ঢাকার ধামরাইয়ে সাংবাদিকদের ডেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপির সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেছেন, রাজনৈতিক বিষয়ে বা বিএনপির বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ভাবে’ কিছু বলা হলে তিনি সাংবাদিকতা ‘শিখিয়ে দেবেন’। রবিবার ধামরাই পৌর শহরের আইঙ্গন এলাকায় তাঁর মালিকানাধীন চালকল ও কোল্ড স্টোরেজে ডেকে নেওয়া সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ ঘিরে সংবাদ প্রকাশের পর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর আগের দিন, শনিবার বালিথা এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন। এক পক্ষের লোকজন সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের অনুসারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন সুতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমিজুর রহমান রোমার অনুসারীরা।
সংঘর্ষের পর পাল্টাপাল্টি অবস্থান
সংঘর্ষের ঘটনায় রমিজুর রহমান রোমাকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর রোমা সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনকে সরাসরি তাঁর সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর রবিবার সাংবাদিকদের ডেকে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সংসদ সদস্য।
সংবাদ সম্মেলনে তমিজ উদ্দিন রমিজুর রহমান রোমাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রোমার বক্তব্যের কিছু অংশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকরা যথেষ্ট প্রশ্ন তোলেননি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে কড়া বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে তমিজ উদ্দিন বলেন, তিনি কারও শত্রু নন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে বিরোধে যেতে চান না। তবে তাঁর অভিযোগ, কিছু সাংবাদিক বিএনপির বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বক্তব্য বা সংবাদ প্রকাশ করছেন।
একপর্যায়ে তিনি বলেন, ধামরাইয়ের রাজনৈতিক বিষয়ে এবং বিএনপির বিপক্ষে ‘একটি উচ্চারণ’ অন্যায়ভাবে করা হলে সাংবাদিকতা ‘শিখিয়ে দেবেন’। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সাংবাদিক অর্থের বিনিময়ে এমন ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন, যাদের তিনি বিএনপির জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা কয়েক দফা স্লোগান দেন এবং কয়েকজনকে ‘দালাল’ বলে চিৎকার করেন।
রোমাকে ঘিরে এমপির অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে রমিজুর রহমান রোমার নাম সরাসরি না নিয়ে তমিজ উদ্দিন তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে রোমা আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল করেছেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন একজন ব্যক্তিকে কীভাবে বিএনপির লোক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
রোমার সম্পদ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। তাঁর দাবি, রোমার ট্রেড লাইসেন্স নেই, অথচ ঢাকায় ও ধামরাইয়ে তাঁর একাধিক বাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও সাংবাদিকদের অনুসন্ধান করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের ‘সম্মানের জায়গায়’ থাকার আহ্বান
তবে বক্তব্যের এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের সম্মান বজায় রাখার আহ্বানও জানান তমিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই ও বুঝে নেওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য, সংবাদমাধ্যমের ক্ষমতা তাঁর চেয়েও বেশি এবং তিনি সাংবাদিকদের সম্মান করেন।
তিনি সাংবাদিকদের তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করার সুযোগ রাখার কথাও বলেন। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংবাদে তথ্য ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি।
বিক্ষোভ ও লিখিত অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনের পর তমিজ উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, পৌর ছাত্রদল এবং ধামরাই সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেন। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ধামরাইয়ে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্ক ও সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন সামনে এসেছে। সংসদ সদস্যের বক্তব্যে একদিকে সংবাদ যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ‘সাংবাদিকতা শেখানোর’ হুমকির অভিযোগও তৈরি হয়েছে। ফলে ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের গণ্ডি ছাড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক চাপের প্রশ্নও সামনে এনেছে।
ধামরাইয়ে সাংবাদিকদের ডেকে বিএনপির সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংঘর্ষ, মামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে তৈরি এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর থাকবে।
ধামরাইয়ে সাংবাদিকদের ডেকে বিএনপির সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের বক্তব্যে ‘সাংবাদিকতা শেখানোর’ হুমকির অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, মামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সংবাদ প্রকাশ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।












