০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় তেলের দাম উর্ধ্বমুখী, ধস নামল এশিয়ার বিমান সংস্থার শেয়ারে—বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ খাতে অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ তীব্র হওয়ার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ লাফিয়ে ওঠায় বড় ধাক্কা খেয়েছে এশিয়ার বিমান সংস্থাগুলো। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশপথে চলাচলের ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থার শেয়ারে বড় পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার যাত্রী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে বের হতে হিমশিম খাচ্ছেন।

তেলের দামে বড় উল্লম্ফন

সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। ফলে তেলের মূল্য পৌঁছে যায় প্রায় চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যা শেষবার দেখা গিয়েছিল ২০২২ সালের জুলাইয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

বিমান সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে জ্বালানি খরচ শ্রম ব্যয়ের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যয়। সাধারণত মোট পরিচালন ব্যয়ের এক-পঞ্চমাংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত জ্বালানি ব্যয় হয়ে থাকে। ফলে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোর ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়ে গেছে।

A Qantas logo is visible on the tail of an aeroplane at an airport in Sydney

বিমান সংস্থার শেয়ারে ধস

যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়েছে শেয়ারবাজারেও। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের বেশ কয়েকটি বড় বিমান সংস্থার শেয়ারের দাম একদিনেই চার থেকে দশ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

ভারতের দুটি বড় বিমান সংস্থার শেয়ারেও বড় পতন দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়া এবং আকাশপথ সীমিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ সংকট

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ আকাশপথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় অনেক বিমানকে বিকল্প দীর্ঘ রুটে উড়তে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি ব্যয় দুটোই বাড়ছে।

Airline shares battered as oil prices spike, Iran war intensifies | Reuters

অনেক যাত্রী শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে ছুটে গিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ স্থলপথে অন্য দেশে গিয়ে সেখান থেকে বিমান ধরছেন। সীমিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের কারণে অনেকেই ব্যক্তিগত বিমানের দিকে ঝুঁকছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে আসা-যাওয়া করা ৩৭ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

বৈশ্বিক ভ্রমণপথে চাপ

বিশ্বের ইউরোপ থেকে এশিয়ায় যাত্রী পরিবহনের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি বড় বিমান সংস্থার মাধ্যমে হয়ে থাকে। ফলে এই অঞ্চলের আকাশপথে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক ভ্রমণ নেটওয়ার্কেও বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে অনেক বিমান সংস্থাকে দীর্ঘ রুটে উড়তে অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করতে হচ্ছে বা মাঝপথে জ্বালানি ভরার জন্য অতিরিক্ত বিরতি নিতে হচ্ছে।

Iran war spells danger for global airlines - Yahoo News Singapore

পাইলটদের ওপর মানসিক চাপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন, আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতের কারণে আকাশপথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে সামরিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি বাড়ায় পাইলটদের ওপর মানসিক চাপও বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল খাত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় তেলের দাম উর্ধ্বমুখী, ধস নামল এশিয়ার বিমান সংস্থার শেয়ারে—বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ খাতে অস্থিরতা

০৪:১০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ তীব্র হওয়ার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ লাফিয়ে ওঠায় বড় ধাক্কা খেয়েছে এশিয়ার বিমান সংস্থাগুলো। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশপথে চলাচলের ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থার শেয়ারে বড় পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার যাত্রী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে বের হতে হিমশিম খাচ্ছেন।

তেলের দামে বড় উল্লম্ফন

সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। ফলে তেলের মূল্য পৌঁছে যায় প্রায় চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যা শেষবার দেখা গিয়েছিল ২০২২ সালের জুলাইয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

বিমান সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে জ্বালানি খরচ শ্রম ব্যয়ের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যয়। সাধারণত মোট পরিচালন ব্যয়ের এক-পঞ্চমাংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত জ্বালানি ব্যয় হয়ে থাকে। ফলে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোর ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়ে গেছে।

A Qantas logo is visible on the tail of an aeroplane at an airport in Sydney

বিমান সংস্থার শেয়ারে ধস

যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়েছে শেয়ারবাজারেও। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের বেশ কয়েকটি বড় বিমান সংস্থার শেয়ারের দাম একদিনেই চার থেকে দশ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

ভারতের দুটি বড় বিমান সংস্থার শেয়ারেও বড় পতন দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়া এবং আকাশপথ সীমিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ সংকট

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ আকাশপথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় অনেক বিমানকে বিকল্প দীর্ঘ রুটে উড়তে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি ব্যয় দুটোই বাড়ছে।

Airline shares battered as oil prices spike, Iran war intensifies | Reuters

অনেক যাত্রী শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে ছুটে গিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ স্থলপথে অন্য দেশে গিয়ে সেখান থেকে বিমান ধরছেন। সীমিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের কারণে অনেকেই ব্যক্তিগত বিমানের দিকে ঝুঁকছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে আসা-যাওয়া করা ৩৭ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

বৈশ্বিক ভ্রমণপথে চাপ

বিশ্বের ইউরোপ থেকে এশিয়ায় যাত্রী পরিবহনের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি বড় বিমান সংস্থার মাধ্যমে হয়ে থাকে। ফলে এই অঞ্চলের আকাশপথে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক ভ্রমণ নেটওয়ার্কেও বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে অনেক বিমান সংস্থাকে দীর্ঘ রুটে উড়তে অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করতে হচ্ছে বা মাঝপথে জ্বালানি ভরার জন্য অতিরিক্ত বিরতি নিতে হচ্ছে।

Iran war spells danger for global airlines - Yahoo News Singapore

পাইলটদের ওপর মানসিক চাপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন, আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতের কারণে আকাশপথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে সামরিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি বাড়ায় পাইলটদের ওপর মানসিক চাপও বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল খাত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।