১০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

গাজায় যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে ‘আমেরিকান ডাক্তার’ প্রামাণ্যচিত্র

প্রামাণ্যচিত্রটি তিনজন মার্কিন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত হাসপাতাল ও চিকিৎসাব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। চিকিৎসকদের একজন মার্ক পার্লমাটার বলেন, বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে দুর্যোগ ও সংঘাতের পর চিকিৎসাসেবায় কাজ করলেও গাজায় দেখা অভিজ্ঞতা তার আগের সব অভিজ্ঞতাকে ছাড়িয়ে গেছে।

পরিচালক পো সি তেং সংঘাতের পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক ব্যাখ্যার বদলে চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন। তিন চিকিৎসকের মধ্যে পার্লমাটার ইহুদি, থায়ের আহমদ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম এবং ফেরোজ সিধওয়া জরথুস্ত্রীয় পরিবারের সন্তান।

হাসপাতালে হামলার অভিযোগ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরায়েল চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করে, এসব স্থাপনার নিচে হামাসের যোদ্ধা ও সুড়ঙ্গ থাকায় সেগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে প্রামাণ্যচিত্রের চিকিৎসকেরা গাজার যেসব হাসপাতালে কাজ করেছেন, সেখানে কোনো সুড়ঙ্গ দেখেননি বলে জানিয়েছেন।

চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্মান্তিক অংশগুলোর একটি হলো খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে বোমা হামলার পর আহতদের চিকিৎসা দিতে যাওয়া উদ্ধারকর্মীদের ওপর ফের হামলার দৃশ্য। এ ধরনের ঘটনা কীভাবে পর্দায় দেখানো হবে, তা নিয়েও পরিচালককে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

শিশুদের দুর্ভোগের দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক

মৃত শিশুদের ছবি দেখানো তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবে কি না—এ নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে পার্লমাটারের মতবিরোধ হয়। পার্লমাটারের যুক্তি ছিল, যুদ্ধের বাস্তবতা এবং এর মানবিক মূল্য মানুষের সামনে তুলে ধরাই জরুরি।

তার মতে, নিহত শিশুদের দেহ ও স্মৃতিই তাদের ওপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহতার সাক্ষ্য বহন করে। এই অভিজ্ঞতা পরিচালকের মধ্যেও যুদ্ধের বাস্তবতা আরও সরাসরি তুলে ধরার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

‘এটা বন্ধ করতে হবে’

চিকিৎসকদের কাছে সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, গাজার শিশুদের অনাহার, মায়েদের অসহায়ত্ব কিংবা বোমা হামলায় কিশোরদের মৃত্যুর কথা বলার পরও অনেকেই সংঘাতের রাজনৈতিক পটভূমি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

চিকিৎসক থায়ের আহমদের বক্তব্য, কোনো শিশু অনাহারে থাকলে বা বোমায় নিহত হলে প্রথম প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত—এটা বন্ধ করতে হবে। শিশুটি কোথায় জন্মেছে, কোন ধর্মের, কিংবা তার রাজনৈতিক পটভূমি কী—এসব প্রশ্ন দিয়ে তার দুর্ভোগকে আড়াল করা উচিত নয়।

পরিচালক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে ইসরায়েলি অস্ত্র ব্যবহারের ফলে গাজায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তুলে ধরার কারণে চলচ্চিত্রটির অর্থায়ন পেতেও কখনও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে তার আশা, ‘আমেরিকান ডাক্তার’ গাজা নিয়ে জনমতের আলোচনায় নতুন পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

গাজায় যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে ‘আমেরিকান ডাক্তার’ প্রামাণ্যচিত্র

০৩:৪২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রামাণ্যচিত্রটি তিনজন মার্কিন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত হাসপাতাল ও চিকিৎসাব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। চিকিৎসকদের একজন মার্ক পার্লমাটার বলেন, বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে দুর্যোগ ও সংঘাতের পর চিকিৎসাসেবায় কাজ করলেও গাজায় দেখা অভিজ্ঞতা তার আগের সব অভিজ্ঞতাকে ছাড়িয়ে গেছে।

পরিচালক পো সি তেং সংঘাতের পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক ব্যাখ্যার বদলে চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন। তিন চিকিৎসকের মধ্যে পার্লমাটার ইহুদি, থায়ের আহমদ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম এবং ফেরোজ সিধওয়া জরথুস্ত্রীয় পরিবারের সন্তান।

হাসপাতালে হামলার অভিযোগ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরায়েল চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করে, এসব স্থাপনার নিচে হামাসের যোদ্ধা ও সুড়ঙ্গ থাকায় সেগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে প্রামাণ্যচিত্রের চিকিৎসকেরা গাজার যেসব হাসপাতালে কাজ করেছেন, সেখানে কোনো সুড়ঙ্গ দেখেননি বলে জানিয়েছেন।

চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্মান্তিক অংশগুলোর একটি হলো খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে বোমা হামলার পর আহতদের চিকিৎসা দিতে যাওয়া উদ্ধারকর্মীদের ওপর ফের হামলার দৃশ্য। এ ধরনের ঘটনা কীভাবে পর্দায় দেখানো হবে, তা নিয়েও পরিচালককে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

শিশুদের দুর্ভোগের দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক

মৃত শিশুদের ছবি দেখানো তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবে কি না—এ নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে পার্লমাটারের মতবিরোধ হয়। পার্লমাটারের যুক্তি ছিল, যুদ্ধের বাস্তবতা এবং এর মানবিক মূল্য মানুষের সামনে তুলে ধরাই জরুরি।

তার মতে, নিহত শিশুদের দেহ ও স্মৃতিই তাদের ওপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহতার সাক্ষ্য বহন করে। এই অভিজ্ঞতা পরিচালকের মধ্যেও যুদ্ধের বাস্তবতা আরও সরাসরি তুলে ধরার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

‘এটা বন্ধ করতে হবে’

চিকিৎসকদের কাছে সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, গাজার শিশুদের অনাহার, মায়েদের অসহায়ত্ব কিংবা বোমা হামলায় কিশোরদের মৃত্যুর কথা বলার পরও অনেকেই সংঘাতের রাজনৈতিক পটভূমি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

চিকিৎসক থায়ের আহমদের বক্তব্য, কোনো শিশু অনাহারে থাকলে বা বোমায় নিহত হলে প্রথম প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত—এটা বন্ধ করতে হবে। শিশুটি কোথায় জন্মেছে, কোন ধর্মের, কিংবা তার রাজনৈতিক পটভূমি কী—এসব প্রশ্ন দিয়ে তার দুর্ভোগকে আড়াল করা উচিত নয়।

পরিচালক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে ইসরায়েলি অস্ত্র ব্যবহারের ফলে গাজায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তুলে ধরার কারণে চলচ্চিত্রটির অর্থায়ন পেতেও কখনও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে তার আশা, ‘আমেরিকান ডাক্তার’ গাজা নিয়ে জনমতের আলোচনায় নতুন পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে।