতে পারে দালাল চক্র, তাই এখন সতর্কতাই সবচেয়ে জরুরি।
এবারের নিয়োগ কাঠামো
মালয়েশিয়া এবার ২৫টি প্রধান রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করেছে। তাদের সঙ্গে থাকছে ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল। নিয়োগকর্তারা মালয়েশিয়ার অনলাইন ব্যবস্থা এফডব্লিউসিএমএসের মাধ্যমে পছন্দের এজেন্সি মনোনয়ন দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সহযোগী এজেন্সিগুলো কীভাবে চাহিদাপত্র নিয়ে কাজ করবে, তা ১৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার কাছে জানতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই প্রশ্নের জবাব আসেনি। আগের দফায় হাতে গোনা কিছু এজেন্সির কাছে নিয়োগ আটকে থাকায় খরচ বেড়েছিল বলে অভিযোগ আছে। এবারও তেমন চক্র তৈরির আশঙ্কা করছেন রিক্রুটিং খাতের সাবেক নেতাদের একাংশ। এর মধ্যেই কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কিছু চাহিদাপত্র সত্যায়ন শুরু হয়েছে, যার একটি মালয়েশিয়ার একটি সুপারমার্কেট চেইনের ২৮ কর্মীর।
এখন যা করবেন না
মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা পরিষ্কার: আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসার আগে কাউকে টাকা বা পাসপোর্ট দেওয়া যাবে না। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিয়ম ভাঙা এজেন্সির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার কথা বলেছেন। ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা আগে এলে আগে পাবেন বলে যাঁরা এখনই টাকা চাইছেন, তাঁদের এড়িয়ে চলুন। মুখের কথায় কোনো লেনদেন করবেন না। কেউ চাপ দিলে নিকটস্থ জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসে জানান।
এখনই যে প্রস্তুতি নেওয়া যায়
যে এজেন্সির মাধ্যমে যেতে চান, সেটির লাইসেন্স জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তালিকায় আছে কি না যাচাই করুন। চাহিদাপত্রে নিয়োগকর্তার নাম, কাজের ধরন ও বেতন লেখা আছে কি না দেখে নিন। প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য এজেন্সির কাছ থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন। বিএমইটিতে নিবন্ধন করুন, আর প্রতিটি লেনদেনের লিখিত রসিদ রাখুন।
খরচ নিয়ে বাস্তব ধারণা
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের দফায় একজন কর্মীর গড় খরচ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অথচ সরকার নির্ধারিত খরচ ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। এবার মোট ব্যয় ৬ লাখ টাকা ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ চালু হলে প্রবাসী আয়েও তার প্রভাব পড়বে, অথচ সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৮ দিনে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি নেমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশে। তবে ২ লাখ কর্মীর এই প্রক্রিয়ার প্রথম দৃশ্যমান ধাপ এখন পর্যন্ত একটি সুপারমার্কেট চেইনের ২৮ জনের চাহিদাপত্র। মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার না আসা পর্যন্ত পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।












