১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা

কক্সবাজারের একটি পাঁচতারা হোটেলের গাড়ি রাখার জায়গা থেকে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাড়িগুলোর আমদানি ও ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্রে অসঙ্গতি পাওয়ার পর এগুলো জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কীভাবে গাড়িগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যে তিন গাড়ি জব্দ

আজ ভোরে অভিযান চালিয়ে একটি ২০২১ সালের টয়োটা সুপ্রা, একটি হোন্ডা সিভিক এবং একটি ২০২০ সালের মাজদা এমএক্স-৫ মিয়াটা জব্দ করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভি আহমেদ বিষয়টি জানিয়েছেন।

জব্দ করা তিনটি গাড়ির মধ্যে দুটির কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না। গাড়ির সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা শুল্ক কর্মকর্তাদের জানান, গাড়ি দুটির নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলছিল। তবে নিবন্ধনের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি।

যেভাবে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

শুল্ক কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য আসে, মংলা বন্দর দিয়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশকে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেশে আনা হচ্ছে। পরে সেই যন্ত্রাংশ জোড়া লাগিয়ে সম্পূর্ণ গাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। এভাবে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিপুল পরিমাণ শুল্ক ও কর এড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি এ ধরনের বেশ কয়েকটি চালান পরীক্ষা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় দেখা গেছে, আমদানি করা যন্ত্রাংশগুলো একত্র করে সম্পূর্ণ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব।

বাবার উপহার—দাবি যাচাই করবে কর্তৃপক্ষ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িগুলোর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা দাবি করেন, তাদের বাবারা গাড়িগুলো উপহার দিয়েছেন। তবে শুল্ক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু মৌখিক দাবির ভিত্তিতে বিষয়টি গ্রহণ করা হবে না। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে দাবির সত্যতা পরীক্ষা করা হবে।

কর্তৃপক্ষ এখন গাড়িগুলোর প্রকৃত মালিকানা, আমদানির প্রক্রিয়া, দেশে প্রবেশের পথ এবং কেনাবেচার নথিপত্র পরীক্ষা করছে।

চট্টগ্রামেও একই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ি জব্দ

একই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের একটি আবাসিক ভবন থেকে একটি বিএমডব্লিউ গাড়িও জব্দ করা হয়েছিল। ফলে একাধিক গাড়ির ক্ষেত্রে একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে গাড়িগুলো চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা বা শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রণয় চাকমা। তদন্ত শেষ হওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা

০৯:২৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের একটি পাঁচতারা হোটেলের গাড়ি রাখার জায়গা থেকে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাড়িগুলোর আমদানি ও ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্রে অসঙ্গতি পাওয়ার পর এগুলো জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কীভাবে গাড়িগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যে তিন গাড়ি জব্দ

আজ ভোরে অভিযান চালিয়ে একটি ২০২১ সালের টয়োটা সুপ্রা, একটি হোন্ডা সিভিক এবং একটি ২০২০ সালের মাজদা এমএক্স-৫ মিয়াটা জব্দ করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভি আহমেদ বিষয়টি জানিয়েছেন।

জব্দ করা তিনটি গাড়ির মধ্যে দুটির কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না। গাড়ির সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা শুল্ক কর্মকর্তাদের জানান, গাড়ি দুটির নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলছিল। তবে নিবন্ধনের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি।

যেভাবে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

শুল্ক কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য আসে, মংলা বন্দর দিয়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশকে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেশে আনা হচ্ছে। পরে সেই যন্ত্রাংশ জোড়া লাগিয়ে সম্পূর্ণ গাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। এভাবে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিপুল পরিমাণ শুল্ক ও কর এড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি এ ধরনের বেশ কয়েকটি চালান পরীক্ষা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় দেখা গেছে, আমদানি করা যন্ত্রাংশগুলো একত্র করে সম্পূর্ণ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব।

বাবার উপহার—দাবি যাচাই করবে কর্তৃপক্ষ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িগুলোর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা দাবি করেন, তাদের বাবারা গাড়িগুলো উপহার দিয়েছেন। তবে শুল্ক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু মৌখিক দাবির ভিত্তিতে বিষয়টি গ্রহণ করা হবে না। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে দাবির সত্যতা পরীক্ষা করা হবে।

কর্তৃপক্ষ এখন গাড়িগুলোর প্রকৃত মালিকানা, আমদানির প্রক্রিয়া, দেশে প্রবেশের পথ এবং কেনাবেচার নথিপত্র পরীক্ষা করছে।

চট্টগ্রামেও একই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ি জব্দ

একই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের একটি আবাসিক ভবন থেকে একটি বিএমডব্লিউ গাড়িও জব্দ করা হয়েছিল। ফলে একাধিক গাড়ির ক্ষেত্রে একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে গাড়িগুলো চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা বা শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রণয় চাকমা। তদন্ত শেষ হওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।