পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোট। নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়া, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং প্রদেশটির গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে সিদ্ধান্তগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইসলামাবাদের পার্লামেন্ট ভবনে বিরোধী নেতাদের এক বৈঠকের পর প্রকাশিত ঘোষণায় এসব দাবি জানানো হয়। বৈঠকে নেতারা বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার চলমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট নিরসনে একতরফা সিদ্ধান্তের পরিবর্তে পারস্পরিক আলোচনা ও রাজনৈতিক সংলাপকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বৈঠকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান সরকারের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনা শেষ হওয়ার পরও সরকার অসাংবিধানিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
নির্বাচিত সরকার অপসারণের প্রতিবাদ
জাতীয় পরিষদে বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাইয়ের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলী খান, মাওলানা ফজলুর রহমান, পিটিআইয়ের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা এবং অন্যান্য বিরোধী নেতা ও আইনপ্রণেতা।
বৈঠকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিসহ পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানানো হয়। বিরোধী নেতাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ প্রদেশের জনগণের নির্বাচনী রায় ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সংবিধান ও আইনের শাসনের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানায় জোটটি। একই সঙ্গে গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণের রায়কে সম্মান জানানোর দাবি তোলা হয়।
বিরোধী নেতারা ১১ অক্টোবরকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে স্মরণ করার কথা জানান। তাঁদের মতে, নির্বাচিত সরকারকে অপসারণ এবং গভর্নরের শাসন জারির ঘটনা প্রদেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সংঘাত ও অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে একতরফা সিদ্ধান্তের বদলে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানায় বিরোধী জোট। তাদের মতে, প্রদেশটিতে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।
সংবিধান ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন রক্ষার অঙ্গীকার
বৈঠক শেষে বিরোধী নেতারা সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ার জনগণের সাংবিধানিক ও আর্থিক অধিকার রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।
তাঁরা মনে করেন, রাজনৈতিক সংকটের সমাধান চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের অধিকার রক্ষা এবং প্রদেশের নির্বাচনী রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
গভর্নরের শাসন প্রত্যাহার, নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেট পুনর্বহাল এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসন—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে পাকিস্তানের বিরোধী জোট তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।












