“যেখানেই অবিচার, সেখানেই সর্বত্র ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি।”
ব্রিটিশ দার্শনিক ও মানবাধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের এই কথাটি আজও সমান প্রাসঙ্গিক। ইংল্যান্ডের বর্নমাউথ সমুদ্রতীরে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ অপরাধ আবারও এমন একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে, যার প্রভাব আদালতের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজ ও রাজনীতিতেও পৌঁছে যায়—একজন ব্যক্তির অপরাধ কখন একটি সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগে পরিণত হয়?
বর্নমাউথের ভয়াবহ ঘটনা
২০২৫ সালের ৬ জুলাই বর্নমাউথ সমুদ্রতীরের একটি জনসাধারণের শৌচাগারে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। অভিযুক্ত মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সিরিয়ার নাগরিক। তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করা হয়।
২০২৬ সালের ১৫ মে বর্নমাউথ ক্রাউন কোর্টের একটি জুরি তাকে ধর্ষণ ও অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। পরে ২১ আগস্ট তাকে ছয় বছর নয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে আজীবনের জন্য যৌন অপরাধীর নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এখানে অপরাধের ভয়াবহতা নিয়ে কোনো দ্বিধার অবকাশ নেই। ওই তরুণী তার শরীর, মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর এক ভয়ংকর আক্রমণের শিকার হয়েছেন। আবদুল্লাহ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন, জুরির রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং আইনের মাধ্যমে শাস্তি পেয়েছেন। শাস্তির মাত্রা যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু তার জাতীয়তা, জাতিগত পরিচয় কিংবা ধর্ম কোনোভাবেই তার অপরাধের গুরুত্ব কমাতে পারে না।
অপরাধ করেছেন তিনি। সেই অপরাধের দায়ও তারই।
কিন্তু ঘটনাটি যখন জনপরিসরে আসে, তখন আরেকটি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
শিরোনাম থেকে যে প্রশ্ন উঠে আসে
ঘটনার সংবাদে তাকে ‘সিরিয়ান কিশোর অভিবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার হামলা’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তথ্যগতভাবে তার সিরিয়ান নাগরিক হওয়ার বিষয়টি সত্য। তিনি ব্রিটেনে এসেছিলেনও। কিন্তু শব্দেরও প্রভাব রয়েছে।
প্রশ্ন হলো, তার জাতীয়তা কেন পাঠকের মনে অপরাধের বর্ণনার আগেই এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে?
অভিযুক্ত যদি একজন শ্বেতাঙ্গ ইংরেজ নাগরিক হতেন, তাহলে কি সংবাদ শিরোনামে তাকে ‘ব্রিটিশ খ্রিস্টান কিশোর’ বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো? নাকি সরাসরি অপরাধের কথাই বলা হতো?
জাতীয়তা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত পরিচয় কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হলে তা সংবাদে আসতেই পারে। তথ্য গোপন করাও সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য নয়। অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকারও সমাজের রয়েছে। সরকারকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, আগত ব্যক্তিদের যাচাই করতে হবে, আইন প্রয়োগ করতে হবে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সমাজে অভিবাসন, একীভূতকরণ, অপরাধ, সাংস্কৃতিক পার্থক্য এবং সরকারি নীতির ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হওয়াও স্বাভাবিক। প্রতিটি প্রশ্নকে বর্ণবাদ বলে উড়িয়ে দেওয়া যেমন বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দুর্বল, তেমনি রাজনৈতিকভাবেও বিপজ্জনক।
কিন্তু অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা আর একজন অপরাধীর অপরাধের দায় একই ধর্ম, জাতীয়তা বা গাত্রবর্ণের কোটি মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।
একজনের অপরাধ, একটি জনগোষ্ঠীর নয়
একজন সিরীয় নাগরিক ধর্ষণ করলেন। এরপর সেই অপরাধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে হাজির হলো। অভিবাসীরা মুসলমানদের সমার্থক হয়ে উঠল। মুসলমানরা পরিণত হলো একটি কথিত সভ্যতাগত হুমকিতে।
এরপর আলোচনাটি আর মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে শাস্তি দেওয়া নিয়ে থাকে না। প্রশ্ন দাঁড়ায়—মুসলমানদের আদৌ ব্রিটেনে থাকার অধিকার আছে কি না।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাউথপোর্টে তিন তরুণীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এমন পরিস্থিতিরই ভয়াবহ উদাহরণ দেখা গিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত মিথ্যা দাবি ছড়িয়ে পড়ে যে হামলাকারী একজন ইসলামপন্থী অভিবাসী। এর পরপরই ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর ও নগরে অভিবাসনবিরোধী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

মসজিদ, আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার জন্য ব্যবহৃত হোটেল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং শুধু বিদেশি বলে মনে হওয়া মানুষও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। প্রকৃত অপরাধীর পরিচয় ও অপরাধের প্রমাণ তখন অনেকটাই আড়ালে চলে যায়; সামনে চলে আসে তাকে ঘিরে তৈরি করা একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বয়ান।
পরবর্তী সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মুসলমানদের লক্ষ্য করে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধ ১৯ শতাংশ বেড়েছিল। সাউথপোর্টের হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী সহিংসতার পর এই বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য তীব্রতা দেখা যায়। ২০২৫ সালের মার্চে শেষ হওয়া এক বছরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মুসলমানদের লক্ষ্য করে ৪ হাজার ৪৭৮টি ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধ নথিভুক্ত হয়।
এই পরিসংখ্যানের অর্থ এই নয় যে ব্রিটেন হঠাৎ একটি অসহিষ্ণু সমাজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এগুলো দেখিয়ে দেয়, যখন ব্যক্তিগত অপরাধকে একটি পুরো সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তখন জনরোষ কত দ্রুত অপরাধীর কাছ থেকে নিরপরাধ মানুষের দিকে চলে যেতে পারে।
আর সেখানেই ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভ ধীরে ধীরে উগ্রতার রূপ নিতে শুরু করে।
উগ্রতার কোনো একক ধর্ম নেই
পশ্চিমা সমাজে উগ্রবাদ বা মৌলবাদ নিয়ে অনেক সময় এমনভাবে আলোচনা করা হয়, যেন এটি বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো রোগ—বিশেষত মুসলমান, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা তথাকথিত পশ্চাৎপদ ধর্মীয় সমাজের সমস্যা।
বাস্তবে উগ্রতার কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম নেই। এর কোনো স্থায়ী ভৌগোলিক ঠিকানাও নেই। এটি মূলত একটি মানসিক অবস্থান।
যখন নিশ্চিত বিশ্বাস যুক্তিকে ধ্বংস করে, যখন ব্যক্তিসত্তার ওপর গোষ্ঠীগত পরিচয় প্রাধান্য পায় এবং মানুষ কী করেছে তার বদলে সে কোন গোষ্ঠীতে জন্মেছে তার ভিত্তিতে বিচার করা হয়—তখনই উগ্রতার জন্ম হয়।
ইসলামপন্থী উগ্রবাদী যখন বলে পশ্চিমা সমাজ নৈতিকভাবে অধঃপতিত এবং ইসলামের শত্রু, তখন তার চিন্তার কাঠামো অনেকটাই একই রকম হয় সেই পশ্চিমা উগ্রবাদীর সঙ্গে, যে মনে করে মুসলমানরা স্বভাবগতভাবেই পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
পতাকা আলাদা। ভাষা আলাদা। কিন্তু মানসিক কাঠামোর মধ্যে আশ্চর্য রকমের মিল রয়েছে।
![]()
ঘৃণা ঘৃণাকেই শক্তিশালী করে
উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের সবচেয়ে খারাপ উদাহরণটিকে তুলে ধরে এবং সেটিকেই পুরো জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে উপস্থাপন করে। একজনের অপরাধ অন্যজনের ভয়কে সত্য প্রমাণ করার হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
ফলে সাধারণ মানুষ দুই ধরনের উগ্রতার মাঝখানে আটকে যায়।
ম্যানচেস্টারে রোগীদের চিকিৎসা করা একজন মুসলমান চিকিৎসক বর্নমাউথের ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেননি। লন্ডনের কোনো স্কুলে পড়া সিরীয় শিশুর আবদুল্লাহর অপরাধের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো পাকিস্তানি দোকানদার, আফগান প্রকৌশলী কিংবা হিজাব পরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অপরিচিত কোনো অপরাধীর কাজের জন্য দায়ী হতে পারেন না।
একজন খ্রিস্টান অপরাধ করলে যেমন পৃথিবীর সব খ্রিস্টানকে তার অপরাধের জন্য দায়ী করা যায় না, তেমনি একজন মুসলমান অপরাধ করলেও সব মুসলমান তার নৈতিক দায় বহন করবেন না।
ন্যায়বিচার ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে। পক্ষপাতদুষ্টতা গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে।
ভুক্তভোগীকেও রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো যাবে না
নিরপরাধ মুসলমানদের বিরুদ্ধে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মূল অপরাধের শিকার তরুণীর কথাও যেন আড়ালে চলে না যায়।
তিনিও কোনো রাজনৈতিক তর্কের হাতিয়ার নন। তাকে ধর্ষণ করা হয়নি অভিবাসননীতি ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য। আবার তার ওপর আক্রমণকে ইসলামবিদ্বেষের বিপদ তুলে ধরার রাজনৈতিক উপকরণও বানানো উচিত নয়।

তিনি একজন মানুষ। তিনি একটি ভয়াবহ অপরাধের শিকার। তার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কোনো পক্ষেরই তাকে নিজেদের যুক্তির অংশে পরিণত করার অধিকার নেই।
সম্ভবত এখানেই সমকালীন রাজনীতি মানবিকতার কাছে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের বিস্তার
আজ প্রতিটি বড় ট্র্যাজেডি খুব দ্রুত আগে থেকেই তৈরি কোনো রাজনৈতিক বয়ানের অংশ হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথ্য পুরোপুরি যাচাই হওয়ার আগেই ক্ষোভ ছড়িয়ে দেয়। প্রচণ্ড আবেগ ও উত্তেজনামূলক বিষয় বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। রাজনীতিকেরা অনেক সময় ভয়ের মধ্যে নির্বাচনী সুবিধা খুঁজে পান। আর চাঞ্চল্যকর শিরোনাম পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
এই পরিবেশে অপরাধী আর একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য খুব দ্রুত মুছে যেতে পারে।
পশ্চিমা গণতন্ত্রের উচিত এই প্রবণতা প্রতিহত করা। কারণ আইনের সামনে ব্যক্তির মর্যাদা ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা আধুনিক ন্যায়বিচারের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি।
একজন পুরুষ ধর্ষণ করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কোনো অভিবাসী তার বসবাসের শর্ত ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করতে হবে। অভিবাসন ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকলে তা সংস্কার করতে হবে। একীভূতকরণ নীতি ব্যর্থ হলে তা নিয়ে সৎভাবে বিতর্ক করতে হবে।
কিন্তু এসবের কোনোটিই একটি পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর অপরাধের সম্মিলিত দায় চাপানোর যুক্তি হতে পারে না।
অপরাধীর দায় অপরাধীর কাছেই থাকুক
নিরপরাধ মুসলমানদের প্রতিটি মুসলমান অপরাধীর কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বলা হলে পশ্চিমা সমাজ যে ন্যায়বিচারের নীতি রক্ষা করার দাবি করে, সেই নীতিই পরিত্যক্ত হয়।
আজ লক্ষ্য হতে পারে মুসলমানরা। আগামীকাল রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর অন্য কোনো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী সেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, একবার সম্মিলিত অপরাধের ধারণাকে বৈধতা দেওয়া হলে তার সীমা খুব কমই নির্দিষ্ট জায়গায় থেমে থাকে।
তাই বর্নমাউথের ঘটনাটিকে ঠিক যা, তা-ই থাকতে দেওয়া উচিত—এটি মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সংঘটিত একটি ভয়াবহ অপরাধ। তিনি সেই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং শাস্তি পেয়েছেন।
তার শিকার তরুণী আমাদের সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের দাবিদার। তার শাস্তি কার্যকর হওয়া উচিত। সমাজের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।
কিন্তু একই সঙ্গে লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষকে শুধু একই ধরনের নাম, একই গাত্রবর্ণ, একই ধর্মীয় উপাসনা কিংবা একই সভ্যতার অংশ বলে কোনো অপরাধীর সঙ্গে এক কাতারে দাঁড় করানো যায় না।
একটি সভ্যতা পুরো জনগোষ্ঠীর প্রতি অসহিষ্ণু হয়ে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। সভ্যতা নিজেকে রক্ষা করে তখনই, যখন অপরাধীর অপরাধ তার কাছেই থাকে, নিরপরাধ মানুষের নির্দোষিতা অক্ষুণ্ন থাকে এবং সময় যতই উত্তাল হোক, ন্যায়বিচার কখনো ব্যক্তিমানুষকে দেখতে ভুলে না যায়।
অপরাধীর দায় অপরাধীর। নিরপরাধের অধিকার নিরপরাধের। আর ন্যায়বিচারের প্রথম শর্ত হলো—এই দুটিকে কখনো এক করে না ফেলা।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে যেন আমরা নিজেরাই আরেকটি অন্যায়ের জন্ম না দিই।
অপরাধের কোনো ধর্ম নেই। অপরাধীর দায়ও কোনো ধর্মের হতে পারে না।
অপরাধকে ধর্ম, জাতীয়তা বা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের সঙ্গে না মিলিয়ে ব্যক্তির দায় হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তাই এই প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















