০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ইমরান খানকে সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের অভিযোগ, ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক বার্তা ঘিরে তোলপাড়

  • Sarakhon Report
  • ০৭:০১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • 68

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফাঁস হওয়া একটি গোপন কূটনৈতিক বার্তাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর দিনই ইমরান খানের মস্কো সফরে ক্ষুব্ধ হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে ওঠে।

গোপন বার্তায় কী বলা হয়েছে

ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক বার্তাটি পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খানের পাঠানো বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, তিনি ২০২২ সালের ৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেই বৈঠকে ইমরান খানের রাশিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মন্তব্য করা হয়। একই সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে সম্পর্কের টানাপোড়েন দ্রুত কমে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

বার্তায় আরও দাবি করা হয়, অনাস্থা ভোট সফল না হলে ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তা।

Did United States Push Imran Khan Out? Leaked Cable Stuns Pakistan

অনাস্থা ভোট ও রাজনৈতিক পরিবর্তন

২০২২ সালের ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা হারান ইমরান খান। সেই সময় থেকেই তিনি অভিযোগ করে আসছিলেন, বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে সরানো হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ফাঁস হওয়া এই বার্তা নতুন করে সেই বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রকাশিত নথির সত্যতা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আফগানিস্তান ইস্যুতেও ইমরান খানের অবস্থানে অসন্তুষ্ট ছিল ওয়াশিংটন। বিশেষ করে পাকিস্তানের ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে মতবিরোধ দুই দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করেছিল।

ইমরান খানের বিদায়ের পর ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক কিছুটা উন্নত হলেও পরে আবার নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়। পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগও তখন আলোচনায় আসে।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পাকিস্তানকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার বক্তব্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও উঠে আসে। পরে সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার স্থলাভিষিক্ত হন আসিম মুনির।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ইমরান খানকে সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের অভিযোগ, ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক বার্তা ঘিরে তোলপাড়

০৭:০১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফাঁস হওয়া একটি গোপন কূটনৈতিক বার্তাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর দিনই ইমরান খানের মস্কো সফরে ক্ষুব্ধ হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে ওঠে।

গোপন বার্তায় কী বলা হয়েছে

ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক বার্তাটি পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খানের পাঠানো বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, তিনি ২০২২ সালের ৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেই বৈঠকে ইমরান খানের রাশিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মন্তব্য করা হয়। একই সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে সম্পর্কের টানাপোড়েন দ্রুত কমে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

বার্তায় আরও দাবি করা হয়, অনাস্থা ভোট সফল না হলে ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তা।

Did United States Push Imran Khan Out? Leaked Cable Stuns Pakistan

অনাস্থা ভোট ও রাজনৈতিক পরিবর্তন

২০২২ সালের ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা হারান ইমরান খান। সেই সময় থেকেই তিনি অভিযোগ করে আসছিলেন, বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে সরানো হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ফাঁস হওয়া এই বার্তা নতুন করে সেই বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রকাশিত নথির সত্যতা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আফগানিস্তান ইস্যুতেও ইমরান খানের অবস্থানে অসন্তুষ্ট ছিল ওয়াশিংটন। বিশেষ করে পাকিস্তানের ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে মতবিরোধ দুই দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করেছিল।

ইমরান খানের বিদায়ের পর ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক কিছুটা উন্নত হলেও পরে আবার নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়। পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগও তখন আলোচনায় আসে।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পাকিস্তানকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার বক্তব্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও উঠে আসে। পরে সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার স্থলাভিষিক্ত হন আসিম মুনির।