০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ইন্দোনেশিয়ার কূটনৈতিক কৌশল: যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে, নাকি ভারসাম্যের খেলায় প্রাবোও?

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন—দেশটি কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ শিবিরে যাচ্ছে, নাকি পুরোনো ভারসাম্যের কৌশলই বজায় রাখছে? একদিকে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে অংশগ্রহণ—এই দ্বৈত অবস্থানই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

‘অ্যালায়েন্স’ শব্দে বিতর্ক, নীতিতে কি পরিবর্তন?
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তিতে একটি শব্দ সামনে আসে—‘অ্যালায়েন্স’। দীর্ঘদিন ধরে ইন্দোনেশিয়া এমন শব্দ এড়িয়ে চলেছে, কারণ এটি সরাসরি জোটের ইঙ্গিত দেয়। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটির পররাষ্ট্রনীতি “মুক্ত ও সক্রিয়” নীতির ওপর দাঁড়িয়ে, যেখানে সব বড় শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক জোটে জড়ানো হয় না।

এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ ‘অ্যালায়েন্স’ শব্দের ব্যবহার কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চুক্তিকে উপস্থাপন করার চেষ্টা, ইন্দোনেশিয়ার নিজস্ব অবস্থান নয়।

Proximity Without Leverage? Indonesia's Risky Bet on Trump's Board of Peace  | FULCRUM

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, নাকি কৌশলগত পরীক্ষা?
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এই শব্দ ব্যবহারের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকতে পারে। কারণ ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে এমন ভাষার পূর্ব নজির নেই। আবার অন্য বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, জাকার্তা হয়তো অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা যাচাই করছে, তবে তা জোটে রূপ দিতে চায় না।

যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়াকে ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে। সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের কাছে দেশটির গুরুত্ব বাড়ছে।

প্রাবোও সরকারের ভারসাম্যের রাজনীতি
প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সরকারের কিছু পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝোঁকার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে গাজা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব বেশ আলোচিত হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। ইন্দোনেশিয়ায় ফিলিস্তিনের প্রতি জনসমর্থন গভীর, ফলে যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ উদ্যোগে যুক্ত হওয়া রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রাবোও সুবিয়ান্তো - উইকিপিডিয়া

আঞ্চলিক বাস্তবতায় সতর্ক জাকার্তা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া জানে, প্রকাশ্যে কোনো পরাশক্তির পক্ষ নেওয়া তার নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করছে জাকার্তা।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ইন্দোনেশিয়া এখনো কোনো একক শিবিরে যোগ দেয়নি। বরং বিশ্ব রাজনীতির জটিল বাস্তবতায় নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে বহুমুখী কৌশলই অনুসরণ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ইন্দোনেশিয়ার কূটনৈতিক কৌশল: যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে, নাকি ভারসাম্যের খেলায় প্রাবোও?

০১:১০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন—দেশটি কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ শিবিরে যাচ্ছে, নাকি পুরোনো ভারসাম্যের কৌশলই বজায় রাখছে? একদিকে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে অংশগ্রহণ—এই দ্বৈত অবস্থানই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

‘অ্যালায়েন্স’ শব্দে বিতর্ক, নীতিতে কি পরিবর্তন?
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তিতে একটি শব্দ সামনে আসে—‘অ্যালায়েন্স’। দীর্ঘদিন ধরে ইন্দোনেশিয়া এমন শব্দ এড়িয়ে চলেছে, কারণ এটি সরাসরি জোটের ইঙ্গিত দেয়। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটির পররাষ্ট্রনীতি “মুক্ত ও সক্রিয়” নীতির ওপর দাঁড়িয়ে, যেখানে সব বড় শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক জোটে জড়ানো হয় না।

এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ ‘অ্যালায়েন্স’ শব্দের ব্যবহার কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চুক্তিকে উপস্থাপন করার চেষ্টা, ইন্দোনেশিয়ার নিজস্ব অবস্থান নয়।

Proximity Without Leverage? Indonesia's Risky Bet on Trump's Board of Peace  | FULCRUM

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, নাকি কৌশলগত পরীক্ষা?
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এই শব্দ ব্যবহারের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকতে পারে। কারণ ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে এমন ভাষার পূর্ব নজির নেই। আবার অন্য বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, জাকার্তা হয়তো অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা যাচাই করছে, তবে তা জোটে রূপ দিতে চায় না।

যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়াকে ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে। সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের কাছে দেশটির গুরুত্ব বাড়ছে।

প্রাবোও সরকারের ভারসাম্যের রাজনীতি
প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সরকারের কিছু পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝোঁকার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে গাজা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব বেশ আলোচিত হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। ইন্দোনেশিয়ায় ফিলিস্তিনের প্রতি জনসমর্থন গভীর, ফলে যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ উদ্যোগে যুক্ত হওয়া রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রাবোও সুবিয়ান্তো - উইকিপিডিয়া

আঞ্চলিক বাস্তবতায় সতর্ক জাকার্তা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া জানে, প্রকাশ্যে কোনো পরাশক্তির পক্ষ নেওয়া তার নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করছে জাকার্তা।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ইন্দোনেশিয়া এখনো কোনো একক শিবিরে যোগ দেয়নি। বরং বিশ্ব রাজনীতির জটিল বাস্তবতায় নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে বহুমুখী কৌশলই অনুসরণ করছে।