০১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়, চাপে মূলধারার রাজনীতি নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলনের এক বছর, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না: কার্কি ‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

কমেছে কৃষি ঋণের পরিমান,কৃষকের ওপর এর প্রভাব কি হবে

  • Sarakhon Report
  • ০৩:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫
  • 163

সারাক্ষণ রিপোর্ট

ব্যাংকগুলোর কৃষি ও গ্রামীণ ঋণ বিতরণ চলতি অর্থবছর (২০২৪-২৫) এর প্রথম চার মাসে এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি কমে গেছে। বিদেশি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ সরবরাহে উল্লেখযোগ্য হ্রাসই এই পতনের প্রধান কারণ বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়কালে ব্যাংকগুলো ৯,৩৯১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১১,৯৬০ কোটি টাকা।

বিবি জানিয়েছে, বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ায় এই পতন ঘটেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তাদের বিতরণ এ বছর ৭৬.৫ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ২৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কৃষি ও গ্রামীণ ঋণ বিতরণও কমেছে।

তবে কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঋণ সরবরাহ বাড়িয়েছে।

এই ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ১২ শতাংশ বেড়েছে বলে বিবি জানিয়েছে। তবে এটি সামগ্রিক পতনের তুলনায় তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।

বিবি-র তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮,০০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। তবে প্রথম চার মাসে এর মাত্র এক-চতুর্থাংশ বিতরণ করা হয়েছে।

বিবি-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বিতরণকৃত কৃষি ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশ ফসল উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে।

গত বছর এই খাতে মোট ঋণের ৪৫ শতাংশ বরাদ্দ ছিল।

গবাদি পশু ও পোলট্রি খাতে ঋণের অংশ ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি, মৎস্য খাতেও ঋণের অংশ ১৫ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পে ঋণের অংশ ৭ শতাংশ থেকে কমে ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

“এই পরিবর্তনগুলো দেখায় যে ফসল, গবাদি পশু ও পোলট্রি, এবং মৎস্য খাতে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে দারিদ্র্য বিমোচন খাতের গুরুত্ব কমেছে,” বলে জানিয়েছে বিবি তার অক্টোবর মাসের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থায়ন প্রতিবেদন।

কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি’র সঙ্গে জড়িতদের অনেকের কাছে এ বিষয়ে মতামত চাইলে তারা প্রায় অভিন্ন কথা বলেন, তারা বলছে যে সময়ে আলু সহ অনান্য সবজি’র উৎপাদন খরচ উঠছে না, কৃষি পণ্য মানেজমেন্ট এক ধরনের নিয়ন্ত্রহীন সে সময়ে কৃষি ঋণের সরবরাহ কমায়, মূলত কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কৃষক এ মুহূর্তে ঋণ ও প্রনোদনা না ফেলে ক্রমেই কৃষি পণ্য উৎপাদনের বাইরে গিয়ে জীবন বাঁচানোর পথ খুঁজবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ

কমেছে কৃষি ঋণের পরিমান,কৃষকের ওপর এর প্রভাব কি হবে

০৩:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

ব্যাংকগুলোর কৃষি ও গ্রামীণ ঋণ বিতরণ চলতি অর্থবছর (২০২৪-২৫) এর প্রথম চার মাসে এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি কমে গেছে। বিদেশি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ সরবরাহে উল্লেখযোগ্য হ্রাসই এই পতনের প্রধান কারণ বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়কালে ব্যাংকগুলো ৯,৩৯১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১১,৯৬০ কোটি টাকা।

বিবি জানিয়েছে, বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ায় এই পতন ঘটেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তাদের বিতরণ এ বছর ৭৬.৫ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ২৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কৃষি ও গ্রামীণ ঋণ বিতরণও কমেছে।

তবে কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঋণ সরবরাহ বাড়িয়েছে।

এই ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ১২ শতাংশ বেড়েছে বলে বিবি জানিয়েছে। তবে এটি সামগ্রিক পতনের তুলনায় তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।

বিবি-র তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮,০০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। তবে প্রথম চার মাসে এর মাত্র এক-চতুর্থাংশ বিতরণ করা হয়েছে।

বিবি-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বিতরণকৃত কৃষি ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশ ফসল উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে।

গত বছর এই খাতে মোট ঋণের ৪৫ শতাংশ বরাদ্দ ছিল।

গবাদি পশু ও পোলট্রি খাতে ঋণের অংশ ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি, মৎস্য খাতেও ঋণের অংশ ১৫ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পে ঋণের অংশ ৭ শতাংশ থেকে কমে ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

“এই পরিবর্তনগুলো দেখায় যে ফসল, গবাদি পশু ও পোলট্রি, এবং মৎস্য খাতে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে দারিদ্র্য বিমোচন খাতের গুরুত্ব কমেছে,” বলে জানিয়েছে বিবি তার অক্টোবর মাসের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থায়ন প্রতিবেদন।

কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি’র সঙ্গে জড়িতদের অনেকের কাছে এ বিষয়ে মতামত চাইলে তারা প্রায় অভিন্ন কথা বলেন, তারা বলছে যে সময়ে আলু সহ অনান্য সবজি’র উৎপাদন খরচ উঠছে না, কৃষি পণ্য মানেজমেন্ট এক ধরনের নিয়ন্ত্রহীন সে সময়ে কৃষি ঋণের সরবরাহ কমায়, মূলত কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কৃষক এ মুহূর্তে ঋণ ও প্রনোদনা না ফেলে ক্রমেই কৃষি পণ্য উৎপাদনের বাইরে গিয়ে জীবন বাঁচানোর পথ খুঁজবে।