মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকের কোটা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে ২০ জনকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। তাঁদের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি। ৮ অক্টোবরের এই অভিযানে ২৬৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। প্রায় একই সময়ে ঢাকায় বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়া একটি চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। দুই দেশের দুটি ঘটনা একটি পুরোনো সত্য আবার মনে করিয়ে দেয়। বিদেশে কাজের স্বপ্ন দেখা মানুষেরাই সবচেয়ে সহজ শিকার।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখা দেশটির রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে মিলে অভিযানটি চালায়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিকে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবস্থাপক বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বাকিদের মধ্যে আছেন ছয়জন মালয়েশীয় নারী কর্মী এবং ১২ জন বিদেশি গ্রাহক। গ্রাহকদের নয়জন বাংলাদেশি পুরুষ ও তিনজন ইন্দোনেশীয় নারী। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠান শ্রমিক আনার কোটা অনুমোদন নিত। পরে সেই শ্রমিকদের মুনাফার বিনিময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করত। প্রতি শ্রমিকে চক্রটি ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত আয় করত বলে অভিযোগ। বাংলাদেশি পাসপোর্টের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের পাসপোর্টও জব্দ করা হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে তোলা বলে ধারণা করা ৬ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত নগদ অর্থও উদ্ধার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কয়েক বছরের মুনাফা কম দেখানোর অভিযোগও তদন্ত করছে রাজস্ব বোর্ড।
ঢাকার ঘটনাটি আরও কাছের। ৯ অক্টোবর সকালে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় একটি বিশেষ বাহিনী অভিযান চালায়। বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং সরকারি জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের অভিযোগের ভিত্তিতে গোপন তদন্তের পর এই অভিযান হয়। চক্রটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীদের লক্ষ্য করত। কম খরচে কাজের ভিসা আর পরীক্ষায় পাসের নিশ্চয়তা দিয়ে তারা ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিত। আটক ১২ জনের মধ্যে সাতজনকে সাত দিন থেকে তিন মাসের কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে জরিমানা করা হয়েছে। অথচ বোয়েসেল সরকারি ব্যবস্থায় বিনা খরচে কর্মী নিয়োগ করে। আর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি শুধু প্রশিক্ষণ দেয়, বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করে না।
প্রতারণা এড়াতে কয়েকটি নিয়ম মনে রাখা জরুরি। বিদেশে চাকরির প্রস্তাব এলে আগে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ওয়েবসাইটে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স যাচাই করুন। সরকারি নিয়োগের খবর শুধু সরকারি ওয়েবসাইট বা বিজ্ঞপ্তি থেকে নিন। কেউ পরীক্ষায় পাসের নিশ্চয়তা দিলে বা নগদে আগাম টাকা চাইলে সেটিই বড় সতর্কসংকেত। টাকা দিলে অবশ্যই রসিদ নিন। পাসপোর্ট কারও হাতে জমা রাখার আগে লিখিত চুক্তি দেখুন। বিদেশে পৌঁছে যদি দেখেন চুক্তির প্রতিষ্ঠানে কাজ নেই, দ্রুত দূতাবাসের শ্রম শাখায় যোগাযোগ করুন। কোটা জালিয়াতির শিকার শ্রমিক অনেক সময় নিজের অজান্তেই অবৈধ হয়ে পড়েন।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের বড় গন্তব্যগুলোর একটি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে অতীতে দেশটির শ্রমবাজার একাধিকবার বন্ধও হয়েছে। প্রতিটি জালিয়াতির ঘটনা ভবিষ্যতে বৈধ পথে যাওয়া কর্মীদের জন্যও দরজা সরু করে দেয়। জব্দ হওয়া ২৬৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্টের পেছনে আছে বহু পরিবারের স্বপ্ন আর ধারদেনা, তাই এই চক্রের পুরো জাল খুঁজে বের করার দায় দুই দেশেরই।












