প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকিকে দেশবিরোধী, অমানবিক ও জনগণের স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি দেওয়ার অর্থ দেশের মানুষকে অভুক্ত রাখার, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন সৃষ্টির হুমকি দেওয়া।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ‘জিয়া স্মৃতি পাঠাগার’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই অর্থের ওপর দেশের লাখ লাখ পরিবারের জীবনযাত্রা নির্ভরশীল। প্রবাসীদের আয় শুধু তাঁদের পরিবারের ভরণপোষণেই ভূমিকা রাখে না, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
তিনি বলেন, ‘রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি দিয়ে আপনারা দেশের মানুষকে অভুক্ত রাখার কথা বলছেন, দেশের উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন। জাতীয় অর্থনীতির একটি চালিকাশক্তি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এ কেমন রাজনীতি?’
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিদেশে বসবাসরত সব বাংলাদেশি কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক নন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক রয়েছেন। এমন অনেক প্রবাসীও আছেন, যাঁরা কখনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বন্ধ করার হুমকি দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘কোন কর্তৃত্ববলে আপনারা রেমিট্যান্স বন্ধ করবেন? এ বিষয়ে কোনো আইনি বিধান আছে, নাকি গোপনে কোনো অভিযান পরিচালনা করে তা বন্ধ করার পরিকল্পনা করছেন?’
বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, তারা কখনো জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। বরং রাষ্ট্রের স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি সব সময় রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামও। তিনি বলেন, দেশের হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সাহিত্য ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পুনরুদ্ধারে ছাত্রদলকে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ড জোরদার করতে হবে।
তিনি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য ছাত্রদলের প্রতি আহ্বান জানান।
জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন খাতের সংস্কারমূলক উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে আবদুস সালাম বলেন, বর্তমানে অনেকে সংস্কারের কথা বলছেন। তবে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর যেসব সংস্কার করেছিলেন, সেগুলোর সমতুল্য উদ্যোগ এখনো কেউ নিতে পারেননি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আবদুস সালাম আরও বলেন, শুরুতে রাজনীতিবিদ না হলেও জিয়াউর রহমান দেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন এবং সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা বিকাশে ভূমিকা রেখেছিলেন।
এ সময় তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, শেখ মুজিবুর রহমানও তাঁর মেয়ের মতো রাজনীতি নিষিদ্ধ করে রাজনীতিকে আড়ালে ঠেলে দিয়েছিলেন।












