রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে প্লেগ নিয়ে কাজ করা একটি গবেষণাগারের ২৮ বছর বয়সী এক কর্মীর নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হলেও দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার কোনো ঝুঁকি নেই। তবে ওই নারীর নিউমোনিয়ার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরকুতস্কের সাইবেরিয়া ও ফার ইস্ট অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের কর্মী দারিয়া শিপিলোভা গত শুক্রবার মারা যান। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার মৃত্যুর কারণ নিউমোনিয়া হলেও কোন জীবাণু বা রোগের কারণে সেটি হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর প্রায় ২০০ জনকে সতর্কতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। রাশিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসপোট্রেবনাদজোর জানিয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশকে ইতোমধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, প্রায় ৫ হাজার পরীক্ষায় কোনো বিপজ্জনক জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, শিপিলোভা প্লেগসহ বিপজ্জনক সংক্রমণ নিয়ে কাজ করার কারণে টিকা নিয়েছিলেন। তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্লেগ শনাক্ত হয়নি।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে আরও তথ্য প্রয়োজন। ডব্লিউএইচওর মহামারি ও অতিমারি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেন, কোন কোন পরীক্ষা করা হয়েছে, কোন কোন জীবাণু খোঁজা হয়েছে এবং প্লেগ না হলে ওই কর্মীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—এসব তথ্য জানা প্রয়োজন।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসও রাশিয়ার কাছে আরও তথ্য চেয়েছেন। একই সঙ্গে সাইবেরিয়ায় নিউমোনিয়ার অনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে আরও একজন কর্মী অসুস্থ হওয়ার যে সংবাদ ছড়িয়েছে, সেটিও যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন অবশ্য সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচুর প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এর বড় অংশই ভুল তথ্য। পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা ডব্লিউএইচওকে সর্বশেষ তথ্য দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। ওই কর্মীর মৃত্যু কোনো জৈব অস্ত্রের কারণে হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তেমনটি মনে করা হচ্ছে না এবং বিষয়টি শিগগিরই জানা যাবে। তিনি আরও জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এ নিয়ে তার একটি ফোনালাপের পরিকল্পনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) পরিচালক এরিকা শোয়ার্টজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন হলে যাত্রীদের পরীক্ষা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি অত্যন্ত কম বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কোভিড-১৯ মহামারির পর অজানা কারণে নিউমোনিয়া বা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া শ্বাসতন্ত্রের রোগের খবর বিশ্বজুড়ে বাড়তি সতর্কতা তৈরি করে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিউমোনিয়ার সব ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ বিভিন্ন জীবাণু নিউমোনিয়ার কারণ হতে পারে; প্লেগও বিরল ক্ষেত্রে ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
সাইবেরিয়ার ঘটনাটির ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত প্লেগ শনাক্ত হয়নি। একই সঙ্গে দ্বিতীয় কোনো কর্মীর মৃত্যুর বিষয়েও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনির্ভরযোগ্য সংবাদে ছড়ানো দাবির বদলে পরীক্ষার ফল ও সরকারি স্বাস্থ্যতথ্যকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ডব্লিউএইচও বলছে, কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার আলোকে এমন ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির সামগ্রিক ঝুঁকি সম্পর্কে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা কঠিন।












