০৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার নিখোঁজ মহেশখালীতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, একাই ছিলেন বাড়িতে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের চার প্রবাসী নিহত কাঁঠাল পাতার বোঝা কাঁধে হালিমা, দিনে ৩০০ টাকায় চলে একার সংসার ১০ জেলায় বেশি হাম, টিকাদান কর্মসূচি নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেক কমাল সরকার সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় আহত ৭৩, নারী ও শিশুও রয়েছে ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তা ও হামলার অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ পুলিশের কাছে আগামী ৫ দিনে বাড়তে পারে বৃষ্টি, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর কুমিল্লায় শিক্ষাসফরের বাস খাদে, আহত ২০ মেডিকেল শিক্ষার্থী

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল, নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মিখাইলো দ্রাপাতি

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে মেজর জেনারেল মিখাইলো দ্রাপাতিকে নিয়োগ দিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটির সামরিক নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা

মাত্র ৪৩ বছর বয়সী দ্রাপাতিকে ইউক্রেনের নতুন প্রজন্মের সামরিক নেতৃত্বের অন্যতম মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্থলবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নিয়োগকে অনেকেই পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে দেখছেন।

এর আগে সেনাপ্রধানের দায়িত্বে থাকা ওলেক্সান্দর সিরস্কি যুদ্ধের শুরুতে রাজধানী কিয়েভ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্ব নিয়ে নানা সমালোচনা তৈরি হয়। কঠোর নেতৃত্বের ধরন এবং অতিরিক্ত সেনা ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছিল।

বিক্ষোভের পর সিদ্ধান্ত

New Commander-in-Chief Mykhailo Drapatyi and Minister Mykhailo Fedorov  react to major changes in Ukraine's military leadership. Newly appointed  Commander-in-Chief Major General Mykhailo Drapatyi expressed gratitude to  President Zelensky and the Defense ...

গত কয়েক দিনে সরকারের রদবদলকে ঘিরে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখা দেয়। অনেক বিক্ষোভকারী সামরিক ও প্রতিরক্ষা নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি জানান। সেই প্রেক্ষাপটেই সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে নতুন মুখ আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

দ্রাপাতি দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেন, দেশের জন্য লড়াই করা প্রতিটি মানুষের প্রতি সম্মান রেখে তিনি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন এবং পুরো মনোযোগ যুদ্ধ পরিচালনায় নিবদ্ধ রাখবেন।

যুদ্ধের কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ইউক্রেনের চাপ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দূরপাল্লার হামলা ও কৌশলগত পরিকল্পনাও নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী চালিয়ে যাওয়া হবে।

তার মতে, সামরিক অভিযান থেমে থাকবে না এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে 'দীর্ঘ' ফোনালাপ, এবার বৈঠক করতে ওয়াশিংটনে যাবেন  জেলেনস্কি - BBC News বাংলা

প্রতিরক্ষা নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা

সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা পরিবর্তনের সময় সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাকে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আগের পদেই ফিরে যেতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

এদিকে অন্তর্বর্তী প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইয়েভহেনি খমারাকে। যুদ্ধের পঞ্চম বছরে প্রবেশ করা ইউক্রেন এখন সামরিক নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন গতি ফিরে পাওয়ার আশা করছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, দেশের লক্ষ্য একটাই—যুদ্ধক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান ধরে রেখে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে শেষ পর্যন্ত শান্তির পথ উন্মুক্ত হয়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার নিখোঁজ

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল, নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মিখাইলো দ্রাপাতি

০১:০০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে মেজর জেনারেল মিখাইলো দ্রাপাতিকে নিয়োগ দিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটির সামরিক নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা

মাত্র ৪৩ বছর বয়সী দ্রাপাতিকে ইউক্রেনের নতুন প্রজন্মের সামরিক নেতৃত্বের অন্যতম মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্থলবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নিয়োগকে অনেকেই পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে দেখছেন।

এর আগে সেনাপ্রধানের দায়িত্বে থাকা ওলেক্সান্দর সিরস্কি যুদ্ধের শুরুতে রাজধানী কিয়েভ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্ব নিয়ে নানা সমালোচনা তৈরি হয়। কঠোর নেতৃত্বের ধরন এবং অতিরিক্ত সেনা ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছিল।

বিক্ষোভের পর সিদ্ধান্ত

New Commander-in-Chief Mykhailo Drapatyi and Minister Mykhailo Fedorov  react to major changes in Ukraine's military leadership. Newly appointed  Commander-in-Chief Major General Mykhailo Drapatyi expressed gratitude to  President Zelensky and the Defense ...

গত কয়েক দিনে সরকারের রদবদলকে ঘিরে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখা দেয়। অনেক বিক্ষোভকারী সামরিক ও প্রতিরক্ষা নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি জানান। সেই প্রেক্ষাপটেই সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে নতুন মুখ আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

দ্রাপাতি দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেন, দেশের জন্য লড়াই করা প্রতিটি মানুষের প্রতি সম্মান রেখে তিনি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন এবং পুরো মনোযোগ যুদ্ধ পরিচালনায় নিবদ্ধ রাখবেন।

যুদ্ধের কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ইউক্রেনের চাপ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দূরপাল্লার হামলা ও কৌশলগত পরিকল্পনাও নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী চালিয়ে যাওয়া হবে।

তার মতে, সামরিক অভিযান থেমে থাকবে না এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে 'দীর্ঘ' ফোনালাপ, এবার বৈঠক করতে ওয়াশিংটনে যাবেন  জেলেনস্কি - BBC News বাংলা

প্রতিরক্ষা নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা

সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা পরিবর্তনের সময় সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাকে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আগের পদেই ফিরে যেতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

এদিকে অন্তর্বর্তী প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইয়েভহেনি খমারাকে। যুদ্ধের পঞ্চম বছরে প্রবেশ করা ইউক্রেন এখন সামরিক নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন গতি ফিরে পাওয়ার আশা করছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, দেশের লক্ষ্য একটাই—যুদ্ধক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান ধরে রেখে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে শেষ পর্যন্ত শান্তির পথ উন্মুক্ত হয়।