০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ইনভিক্টাস গেমসের মাধ্যমে নতুন জীবন পাচ্ছেন আহত সেনারা: প্রিন্স হ্যারির স্বপ্ন আরও বড়

আফগানিস্তানে দ্বিতীয় যুদ্ধ মিশন শেষ করার কয়েক মাস পর একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় এমন একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যা আজ বিশ্বের বহু আহত সেনা ও সাবেক সামরিক সদস্যের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাচ্ছে।

প্রিন্স হ্যারির প্রতিষ্ঠিত ইনভিক্টাস গেমস এখন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং পুনরুদ্ধার, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন পরিচয় ফিরে পাওয়ার একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

নতুন লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আহত সেনা ও প্রবীণ যোদ্ধাদের জন্য আয়োজিত একটি ক্রীড়া আসর প্রত্যক্ষ করার পর হ্যারি উপলব্ধি করেন, খেলাধুলা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। তিনি দেখেছিলেন, শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া মানুষরা খেলাধুলার মাধ্যমে আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছেন।

সেই ভাবনা থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেন, যাতে বিভিন্ন দেশের আহত সামরিক সদস্যরা অংশ নিতে পারেন এবং একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শক্তি অর্জন করতে পারেন।

পরিচয় ফিরে পাওয়ার লড়াই

২০১৪ সালে লন্ডনে প্রথম ইনভিক্টাস গেমস অনুষ্ঠিত হয়। ১৩টি দেশের ৪০০-র বেশি সামরিক সদস্য ও প্রবীণ যোদ্ধা সেখানে অংশ নেন। এরপর থেকে এই আয়োজন ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে।

প্রিন্স হ্যারির মতে, সেনাবাহিনীর পোশাক ও দেশের পতাকা একজন সদস্যের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চাকরি বা দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর অনেকের মধ্যেই এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। ইনভিক্টাস গেমস সেই হারিয়ে যাওয়া পরিচয় ও উদ্দেশ্যকে আবার ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করছে।

Prince Harry launches Invictus Games in London

খেলাধুলার প্রতি আজীবন ভালোবাসা

হ্যারি নিজেও ছোটবেলায় পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলার প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতার বিষয় নয়; এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস, মানসিক শক্তি এবং সামাজিক সংযোগ গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম।

এই কারণেই তিনি ইনভিক্টাস গেমসকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চান। ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতার সময়সীমা এক সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে দুই সপ্তাহ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জীবন বদলে দেওয়ার অনুপ্রেরণা

হ্যারির মতে, ইনভিক্টাস গেমস শুধু জীবন পরিবর্তনই করছে না, অনেক ক্ষেত্রে জীবনও বাঁচাচ্ছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বহু মানুষ তাঁকে জানিয়েছেন যে এই উদ্যোগ না থাকলে তারা হয়তো জীবনের প্রতি আশা হারিয়ে ফেলতেন।

এই অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে এবং উদ্যোগটিকে সম্প্রসারণের শক্তি জোগায়।

আসছে নতুন আসর

আগামী গ্রীষ্মে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হবে ইনভিক্টাস গেমসের অষ্টম আসর। প্রায় ২৫টি দেশের ৫৫০ জনের মতো প্রতিযোগী এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এবারের আসরে নতুন তিনটি খেলা যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক ক্রীড়া, দৌড় ও নিশানাভেদের সমন্বিত প্রতিযোগিতা এবং পিকলবল। আয়োজকদের আশা, নতুন খেলাগুলো আরও বেশি অংশগ্রহণকারীকে আকৃষ্ট করবে এবং প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়াবে।

প্রিন্স হ্যারির বিশ্বাস, ইনভিক্টাস গেমসের সম্প্রদায়ের মধ্যে যে সহযোগিতা, সম্মান এবং পারস্পরিক সমর্থনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা বিশ্বের অন্য অনেক সমাজ ও সম্প্রদায়ের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ইনভিক্টাস গেমসের মাধ্যমে নতুন জীবন পাচ্ছেন আহত সেনারা: প্রিন্স হ্যারির স্বপ্ন আরও বড়

০৭:২০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

আফগানিস্তানে দ্বিতীয় যুদ্ধ মিশন শেষ করার কয়েক মাস পর একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় এমন একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যা আজ বিশ্বের বহু আহত সেনা ও সাবেক সামরিক সদস্যের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাচ্ছে।

প্রিন্স হ্যারির প্রতিষ্ঠিত ইনভিক্টাস গেমস এখন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং পুনরুদ্ধার, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন পরিচয় ফিরে পাওয়ার একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

নতুন লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আহত সেনা ও প্রবীণ যোদ্ধাদের জন্য আয়োজিত একটি ক্রীড়া আসর প্রত্যক্ষ করার পর হ্যারি উপলব্ধি করেন, খেলাধুলা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। তিনি দেখেছিলেন, শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া মানুষরা খেলাধুলার মাধ্যমে আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছেন।

সেই ভাবনা থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেন, যাতে বিভিন্ন দেশের আহত সামরিক সদস্যরা অংশ নিতে পারেন এবং একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শক্তি অর্জন করতে পারেন।

পরিচয় ফিরে পাওয়ার লড়াই

২০১৪ সালে লন্ডনে প্রথম ইনভিক্টাস গেমস অনুষ্ঠিত হয়। ১৩টি দেশের ৪০০-র বেশি সামরিক সদস্য ও প্রবীণ যোদ্ধা সেখানে অংশ নেন। এরপর থেকে এই আয়োজন ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে।

প্রিন্স হ্যারির মতে, সেনাবাহিনীর পোশাক ও দেশের পতাকা একজন সদস্যের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চাকরি বা দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর অনেকের মধ্যেই এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। ইনভিক্টাস গেমস সেই হারিয়ে যাওয়া পরিচয় ও উদ্দেশ্যকে আবার ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করছে।

Prince Harry launches Invictus Games in London

খেলাধুলার প্রতি আজীবন ভালোবাসা

হ্যারি নিজেও ছোটবেলায় পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলার প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতার বিষয় নয়; এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস, মানসিক শক্তি এবং সামাজিক সংযোগ গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম।

এই কারণেই তিনি ইনভিক্টাস গেমসকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চান। ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতার সময়সীমা এক সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে দুই সপ্তাহ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জীবন বদলে দেওয়ার অনুপ্রেরণা

হ্যারির মতে, ইনভিক্টাস গেমস শুধু জীবন পরিবর্তনই করছে না, অনেক ক্ষেত্রে জীবনও বাঁচাচ্ছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বহু মানুষ তাঁকে জানিয়েছেন যে এই উদ্যোগ না থাকলে তারা হয়তো জীবনের প্রতি আশা হারিয়ে ফেলতেন।

এই অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে এবং উদ্যোগটিকে সম্প্রসারণের শক্তি জোগায়।

আসছে নতুন আসর

আগামী গ্রীষ্মে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হবে ইনভিক্টাস গেমসের অষ্টম আসর। প্রায় ২৫টি দেশের ৫৫০ জনের মতো প্রতিযোগী এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এবারের আসরে নতুন তিনটি খেলা যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক ক্রীড়া, দৌড় ও নিশানাভেদের সমন্বিত প্রতিযোগিতা এবং পিকলবল। আয়োজকদের আশা, নতুন খেলাগুলো আরও বেশি অংশগ্রহণকারীকে আকৃষ্ট করবে এবং প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়াবে।

প্রিন্স হ্যারির বিশ্বাস, ইনভিক্টাস গেমসের সম্প্রদায়ের মধ্যে যে সহযোগিতা, সম্মান এবং পারস্পরিক সমর্থনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা বিশ্বের অন্য অনেক সমাজ ও সম্প্রদায়ের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।