০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ইরান যুদ্ধ ঘিরে তেলের বাজারে বড় ধাক্কা

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ দ্রুত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, তেহরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে সম্ভাব্য হামলা হলে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ সংকট বাড়ছে
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীতে ইতোমধ্যেই ট্যাংকার চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এর ফলে এশিয়া ও ইউরোপে তেলের সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে আসছে।

মার্কিন বাহিনীর উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে আলোচনা জোরালো হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।

খার্গ দ্বীপে হামলা হলে বড় ধাক্কা
খার্গ দ্বীপ ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানির কেন্দ্র। এই স্থাপনায় হামলা বা দখলের চেষ্টা হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ হঠাৎ কমে যেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নিতে পারে।

তেলের দামে দ্রুত ঊর্ধ্বগতি
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারির শেষের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।

Amid Iran war, gap between market oil prices and consumer costs widens -  Los Angeles Times

মধ্যপ্রাচ্যের ডুবাই ক্রুডের দাম আরও দ্রুত বেড়ে প্রায় ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ বাজারের তুলনায় বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতি আরও বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে।

বিকল্প সরবরাহ সীমিত
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল সরবরাহ ঘুরিয়ে দেওয়া হলেও, এগুলো হরমুজ প্রণালীর স্বাভাবিক পরিবহন সক্ষমতার তুলনায় খুবই সীমিত।

পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ থেকে বাজারে ছেড়েছে, যা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত পদক্ষেপ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এসব ব্যবস্থা সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী সমাধান নয়।

বিশ্বজুড়ে সংকট ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
শুরুতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব দেখা গেলেও এখন তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া হয়ে ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়ছে। জ্বালানি মজুদ কমতে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহই নির্ধারণ করবে এই সংকট সাময়িক থাকবে নাকি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ইরান যুদ্ধ ঘিরে তেলের বাজারে বড় ধাক্কা

০৭:৩০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ দ্রুত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, তেহরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে সম্ভাব্য হামলা হলে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ সংকট বাড়ছে
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীতে ইতোমধ্যেই ট্যাংকার চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এর ফলে এশিয়া ও ইউরোপে তেলের সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে আসছে।

মার্কিন বাহিনীর উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে আলোচনা জোরালো হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।

খার্গ দ্বীপে হামলা হলে বড় ধাক্কা
খার্গ দ্বীপ ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানির কেন্দ্র। এই স্থাপনায় হামলা বা দখলের চেষ্টা হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ হঠাৎ কমে যেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নিতে পারে।

তেলের দামে দ্রুত ঊর্ধ্বগতি
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারির শেষের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।

Amid Iran war, gap between market oil prices and consumer costs widens -  Los Angeles Times

মধ্যপ্রাচ্যের ডুবাই ক্রুডের দাম আরও দ্রুত বেড়ে প্রায় ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ বাজারের তুলনায় বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতি আরও বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে।

বিকল্প সরবরাহ সীমিত
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল সরবরাহ ঘুরিয়ে দেওয়া হলেও, এগুলো হরমুজ প্রণালীর স্বাভাবিক পরিবহন সক্ষমতার তুলনায় খুবই সীমিত।

পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ থেকে বাজারে ছেড়েছে, যা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত পদক্ষেপ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এসব ব্যবস্থা সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী সমাধান নয়।

বিশ্বজুড়ে সংকট ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
শুরুতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব দেখা গেলেও এখন তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া হয়ে ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়ছে। জ্বালানি মজুদ কমতে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহই নির্ধারণ করবে এই সংকট সাময়িক থাকবে নাকি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নেবে।