আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন দোকানিদের জন্য আরও সস্তা ও দ্রুত হচ্ছে। কিউআর স্ক্যান করে ক্রেতা দাম পরিশোধ করলে দোকানি সঙ্গে সঙ্গে টাকা পেয়ে যাবেন। আগে এই টাকা হাতে পেতে সময় লাগত। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এসব পরিবর্তনের কথা জানান।
খরচ কমছে যেভাবে
দোকানিদের কাছ থেকে নেওয়া ন্যূনতম মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) তুলে দেওয়া হয়েছে। কার্ড বা ওয়ালেট ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ ফিও শূন্য করা হয়েছে। উল্টো ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের মাধ্যমে হওয়া লেনদেনে প্রণোদনা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের ক্ষেত্রে দোকানির ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান পাবে দশমিক ১০ শতাংশ, আর গ্রাহকের ব্যাংক বা ওয়ালেট পাবে দশমিক ২০ শতাংশ।
তিন মাসে লেনদেন বেড়েছে কয়েক গুণ
১ জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানের আলাদা কিউআর বদলে একক বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপর থেকে লেনদেন দ্রুত বেড়েছে। জুনে দিনে গড়ে প্রায় এক লাখ কিউআর লেনদেন হতো। এখন তা দাঁড়িয়েছে দিনে সাড়ে তিন লাখে। দৈনিক লেনদেনের অঙ্ক ২৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। দেশজুড়ে প্রায় ৩৯ লাখ দোকান ও বিক্রয়কেন্দ্রে এখন বাংলা কিউআর আছে।
নভেম্বর থেকে নতুন সুবিধা
আগামী ১ নভেম্বর থেকে কিউআর কোড স্ক্যান করে বা কিউআরের ছবি আপলোড করে একজন আরেকজনকে টাকা পাঠাতে পারবেন। ভিন্ন ব্যাংক বা ভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকদের মধ্যেও এই লেনদেন চলবে।
টাকা আটকে গেলে
লেনদেন ব্যর্থ হলে টাকা তাৎক্ষণিক বা যত দ্রুত সম্ভব ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো সমস্যা হলে গ্রাহকেরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৩৬ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
নগদ টাকার খুচরা সংকট আর দোকানে দোকানে আলাদা কিউআরের ঝামেলা কমাতেই বাংলা কিউআর চালু হয়েছিল। টাকা সঙ্গে সঙ্গে হাতে পাওয়ায় এবার চায়ের দোকান থেকে মুদি দোকান পর্যন্ত ছোট দোকানিদের কিউআরে দাম নিতে আর দ্বিধা থাকার কথা নয়।












