০৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতিতে নতুন সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। রবিবারের এই হামলার ফলে কয়েক মাস ধরে টিকে থাকা নাজুক শান্তি নতুন করে চাপে পড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটাই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। ফলে অঞ্চলজুড়ে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৈরুত হামলার পর পাল্টা বার্তা

Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) | History, Growth, Foundation,  Leadership, & Sanctions | Britannica

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলা ছিল একটি সতর্কবার্তা। তাদের দাবি, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর পর বৈরুতের একটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। ওই হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইরান সতর্ক করে বলেছে, বৈরুত বা লেবাননে এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে আরও বড় ধরনের জবাব দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি

 

ইসরায়েলি নেতৃত্ব ইরানের হামলাকে গুরুতর ভুল বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক প্রধান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অনুমোদন পেলেই ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হবে।

Israeli officials call for wider war with Iran after missile attack

ইসরায়েলের দাবি, ইরান মোট ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং সবগুলোই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা

এই উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সংঘাত ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়েছে। জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি আরও না বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে পুরোপুরি ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করা। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থির।

আকাশপথে বিধিনিষেধ

হামলার পরপরই ইরান পশ্চিমাঞ্চলের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলেও কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ সম্ভাব্য আরও সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কারই প্রতিফলন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় 'উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি'

অর্থনৈতিক চাপ ও জনজীবনের উদ্বেগ

দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ইরানিদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় অনেক পরিবার চাপে রয়েছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকে মনে করছেন, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে।

অচলাবস্থায় কূটনৈতিক আলোচনা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পায়নি। দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্যের কারণে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শততম দিনে পৌঁছানোর সময় এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দেখিয়ে দিল, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও স্থায়ী শান্তির পথ এখনো অনেক দূরে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতিতে নতুন সংকট

১২:০৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। রবিবারের এই হামলার ফলে কয়েক মাস ধরে টিকে থাকা নাজুক শান্তি নতুন করে চাপে পড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটাই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। ফলে অঞ্চলজুড়ে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৈরুত হামলার পর পাল্টা বার্তা

Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) | History, Growth, Foundation,  Leadership, & Sanctions | Britannica

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলা ছিল একটি সতর্কবার্তা। তাদের দাবি, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর পর বৈরুতের একটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। ওই হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইরান সতর্ক করে বলেছে, বৈরুত বা লেবাননে এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে আরও বড় ধরনের জবাব দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি

 

ইসরায়েলি নেতৃত্ব ইরানের হামলাকে গুরুতর ভুল বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক প্রধান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অনুমোদন পেলেই ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হবে।

Israeli officials call for wider war with Iran after missile attack

ইসরায়েলের দাবি, ইরান মোট ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং সবগুলোই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা

এই উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সংঘাত ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়েছে। জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি আরও না বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে পুরোপুরি ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করা। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থির।

আকাশপথে বিধিনিষেধ

হামলার পরপরই ইরান পশ্চিমাঞ্চলের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলেও কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ সম্ভাব্য আরও সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কারই প্রতিফলন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় 'উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি'

অর্থনৈতিক চাপ ও জনজীবনের উদ্বেগ

দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ইরানিদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় অনেক পরিবার চাপে রয়েছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকে মনে করছেন, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে।

অচলাবস্থায় কূটনৈতিক আলোচনা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পায়নি। দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্যের কারণে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শততম দিনে পৌঁছানোর সময় এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দেখিয়ে দিল, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও স্থায়ী শান্তির পথ এখনো অনেক দূরে।