০৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

কূটনৈতিক গৌরবে পেট ভরছে না পাকিস্তানি সাধারণ মানুষের

উপসাগরীয় যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় বড় কূটনৈতিক লাভ করেছে। দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন বলছে, অর্থনীতিবিদরা অবশ্য ততটা নিশ্চিত নন। জ্বালানি ও খাদ্যমূল্য বাড়তে থাকায় সাধারণ পাকিস্তানিদের কাছে এই কূটনৈতিক গৌরব সীমিত সান্ত্বনা। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সরকার জ্বালানি রেশনিং চালু করেছে, সরকারি কর্মকর্তারা সংক্ষিপ্ত সপ্তাহে কাজ করছেন, পাঞ্জাব প্রদেশে ঘূর্ণায়মান লোডশেডিং চলছে, ক্রিকেট ম্যাচ হচ্ছে দর্শকশূন্য মাঠে। পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশ, ডিজেলের ৫৫ শতাংশ।

রেমিট্যান্সের বিপদ ও ঐতিহাসিক ঋণনির্ভরতা

বিদেশে বসবাসরত পাকিস্তানিদের প্রায় অর্ধেক উপসাগরীয় দেশে, মূলত সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে। তাদের পাঠানো বার্ষিক ৪ হাজার কোটি ডলারের রেমিট্যান্স জিডিপির ১০ শতাংশ। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্সের অনুমান, উপসাগরের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে এই রেমিট্যান্স থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি ডলার কমতে পারে। যুদ্ধের আগেও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র তিন মাসের আমদানি খরচের সমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুর্তজা সৈয়দের মতে, কমোডিটির দাম বাড়লেই পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছে যেতে হয়। ১৯৫০ সালে আইএমএফে যোগ দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তান ২৫ বার বেইলআউট নিয়েছে। এবার আরব আমিরাত ৩৫০ কোটি ডলারের ঋণ নবায়ন না করায় বর্তমান আইএমএফ পরিকল্পনায় বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে, তবে সৌদি আরব অতিরিক্ত ৩০০ কোটি ডলার দিয়ে সেই ফাঁক ভরেছে।

ভূরাজনীতির ছায়ায় অর্থনৈতিক অবনতি

বিরোধী দলের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে ভালো সম্পর্কের সমস্যা হলো আইএমএফ তাদের প্রতি অনেক নরম হয়ে পড়ে, আর পাকিস্তান সেই সুযোগ ঠিক কাজ না করার জন্য ব্যবহার করে। পাকিস্তানের বিশাল গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামো আমেরিকাসহ মিত্রদের আগ্রহ ধরে রাখে, যা হাঙ্গেরিয়ান অর্থনীতিবিদ ইয়ানোস কর্নাই বর্ণিত নরম বাজেট সীমাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি করে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানি সাধারণ মানুষ। ১৯৯৫ সালে পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ভারতের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি এবং বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ। এখন সেই জিডিপি ভারতের চেয়ে ৪৫ শতাংশ কম এবং বাংলাদেশের চেয়ে ৩৫ শতাংশ কম। উদারপন্থী অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন এবারের সংকট কাঠামোগত সংস্কারে বাধ্য করবে, কিন্তু পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আবারও পালানোর পথ দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

কূটনৈতিক গৌরবে পেট ভরছে না পাকিস্তানি সাধারণ মানুষের

০৬:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

উপসাগরীয় যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় বড় কূটনৈতিক লাভ করেছে। দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন বলছে, অর্থনীতিবিদরা অবশ্য ততটা নিশ্চিত নন। জ্বালানি ও খাদ্যমূল্য বাড়তে থাকায় সাধারণ পাকিস্তানিদের কাছে এই কূটনৈতিক গৌরব সীমিত সান্ত্বনা। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সরকার জ্বালানি রেশনিং চালু করেছে, সরকারি কর্মকর্তারা সংক্ষিপ্ত সপ্তাহে কাজ করছেন, পাঞ্জাব প্রদেশে ঘূর্ণায়মান লোডশেডিং চলছে, ক্রিকেট ম্যাচ হচ্ছে দর্শকশূন্য মাঠে। পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশ, ডিজেলের ৫৫ শতাংশ।

রেমিট্যান্সের বিপদ ও ঐতিহাসিক ঋণনির্ভরতা

বিদেশে বসবাসরত পাকিস্তানিদের প্রায় অর্ধেক উপসাগরীয় দেশে, মূলত সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে। তাদের পাঠানো বার্ষিক ৪ হাজার কোটি ডলারের রেমিট্যান্স জিডিপির ১০ শতাংশ। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্সের অনুমান, উপসাগরের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে এই রেমিট্যান্স থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি ডলার কমতে পারে। যুদ্ধের আগেও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র তিন মাসের আমদানি খরচের সমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুর্তজা সৈয়দের মতে, কমোডিটির দাম বাড়লেই পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছে যেতে হয়। ১৯৫০ সালে আইএমএফে যোগ দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তান ২৫ বার বেইলআউট নিয়েছে। এবার আরব আমিরাত ৩৫০ কোটি ডলারের ঋণ নবায়ন না করায় বর্তমান আইএমএফ পরিকল্পনায় বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে, তবে সৌদি আরব অতিরিক্ত ৩০০ কোটি ডলার দিয়ে সেই ফাঁক ভরেছে।

ভূরাজনীতির ছায়ায় অর্থনৈতিক অবনতি

বিরোধী দলের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে ভালো সম্পর্কের সমস্যা হলো আইএমএফ তাদের প্রতি অনেক নরম হয়ে পড়ে, আর পাকিস্তান সেই সুযোগ ঠিক কাজ না করার জন্য ব্যবহার করে। পাকিস্তানের বিশাল গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামো আমেরিকাসহ মিত্রদের আগ্রহ ধরে রাখে, যা হাঙ্গেরিয়ান অর্থনীতিবিদ ইয়ানোস কর্নাই বর্ণিত নরম বাজেট সীমাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি করে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানি সাধারণ মানুষ। ১৯৯৫ সালে পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ভারতের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি এবং বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ। এখন সেই জিডিপি ভারতের চেয়ে ৪৫ শতাংশ কম এবং বাংলাদেশের চেয়ে ৩৫ শতাংশ কম। উদারপন্থী অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন এবারের সংকট কাঠামোগত সংস্কারে বাধ্য করবে, কিন্তু পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আবারও পালানোর পথ দিয়েছে।