০৬:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

এআইএমআইএম–এজেউপ জোট ভাঙল ভোটের আগে, বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখা গেল। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বাধীন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেউপ)-র সঙ্গে তাদের জোট ভেঙে দিয়েছে। একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে উত্তেজনা
তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয়—হুমায়ুন কবির নাকি বিজেপির কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তবুও এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সংখ্যালঘু ভোটে প্রভাবের আশঙ্কা
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা প্রায় ২৭ শতাংশ, যা নির্বাচনে একটি নির্ধারক ভূমিকা পালন করে। এই প্রেক্ষাপটে জোট ভাঙার ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল ও ভোট সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

AIMIM ends alliance with Humayun Kabir's AJUP in West Bengal after viral  video clip - The Hindu

এআইএমআইএমের একক লড়াইয়ের ঘোষণা
এআইএমআইএম তাদের সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে বলেছে, তারা আর এজেউপ-এর সঙ্গে থাকবে না এবং আসন্ন নির্বাচনে একাই লড়াই করবে। এই ঘোষণার ফলে নির্বাচনী লড়াই আরও ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

হুমায়ুন কবিরের প্রতিক্রিয়া
জোট ভাঙার ঘটনাকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, তার দল কোনো অন্য দলের উপর নির্ভর করে চলে না। এআইএমআইএমকে তারা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং তারা তা গ্রহণ করেছিল। এখন কেন তারা জোট ভাঙল, তার ব্যাখ্যা এআইএমআইএমকেই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অমিত শাহর মন্তব্যে নতুন মাত্রা
এই বিতর্কে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে, এমন ভিডিও তৈরি করা তার পক্ষে কঠিন নয়। তিনি আরও বলেন, হুমায়ুন কবির ও বিজেপির মতাদর্শ সম্পূর্ণ বিপরীত—একটি উত্তর মেরু হলে অন্যটি দক্ষিণ মেরু। তাই এমন দলের সঙ্গে সমঝোতার চেয়ে বিরোধী আসনে বসা শ্রেয়।

এআইএমআইএমের অভিযোগ
এআইএমআইএমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের রাজনৈতিক দুর্বলতা ও ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এসেছে। তাদের মতে, সংখ্যালঘু ভোটকে প্রভাবিত করার জন্য নানা কৌশল নেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

এআইএমআইএম–এজেউপ জোট ভাঙল ভোটের আগে, বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

০৭:০০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখা গেল। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বাধীন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেউপ)-র সঙ্গে তাদের জোট ভেঙে দিয়েছে। একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে উত্তেজনা
তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয়—হুমায়ুন কবির নাকি বিজেপির কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তবুও এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সংখ্যালঘু ভোটে প্রভাবের আশঙ্কা
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা প্রায় ২৭ শতাংশ, যা নির্বাচনে একটি নির্ধারক ভূমিকা পালন করে। এই প্রেক্ষাপটে জোট ভাঙার ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল ও ভোট সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

AIMIM ends alliance with Humayun Kabir's AJUP in West Bengal after viral  video clip - The Hindu

এআইএমআইএমের একক লড়াইয়ের ঘোষণা
এআইএমআইএম তাদের সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে বলেছে, তারা আর এজেউপ-এর সঙ্গে থাকবে না এবং আসন্ন নির্বাচনে একাই লড়াই করবে। এই ঘোষণার ফলে নির্বাচনী লড়াই আরও ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

হুমায়ুন কবিরের প্রতিক্রিয়া
জোট ভাঙার ঘটনাকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, তার দল কোনো অন্য দলের উপর নির্ভর করে চলে না। এআইএমআইএমকে তারা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং তারা তা গ্রহণ করেছিল। এখন কেন তারা জোট ভাঙল, তার ব্যাখ্যা এআইএমআইএমকেই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অমিত শাহর মন্তব্যে নতুন মাত্রা
এই বিতর্কে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে, এমন ভিডিও তৈরি করা তার পক্ষে কঠিন নয়। তিনি আরও বলেন, হুমায়ুন কবির ও বিজেপির মতাদর্শ সম্পূর্ণ বিপরীত—একটি উত্তর মেরু হলে অন্যটি দক্ষিণ মেরু। তাই এমন দলের সঙ্গে সমঝোতার চেয়ে বিরোধী আসনে বসা শ্রেয়।

এআইএমআইএমের অভিযোগ
এআইএমআইএমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের রাজনৈতিক দুর্বলতা ও ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এসেছে। তাদের মতে, সংখ্যালঘু ভোটকে প্রভাবিত করার জন্য নানা কৌশল নেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক।