কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রায় পাঁচ মাস ধরে আটকে আছে। একটি কোর্সের ৬০টির বেশি উত্তরপত্র খুঁজে না পাওয়ায় ফল প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এদিকে দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষাও স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারে মোট ছয়টি কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে পাঁচটি কোর্সের নম্বর পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হলেও ‘২১০৭’ নম্বর কোর্সের উত্তরপত্র না পাওয়ায় পুরো সেমিস্টারের ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
‘আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত’ নামের কোর্সটির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ২ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত। বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কোর্সটির উত্তরপত্রের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক ছিলেন ড. শাহাবুল আলম। তিনি ১১ মে উত্তরপত্রগুলো গ্রহণ করে মূল্যায়ন শেষে ২০ মে বিভাগে জমা দেন।
পরে বিভাগের কর্মচারী জাবেদ আলী ৬০টির বেশি উত্তরপত্রের একটি বান্ডিল বহিরাগত পরীক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমতাজ হোসাইনের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকেই উত্তরপত্রগুলোর আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উত্তরপত্র না পাওয়ার কারণে ফল প্রকাশ আটকে থাকায় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হচ্ছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা নেওয়ার সূচি ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর মাত্র দুই দিন আগে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে তা স্থগিত করা হয়।
এদিকে হারিয়ে যাওয়া উত্তরপত্রের নম্বর নির্ধারণে ইচ্ছামতো নম্বর দেওয়ার মাধ্যমে ফল তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল—এমন অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিভাগ।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছিল অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলামকে। তবে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক ড. শাহাবুল আলমকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়।
ড. শাহাবুল আলম জানান, তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শেষ করেছে এবং বুধবার বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তালুকদার লোকমান হাকিম বলেন, বিভাগ থেকে পরীক্ষা কমিটিকে জানানো হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট কোর্সের নম্বর সময়মতো জমা দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমতাজ হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সঙ্গেও বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফলে ৬০টির বেশি উত্তরপত্রের অবস্থান এবং ফল প্রকাশে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা স্পষ্ট হয়নি। দীর্ঘ সময় ফল আটকে থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।












