০৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার নিখোঁজ মহেশখালীতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, একাই ছিলেন বাড়িতে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের চার প্রবাসী নিহত কাঁঠাল পাতার বোঝা কাঁধে হালিমা, দিনে ৩০০ টাকায় চলে একার সংসার ১০ জেলায় বেশি হাম, টিকাদান কর্মসূচি নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেক কমাল সরকার সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় আহত ৭৩, নারী ও শিশুও রয়েছে ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তা ও হামলার অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ পুলিশের কাছে আগামী ৫ দিনে বাড়তে পারে বৃষ্টি, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর কুমিল্লায় শিক্ষাসফরের বাস খাদে, আহত ২০ মেডিকেল শিক্ষার্থী

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, আতঙ্কে রোগী সরিয়ে নেওয়া হলো আইসিইউ থেকেও

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় বুধবার সকালে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই দ্রুত রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন আহত হন এবং ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই নার্স।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৬টার দিকে চারতলা হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলার একটি স্টোররুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে ঘন ধোঁয়া পুরো তলায় ছড়িয়ে পড়ে। রোগীদের অনেকেই তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ধোঁয়া ও চিৎকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালজুড়ে।

জরুরি ভিত্তিতে রোগী সরিয়ে নেওয়া

খুলনা মেডিকেল কলেজে আগুন, আহত ৫ | NTV Online

আগুন লাগার পর হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত জরুরি নির্গমনপথ ব্যবহার করে রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে আইসিইউ থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থার রোগীদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়। আতঙ্কে রোগী ও তাদের স্বজনরা ছোটাছুটি শুরু করলে পুরো হাসপাতাল এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

উদ্ধারকাজ চলাকালে হাসপাতালের কর্মচারী সাইদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ নার্স নুরাইন, দীপালি ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ আহত হন। ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে দুই নার্সকে পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এছাড়া তৃতীয় তলা থেকে নামার সময় আরও এক নার্স আহত হন।

এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আগুন

ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মোট ১০টি ইউনিট কাজ করে। প্রথমে বয়রা ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরও সাতটি ইউনিট যোগ দেয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির রঙ লাল কেন?

তবে আগুন নেভানোর শুরুতে কিছু গেট তালাবদ্ধ থাকায় উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হয়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয় ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের। অভিযান চলাকালে কয়েকজনকে বারান্দা থেকেও উদ্ধার করা হয়।

ক্ষয়ক্ষতি ও তদন্ত

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মাসুদ সরদার জানান, আগুনটি স্টোররুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে অপারেশন থিয়েটারের কিছু যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর অনেক রোগী হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র চলে যান কিংবা স্বজনরা তাদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হোসাইন আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার নিখোঁজ

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, আতঙ্কে রোগী সরিয়ে নেওয়া হলো আইসিইউ থেকেও

০১:০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় বুধবার সকালে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই দ্রুত রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন আহত হন এবং ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই নার্স।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৬টার দিকে চারতলা হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলার একটি স্টোররুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে ঘন ধোঁয়া পুরো তলায় ছড়িয়ে পড়ে। রোগীদের অনেকেই তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ধোঁয়া ও চিৎকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালজুড়ে।

জরুরি ভিত্তিতে রোগী সরিয়ে নেওয়া

খুলনা মেডিকেল কলেজে আগুন, আহত ৫ | NTV Online

আগুন লাগার পর হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত জরুরি নির্গমনপথ ব্যবহার করে রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে আইসিইউ থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থার রোগীদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়। আতঙ্কে রোগী ও তাদের স্বজনরা ছোটাছুটি শুরু করলে পুরো হাসপাতাল এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

উদ্ধারকাজ চলাকালে হাসপাতালের কর্মচারী সাইদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ নার্স নুরাইন, দীপালি ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ আহত হন। ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে দুই নার্সকে পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এছাড়া তৃতীয় তলা থেকে নামার সময় আরও এক নার্স আহত হন।

এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আগুন

ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মোট ১০টি ইউনিট কাজ করে। প্রথমে বয়রা ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরও সাতটি ইউনিট যোগ দেয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির রঙ লাল কেন?

তবে আগুন নেভানোর শুরুতে কিছু গেট তালাবদ্ধ থাকায় উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হয়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয় ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের। অভিযান চলাকালে কয়েকজনকে বারান্দা থেকেও উদ্ধার করা হয়।

ক্ষয়ক্ষতি ও তদন্ত

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মাসুদ সরদার জানান, আগুনটি স্টোররুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে অপারেশন থিয়েটারের কিছু যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর অনেক রোগী হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র চলে যান কিংবা স্বজনরা তাদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হোসাইন আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।