০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

এআই আতঙ্কে বিক্ষোভ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তাদের হুটিং

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন খ্যাতনামা করপোরেট ব্যক্তিরা। শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রকাশ্যে হুটিং ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, যা নতুন প্রযুক্তি নিয়ে তরুণদের উদ্বেগকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

সম্প্রতি সাবেক গুগল প্রধান এরিক শ্মিট একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন। এআই প্রসঙ্গ উঠতেই অনেক শিক্ষার্থী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শুধু তিনি নন, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এআই নিয়ে বাড়ছে অস্বস্তি

Students Boo Commencement Speaker After She Calls AI the 'Next Industrial  Revolution'

ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রিয়েল এস্টেট নির্বাহী গ্লোরিয়া কউলফিল্ড এআইকে “পরবর্তী শিল্পবিপ্লব” হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তার বক্তব্যের মাঝেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হুটিং শুরু করে।

মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতেও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন বিগ মেশিন রেকর্ডসের প্রধান নির্বাহী স্কট বরচেটা। এআই প্রসঙ্গে কথা বলতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে তিনি বলেন, “এটা একটি প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, বাস্তবতাকে মেনে নিতেই হবে।”

চাকরি হারানোর ভয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার তরুণদের মধ্যে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিগুলো স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে— এমন ধারণা থেকে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছেন।

একটি সাম্প্রতিক উচ্চশিক্ষা জরিপে দেখা গেছে, অনেক শিক্ষার্থী এখন প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ে আগ্রহ কমিয়ে মানবিক দক্ষতা, যোগাযোগ ক্ষমতা এবং সৃজনশীল চিন্তার মতো ক্ষেত্রকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের ধারণা, এসব দক্ষতা সহজে যন্ত্র দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

সমাজজুড়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এআই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে আশাবাদের চেয়ে বেশি চিন্তিত। দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিস্তার অনেকের কাছে অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই ভবিষ্যতের বড় বাস্তবতা হলেও এর প্রভাব নিয়ে মানুষের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েই প্রযুক্তির ব্যবহার ও নীতিমালা নির্ধারণ করতে হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

এআই আতঙ্কে বিক্ষোভ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তাদের হুটিং

১১:৪২:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন খ্যাতনামা করপোরেট ব্যক্তিরা। শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রকাশ্যে হুটিং ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, যা নতুন প্রযুক্তি নিয়ে তরুণদের উদ্বেগকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

সম্প্রতি সাবেক গুগল প্রধান এরিক শ্মিট একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন। এআই প্রসঙ্গ উঠতেই অনেক শিক্ষার্থী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শুধু তিনি নন, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এআই নিয়ে বাড়ছে অস্বস্তি

Students Boo Commencement Speaker After She Calls AI the 'Next Industrial  Revolution'

ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রিয়েল এস্টেট নির্বাহী গ্লোরিয়া কউলফিল্ড এআইকে “পরবর্তী শিল্পবিপ্লব” হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তার বক্তব্যের মাঝেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হুটিং শুরু করে।

মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতেও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন বিগ মেশিন রেকর্ডসের প্রধান নির্বাহী স্কট বরচেটা। এআই প্রসঙ্গে কথা বলতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে তিনি বলেন, “এটা একটি প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম, বাস্তবতাকে মেনে নিতেই হবে।”

চাকরি হারানোর ভয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার তরুণদের মধ্যে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিগুলো স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে— এমন ধারণা থেকে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছেন।

একটি সাম্প্রতিক উচ্চশিক্ষা জরিপে দেখা গেছে, অনেক শিক্ষার্থী এখন প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ে আগ্রহ কমিয়ে মানবিক দক্ষতা, যোগাযোগ ক্ষমতা এবং সৃজনশীল চিন্তার মতো ক্ষেত্রকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের ধারণা, এসব দক্ষতা সহজে যন্ত্র দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

সমাজজুড়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এআই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে আশাবাদের চেয়ে বেশি চিন্তিত। দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিস্তার অনেকের কাছে অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই ভবিষ্যতের বড় বাস্তবতা হলেও এর প্রভাব নিয়ে মানুষের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েই প্রযুক্তির ব্যবহার ও নীতিমালা নির্ধারণ করতে হবে।