০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ইরান যুদ্ধের ১০ম দিন: নতুন সর্বোচ্চ নেতা, তীব্রতর লড়াই আর শেষ কোথায়—বড় প্রশ্ন

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ১০ম দিনে যুদ্ধের গতিপথে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। যুদ্ধক্ষেত্রের হামলা-পাল্টা হামলার বাইরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তন। সোমবার আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা তেহরানের ক্ষমতার কাঠামোয় ধারাবাহিকতা বজায় থাকার বার্তা দিয়েছে।

নেতৃত্ব বদলেও ভাঙেনি তেহরানের কাঠামো

যুদ্ধ চললেও ইরানে নেতৃত্ব হস্তান্তর তুলনামূলকভাবে বিঘ্নহীনভাবে হয়েছে। এটি দেশটির শাসনব্যবস্থার ভেতরে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনে তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক শক্তিগুলোর দ্রুত সমর্থন ইঙ্গিত করছে, ইরানের আঞ্চলিক জোট কাঠামো এখনো সক্রিয় রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব এই পরিবর্তনকে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখছে।

যুদ্ধের গতি বদলাচ্ছে, চাপ বাড়ছে জ্বালানি অবকাঠামোয়

ইরান এখন এমন এক পাল্টা কৌশলে এগোচ্ছে যেখানে কৌশলগত অর্থনৈতিক অবকাঠামো—বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনাগুলো—বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে হাইফার রিফাইনারিতে হামলা এবং বাহরাইনের বাপকো রিফাইনারিতে আঘাত যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কৌশলে দেখা দিচ্ছে পার্থক্য

গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার গতি কিছুটা কমেছে, আর ইসরায়েল তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থেকেছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদ, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ কাজ করছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। একই সময়, ইসরায়েলের ভেতরেও প্রশ্ন উঠছে—এই যুদ্ধ কত দূর যাবে, আর এর স্পষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য কী।

তেলের দাম, বাজার ও বৈশ্বিক চাপ

যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতও এখন আরও স্পষ্ট। যুদ্ধের প্রভাবে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল, যদিও পরে কিছুটা স্থিতি ফেরে। বাজারে উদ্বেগের বড় কারণ হলো, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হলে তা বিশ্ববাজারে নতুন মূল্যস্ফীতি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

কূটনীতি চলছে, কিন্তু বিভক্ত আরব বিশ্ব

ওমান প্রকাশ্যে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছে। কাতার মধ্যস্থতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, আর সৌদি আরব একদিকে ইরানি হামলার সমালোচনা করলেও অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও ঐকমত্যের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

শেষ কোথায়, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন

যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামরিক সাফল্যের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে রাজনৈতিক শেষগন্তব্যের প্রশ্ন। ইরান আপাতদৃষ্টিতে চাপের মধ্যেও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে আছে, আর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যয়ের মুখে কৌশলগত হিসাব কষছে। ফলে যুদ্ধ চলছে ঠিকই, কিন্তু এর গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত সমাপ্তি কী হতে পারে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ইরান যুদ্ধের ১০ম দিন: নতুন সর্বোচ্চ নেতা, তীব্রতর লড়াই আর শেষ কোথায়—বড় প্রশ্ন

০৪:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ১০ম দিনে যুদ্ধের গতিপথে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। যুদ্ধক্ষেত্রের হামলা-পাল্টা হামলার বাইরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তন। সোমবার আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা তেহরানের ক্ষমতার কাঠামোয় ধারাবাহিকতা বজায় থাকার বার্তা দিয়েছে।

নেতৃত্ব বদলেও ভাঙেনি তেহরানের কাঠামো

যুদ্ধ চললেও ইরানে নেতৃত্ব হস্তান্তর তুলনামূলকভাবে বিঘ্নহীনভাবে হয়েছে। এটি দেশটির শাসনব্যবস্থার ভেতরে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনে তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক শক্তিগুলোর দ্রুত সমর্থন ইঙ্গিত করছে, ইরানের আঞ্চলিক জোট কাঠামো এখনো সক্রিয় রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব এই পরিবর্তনকে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখছে।

যুদ্ধের গতি বদলাচ্ছে, চাপ বাড়ছে জ্বালানি অবকাঠামোয়

ইরান এখন এমন এক পাল্টা কৌশলে এগোচ্ছে যেখানে কৌশলগত অর্থনৈতিক অবকাঠামো—বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনাগুলো—বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে হাইফার রিফাইনারিতে হামলা এবং বাহরাইনের বাপকো রিফাইনারিতে আঘাত যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কৌশলে দেখা দিচ্ছে পার্থক্য

গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার গতি কিছুটা কমেছে, আর ইসরায়েল তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থেকেছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদ, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ কাজ করছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। একই সময়, ইসরায়েলের ভেতরেও প্রশ্ন উঠছে—এই যুদ্ধ কত দূর যাবে, আর এর স্পষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য কী।

তেলের দাম, বাজার ও বৈশ্বিক চাপ

যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতও এখন আরও স্পষ্ট। যুদ্ধের প্রভাবে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল, যদিও পরে কিছুটা স্থিতি ফেরে। বাজারে উদ্বেগের বড় কারণ হলো, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হলে তা বিশ্ববাজারে নতুন মূল্যস্ফীতি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

কূটনীতি চলছে, কিন্তু বিভক্ত আরব বিশ্ব

ওমান প্রকাশ্যে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছে। কাতার মধ্যস্থতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, আর সৌদি আরব একদিকে ইরানি হামলার সমালোচনা করলেও অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও ঐকমত্যের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

শেষ কোথায়, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন

যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামরিক সাফল্যের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে রাজনৈতিক শেষগন্তব্যের প্রশ্ন। ইরান আপাতদৃষ্টিতে চাপের মধ্যেও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে আছে, আর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যয়ের মুখে কৌশলগত হিসাব কষছে। ফলে যুদ্ধ চলছে ঠিকই, কিন্তু এর গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত সমাপ্তি কী হতে পারে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।