০৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উর্বা হোসাইনের অভিনয়ে মুগ্ধ পাকিস্তানের তারকারা পাকিস্তানে বৃষ্টির পূর্বাভাস নিয়ে প্রশ্ন, সময়মতো সতর্কতা না পেয়ে ঝরে যাচ্ছে প্রাণ জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে ডানপন্থীদের উত্থান, বড় ধাক্কা মের্জের জন্য পদবির আড়ালে যখন নাগরিকত্বের বিচার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তারকাদের চোখধাঁধানো সাজ হিমবাহ বাঁচাতে এবার ভেড়ার উল! ফ্লাইট বদলের ব্যস্ততায় আর না খেয়ে থাকতে হবে না যাত্রীদের জন্য ইউনাইটেডের নতুন সুবিধা মিয়ামি বিমানবন্দরে কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫; জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয় চীনের যুদ্ধক্ষেত্রে আসছে মানবসদৃশ রোবট, বদলে যেতে পারে ভবিষ্যতের যুদ্ধ পোর্টসমাউথে অভিবাসীবাহী নৌকা ঘিরে পুলিশের সঙ্গে শত শত বিক্ষোভকারীর সংঘর্ষ

ইরান উত্তেজনায় রেকর্ড দরপতন, চার দশকের সর্বনিম্ন অবস্থানে জাপানের ইয়েন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জাপানের মুদ্রা ইয়েন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। এক ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার ১৬৩-এর ঘরে পৌঁছেছে, যা ১৯৮৬ সালের পর সর্বনিম্ন।

নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলারের চাহিদা

বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ডলারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি সেই প্রবণতাকেই আরও জোরালো করেছে। ফলে ইয়েনের ওপর বিক্রির চাপ বেড়েছে এবং এর মান দ্রুত কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের অর্থনীতি জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানির ব্যয় মেটাতে বেশি ডলার কিনতে হয়, যা ইয়েনকে আরও দুর্বল করে তোলে।

তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

Yen falls to 39-year low of 163 per dollar on Iran tensions, Takaichi plan  - Nikkei Asia

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, আর পশ্চিম টেক্সাস তেলের দাম ৮৫ ডলারের বেশি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়ায় বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব শুধু তেলের বাজারেই নয়, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

জাপানের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ

জাপানের সর্বশেষ বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ উচ্চ দামে অপরিশোধিত তেল আমদানি। জ্বালানির জন্য অতিরিক্ত ডলার ব্যয় করতে হওয়ায় ইয়েনের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশাও ডলারের শক্তি বাড়িয়েছে। একই সময়ে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধির গতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সরকারের নীতিতেও বাজারের নজর

Japan's Katayama Says Ready to Take Action on Forex at Any Time - Bloomberg

জাপান সরকারের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক নীতির ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, দুর্বল ইয়েন নিয়ে সরকার তুলনামূলকভাবে সহনশীল অবস্থানে রয়েছে। যদিও চূড়ান্ত নীতিপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে, তবুও বাজারে ইয়েনের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ কমেনি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এমন অবস্থায় রয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রার স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা

ইয়েনের দ্রুত দরপতনের কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সরকারি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। জাপানের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় বাজারে উপযুক্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, হস্তক্ষেপের আশঙ্কা থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি পরিবর্তন না হলে ইয়েনের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সরকার সরাসরি বাজারে নামলে ইয়েনের দামে হঠাৎ বড় ধরনের পুনরুদ্ধারও দেখা যেতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

উর্বা হোসাইনের অভিনয়ে মুগ্ধ পাকিস্তানের তারকারা

ইরান উত্তেজনায় রেকর্ড দরপতন, চার দশকের সর্বনিম্ন অবস্থানে জাপানের ইয়েন

০২:৩০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জাপানের মুদ্রা ইয়েন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। এক ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার ১৬৩-এর ঘরে পৌঁছেছে, যা ১৯৮৬ সালের পর সর্বনিম্ন।

নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলারের চাহিদা

বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ডলারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি সেই প্রবণতাকেই আরও জোরালো করেছে। ফলে ইয়েনের ওপর বিক্রির চাপ বেড়েছে এবং এর মান দ্রুত কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের অর্থনীতি জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানির ব্যয় মেটাতে বেশি ডলার কিনতে হয়, যা ইয়েনকে আরও দুর্বল করে তোলে।

তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

Yen falls to 39-year low of 163 per dollar on Iran tensions, Takaichi plan  - Nikkei Asia

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, আর পশ্চিম টেক্সাস তেলের দাম ৮৫ ডলারের বেশি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়ায় বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব শুধু তেলের বাজারেই নয়, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

জাপানের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ

জাপানের সর্বশেষ বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ উচ্চ দামে অপরিশোধিত তেল আমদানি। জ্বালানির জন্য অতিরিক্ত ডলার ব্যয় করতে হওয়ায় ইয়েনের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশাও ডলারের শক্তি বাড়িয়েছে। একই সময়ে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধির গতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সরকারের নীতিতেও বাজারের নজর

Japan's Katayama Says Ready to Take Action on Forex at Any Time - Bloomberg

জাপান সরকারের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক নীতির ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, দুর্বল ইয়েন নিয়ে সরকার তুলনামূলকভাবে সহনশীল অবস্থানে রয়েছে। যদিও চূড়ান্ত নীতিপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে, তবুও বাজারে ইয়েনের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ কমেনি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এমন অবস্থায় রয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রার স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা

ইয়েনের দ্রুত দরপতনের কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সরকারি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। জাপানের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় বাজারে উপযুক্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, হস্তক্ষেপের আশঙ্কা থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি পরিবর্তন না হলে ইয়েনের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সরকার সরাসরি বাজারে নামলে ইয়েনের দামে হঠাৎ বড় ধরনের পুনরুদ্ধারও দেখা যেতে পারে।