১১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

অং সান সু চি কি মারা গেছেন? তিন বছরের বেশি সময়েও রহস্য কাটেনি, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রনেতা অং সান সু চির অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না আসায় তাকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠছে।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে জনসমক্ষে নেই

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর অং সান সু চিকে আটক করা হয়। ২০২২ সালের শেষ দিকে তার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হলেও এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এরপর কেটে গেছে তিন বছরেরও বেশি সময়, কিন্তু তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পরিবারের উদ্বেগ, জীবিত থাকার প্রমাণের দাবি

অং সান সু চির ছেলে কিম এরিস বিভিন্ন দেশে সফর করে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে তার মায়ের জীবিত থাকার প্রমাণ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তার দাবি, সু চির আইনজীবীদেরও দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

Why Aung San Suu Kyi Mostly Ignores the Rakhine Crisis | Council on Foreign  Relations

গৃহবন্দি করার দাবি, তবু দেখা করার অনুমতি নেই

চলতি বছরের এপ্রিলে মিয়ানমারের সামরিক সরকার জানায়, সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় নেওয়া হয়েছে। তবে বিদেশি কূটনীতিকদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতেও তাকে দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হলেও ছবিটির সত্যতা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে।

স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য না থাকায় সু চির স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ আশঙ্কা করছেন তিনি গুরুতর অসুস্থ, আবার কেউ মনে করছেন তাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। এমনকি তিনি মারা গেছেন কি না, সেই প্রশ্নও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে।

আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত

আঞ্চলিক দেশগুলো এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সু চির নিরাপত্তা ও অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা মুক্তি দেওয়া হলে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা বাড়তে পারে।

Supporters of Myanmar's jailed leader Suu Kyi mark her 79th birthday with a  flower-themed protest

রাজনৈতিক বাস্তবতা আরও জটিল

অং সান সু চি এখনও মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের কাছে জনপ্রিয় নেতা। তবে তাকে মুক্তি দেওয়া হলে সামরিকবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। একই সময়ে কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠন তার অতীতের কিছু অবস্থানের সমালোচনাও করে আসছে।

রাজনৈতিক বন্দিদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ

মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন অভিযান চলছে। তাদের হিসাবে বর্তমানে ১৪ হাজার ৫১৭ জন রাজনৈতিক বন্দি আটক রয়েছেন। কারাগারগুলোর পরিবেশ, চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা এবং তীব্র গরম নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। চলতি বছরেই হেফাজতে ৬০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি থাকা এবং জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অং সান সু চি এখনও তার সমর্থকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে রয়েছেন। নানা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তার জন্মদিন পালন এবং তার নামে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন সমর্থকদের একটি অংশ।

অং সান সু চিকে ঘিরে রহস্য কবে কাটবে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। তবে তার অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

অং সান সু চি কি মারা গেছেন? তিন বছরের বেশি সময়েও রহস্য কাটেনি, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

০১:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রনেতা অং সান সু চির অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না আসায় তাকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠছে।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে জনসমক্ষে নেই

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর অং সান সু চিকে আটক করা হয়। ২০২২ সালের শেষ দিকে তার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হলেও এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এরপর কেটে গেছে তিন বছরেরও বেশি সময়, কিন্তু তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পরিবারের উদ্বেগ, জীবিত থাকার প্রমাণের দাবি

অং সান সু চির ছেলে কিম এরিস বিভিন্ন দেশে সফর করে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে তার মায়ের জীবিত থাকার প্রমাণ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তার দাবি, সু চির আইনজীবীদেরও দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

Why Aung San Suu Kyi Mostly Ignores the Rakhine Crisis | Council on Foreign  Relations

গৃহবন্দি করার দাবি, তবু দেখা করার অনুমতি নেই

চলতি বছরের এপ্রিলে মিয়ানমারের সামরিক সরকার জানায়, সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় নেওয়া হয়েছে। তবে বিদেশি কূটনীতিকদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতেও তাকে দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হলেও ছবিটির সত্যতা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে।

স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য না থাকায় সু চির স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ আশঙ্কা করছেন তিনি গুরুতর অসুস্থ, আবার কেউ মনে করছেন তাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। এমনকি তিনি মারা গেছেন কি না, সেই প্রশ্নও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে।

আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত

আঞ্চলিক দেশগুলো এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সু চির নিরাপত্তা ও অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা মুক্তি দেওয়া হলে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা বাড়তে পারে।

Supporters of Myanmar's jailed leader Suu Kyi mark her 79th birthday with a  flower-themed protest

রাজনৈতিক বাস্তবতা আরও জটিল

অং সান সু চি এখনও মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের কাছে জনপ্রিয় নেতা। তবে তাকে মুক্তি দেওয়া হলে সামরিকবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। একই সময়ে কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠন তার অতীতের কিছু অবস্থানের সমালোচনাও করে আসছে।

রাজনৈতিক বন্দিদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ

মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সামরিক অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন অভিযান চলছে। তাদের হিসাবে বর্তমানে ১৪ হাজার ৫১৭ জন রাজনৈতিক বন্দি আটক রয়েছেন। কারাগারগুলোর পরিবেশ, চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা এবং তীব্র গরম নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। চলতি বছরেই হেফাজতে ৬০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি থাকা এবং জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অং সান সু চি এখনও তার সমর্থকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে রয়েছেন। নানা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তার জন্মদিন পালন এবং তার নামে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন সমর্থকদের একটি অংশ।

অং সান সু চিকে ঘিরে রহস্য কবে কাটবে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। তবে তার অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালো হয়ে উঠছে।