০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ইরান যুদ্ধের এক মাসে ট্রাম্পের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত, বিশ্ব জ্বালানি সংকটে নতুন চাপ

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নাকি সমঝোতার পথে সরে আসা—এই দুইয়ের মাঝে আটকে গেছে তার কৌশল, আর এর প্রভাব পড়ছে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে।

যুদ্ধের বিস্তার ও বৈশ্বিক প্রভাব

ইরানের পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ এই পথ দিয়ে যায়, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র ধাক্কা লেগেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জ্বালানি সংকট এখন ইতিহাসের ৩ বৃহত্তম সংকটের সম্মিলিত আকারের চেয়েও বড়

ট্রাম্পের দ্বিধা: সমঝোতা নাকি সংঘাত

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ট্রাম্প একদিকে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চান, অন্যদিকে প্রয়োজন হলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকিও দিচ্ছেন। তিনি ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার কথা বললেও বাস্তবে পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তেহরান এই প্রস্তাবকে অবাস্তব ও একপেশে বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে কূটনৈতিক পথও এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।

One month into Iran war, only hard choices for Trump | The Canberra Times |  Canberra, ACT

সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে এবং প্রয়োজন হলে আরও বড় আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে স্থল বাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে দেশে ও মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় আকারের সামরিক অভিযান যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ দিতে পারে, যা ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

অভ্যন্তরীণ চাপ ও রাজনৈতিক ঝুঁকি

যুদ্ধের প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও চাপ তৈরি করছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থন কমে গেছে এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে ৩৬ শতাংশে।

উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকলে আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

কূটনীতির জটিলতা ও অনিশ্চয়তা

কূটনৈতিক আলোচনায় সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে পারস্পরিক অবিশ্বাস। অতীতের অভিজ্ঞতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দিহান। এছাড়া সাম্প্রতিক হামলায় নিহত নেতাদের জায়গায় আরও কঠোর অবস্থানের নেতৃত্ব আসায় আলোচনার পথ আরও কঠিন হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মনে করছে যুদ্ধ টিকে থাকলেই তারা বিজয় দাবি করতে পারবে, তাই দ্রুত সমঝোতায় আগ্রহ কম।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প একদিকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নরম বার্তা দিচ্ছেন, আবার অন্যদিকে কঠোর সামরিক হুমকিও দিচ্ছেন। এই দ্বৈত অবস্থান বিশ্বকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধের শেষ কোথায় এবং কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে যেকোনো সিদ্ধান্তই হবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং তার প্রভাব পড়বে বিশ্বব্যাপী।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ইরান যুদ্ধের এক মাসে ট্রাম্পের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত, বিশ্ব জ্বালানি সংকটে নতুন চাপ

১১:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নাকি সমঝোতার পথে সরে আসা—এই দুইয়ের মাঝে আটকে গেছে তার কৌশল, আর এর প্রভাব পড়ছে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে।

যুদ্ধের বিস্তার ও বৈশ্বিক প্রভাব

ইরানের পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ এই পথ দিয়ে যায়, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র ধাক্কা লেগেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জ্বালানি সংকট এখন ইতিহাসের ৩ বৃহত্তম সংকটের সম্মিলিত আকারের চেয়েও বড়

ট্রাম্পের দ্বিধা: সমঝোতা নাকি সংঘাত

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ট্রাম্প একদিকে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চান, অন্যদিকে প্রয়োজন হলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকিও দিচ্ছেন। তিনি ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার কথা বললেও বাস্তবে পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তেহরান এই প্রস্তাবকে অবাস্তব ও একপেশে বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে কূটনৈতিক পথও এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।

One month into Iran war, only hard choices for Trump | The Canberra Times |  Canberra, ACT

সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে এবং প্রয়োজন হলে আরও বড় আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে স্থল বাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে দেশে ও মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় আকারের সামরিক অভিযান যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ দিতে পারে, যা ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

অভ্যন্তরীণ চাপ ও রাজনৈতিক ঝুঁকি

যুদ্ধের প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও চাপ তৈরি করছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থন কমে গেছে এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে ৩৬ শতাংশে।

উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকলে আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

কূটনীতির জটিলতা ও অনিশ্চয়তা

কূটনৈতিক আলোচনায় সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে পারস্পরিক অবিশ্বাস। অতীতের অভিজ্ঞতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দিহান। এছাড়া সাম্প্রতিক হামলায় নিহত নেতাদের জায়গায় আরও কঠোর অবস্থানের নেতৃত্ব আসায় আলোচনার পথ আরও কঠিন হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মনে করছে যুদ্ধ টিকে থাকলেই তারা বিজয় দাবি করতে পারবে, তাই দ্রুত সমঝোতায় আগ্রহ কম।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প একদিকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নরম বার্তা দিচ্ছেন, আবার অন্যদিকে কঠোর সামরিক হুমকিও দিচ্ছেন। এই দ্বৈত অবস্থান বিশ্বকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধের শেষ কোথায় এবং কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে যেকোনো সিদ্ধান্তই হবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং তার প্রভাব পড়বে বিশ্বব্যাপী।