০১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়, চাপে মূলধারার রাজনীতি নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলনের এক বছর, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না: কার্কি ‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া

সমুদ্রের নিচে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রজন্মের পানির নিচের ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। ‘অকাস’ নামে পরিচিত তিন দেশের সামরিক জোটের আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এ ঘোষণা দেন। তাদের মতে, মানববিহীন পানির নিচের যান প্রযুক্তি আগামী বছরের মধ্যেই ব্যবহারের উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রকাশ করা না হলেও যুক্তরাজ্য এ উদ্যোগে প্রায় ১৫ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করবে বলে জানানো হয়েছে।

সমুদ্রতলের অবকাঠামো রক্ষায় গুরুত্ব

নতুন প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হবে সমুদ্রতলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে যোগাযোগ ও তথ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে এই ড্রোন নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, রসদ পরিবহন এবং প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক অভিযানের কাজেও ব্যবহার করা যাবে।

তিন দেশের যৌথ অবস্থান অনুযায়ী, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত ব্যবস্থা যুক্ত করে এসব ড্রোনকে বহুমুখী সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে সক্ষম করে তোলা হবে।

অগ্রগতি নিয়ে সমালোচনার জবাব

অকাস জোট গঠনের পর থেকে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি নিয়ে সমালোচনা ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট নেতারা এবার দৃশ্যমান অগ্রগতির বার্তা দিয়েছেন।

তাদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা ও আলোচনা চললেও এখন বাস্তব প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে জোটটি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন ড্রোন প্রযুক্তিকে সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

চীনের প্রভাব ও কৌশলগত বাস্তবতা

২০২১ সালে গঠিত অকাস জোটের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন উন্নয়ন এবং সামরিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই জোটের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরসহ বিভিন্ন বিতর্কিত জলসীমায় উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জোটভুক্ত দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

উন্নত প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন অধ্যায়

অকাসের দ্বিতীয় স্তম্ভের অধীনে এটি প্রথম বড় প্রকল্প। এই কর্মসূচির আওতায় দীর্ঘপাল্লার অতিদ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র, পানির নিচের রোবট প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন উন্নত সক্ষমতা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে অংশীদার দেশগুলো।

নতুন ড্রোন প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন হলে সমুদ্রভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমুদ্রতলের যোগাযোগ অবকাঠামো সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা জোরদারে অকাস জোটের নতুন পানির নিচের ড্রোন প্রযুক্তি আগামী বছরেই প্রস্তুত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ

অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া

১০:২০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

সমুদ্রের নিচে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রজন্মের পানির নিচের ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। ‘অকাস’ নামে পরিচিত তিন দেশের সামরিক জোটের আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এ ঘোষণা দেন। তাদের মতে, মানববিহীন পানির নিচের যান প্রযুক্তি আগামী বছরের মধ্যেই ব্যবহারের উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রকাশ করা না হলেও যুক্তরাজ্য এ উদ্যোগে প্রায় ১৫ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করবে বলে জানানো হয়েছে।

সমুদ্রতলের অবকাঠামো রক্ষায় গুরুত্ব

নতুন প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হবে সমুদ্রতলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে যোগাযোগ ও তথ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে এই ড্রোন নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, রসদ পরিবহন এবং প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক অভিযানের কাজেও ব্যবহার করা যাবে।

তিন দেশের যৌথ অবস্থান অনুযায়ী, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত ব্যবস্থা যুক্ত করে এসব ড্রোনকে বহুমুখী সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে সক্ষম করে তোলা হবে।

অগ্রগতি নিয়ে সমালোচনার জবাব

অকাস জোট গঠনের পর থেকে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি নিয়ে সমালোচনা ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট নেতারা এবার দৃশ্যমান অগ্রগতির বার্তা দিয়েছেন।

তাদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা ও আলোচনা চললেও এখন বাস্তব প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে জোটটি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন ড্রোন প্রযুক্তিকে সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

চীনের প্রভাব ও কৌশলগত বাস্তবতা

২০২১ সালে গঠিত অকাস জোটের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন উন্নয়ন এবং সামরিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই জোটের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরসহ বিভিন্ন বিতর্কিত জলসীমায় উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জোটভুক্ত দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

উন্নত প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন অধ্যায়

অকাসের দ্বিতীয় স্তম্ভের অধীনে এটি প্রথম বড় প্রকল্প। এই কর্মসূচির আওতায় দীর্ঘপাল্লার অতিদ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র, পানির নিচের রোবট প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন উন্নত সক্ষমতা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে অংশীদার দেশগুলো।

নতুন ড্রোন প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন হলে সমুদ্রভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমুদ্রতলের যোগাযোগ অবকাঠামো সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা জোরদারে অকাস জোটের নতুন পানির নিচের ড্রোন প্রযুক্তি আগামী বছরেই প্রস্তুত হতে পারে।