০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ঘুম আসছে না? ‘মনের তাস মেশানো’ কৌশলেই মিলতে পারে শান্তির ঘুম

রাত গভীর হচ্ছে, কিন্তু ঘুমের দেখা নেই। দিনের কাজ, ভবিষ্যতের চিন্তা কিংবা নানা উদ্বেগ মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকে। অনেকেই তখন ভেঙে ভেঙে সংখ্যা গোনেন বা অন্য কোনো উপায়ে ঘুম আনার চেষ্টা করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্থির মনকে শান্ত করার জন্য আরও কার্যকর একটি মানসিক কৌশল রয়েছে, যা দ্রুত ঘুমের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এই কৌশলটির নাম ‘কগনিটিভ শাফলিং’ বা সহজ ভাষায় ‘মনের তাস মেশানো’। এর উদ্দেশ্য হলো মস্তিষ্ককে এমন কিছু নিরপেক্ষ চিন্তায় ব্যস্ত রাখা, যা মনকে উদ্বেগ থেকে সরিয়ে ধীরে ধীরে ঘুমের দিকে নিয়ে যায়।

কীভাবে করবেন এই কৌশল

বিছানায় শোয়ার পর এমন একটি শব্দ বেছে নিতে হবে, যার সঙ্গে কোনো আবেগ বা দুশ্চিন্তার সম্পর্ক নেই। শব্দটি মাঝারি দৈর্ঘ্যের হলে ভালো হয়।

Overthinking: Can't sleep? How thought blocking can help

ধরা যাক আপনি একটি সাধারণ শব্দ বেছে নিলেন। এরপর সেই শব্দের প্রতিটি অক্ষর ধরে নতুন নতুন অসংলগ্ন শব্দ ভাবতে হবে। যেমন প্রথম অক্ষর দিয়ে একটি প্রাণীর নাম, একটি বস্তুর নাম বা কোনো ফলের নাম কল্পনা করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শব্দগুলোর মধ্যে যেন কোনো সম্পর্ক না থাকে।

প্রতিটি শব্দ ভাবার সময় কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার একটি মানসিক ছবি কল্পনা করতে হবে। তারপর পরবর্তী শব্দে চলে যেতে হবে। এভাবে মন ধীরে ধীরে এক ধরনের শান্ত ও এলোমেলো চিন্তার প্রবাহে প্রবেশ করে, যা ঘুমকে সহজ করে তোলে।

কেন কার্যকর এই পদ্ধতি

যখন মানুষ বিছানায় শুয়ে দিনের ঘটনা বা ভবিষ্যতের চিন্তা নিয়ে ভাবতে থাকে, তখন মস্তিষ্ক সতর্ক অবস্থায় থেকে যায়। ফলে শরীর বিশ্রামে থাকলেও মন ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয় না।

কগনিটিভ শাফলিং সেই চিন্তার ধারা ভেঙে দেয়। এটি মস্তিষ্ককে হালকা ও নিরপেক্ষ কাজে ব্যস্ত রাখে, ফলে উদ্বেগের জায়গা কমে যায়। একই সঙ্গে মন ধীরে ধীরে সক্রিয় চিন্তা থেকে ঘুমের উপযোগী শিথিল অবস্থায় চলে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সংখ্যা গোনার তুলনায় এই পদ্ধতি বেশি কার্যকর। কারণ সংখ্যা গোনা খুব দ্রুত একঘেয়ে হয়ে যায় এবং তখন মনের ভেতর আবারও উদ্বেগজনক চিন্তা ফিরে আসতে পারে। কিন্তু কগনিটিভ শাফলিং মস্তিষ্ককে সামান্য ব্যস্ত রাখে, আবার অতিরিক্ত উদ্দীপিতও করে না।

What to Do About Overthinking, Rumination, and Worrying

কারা বেশি উপকৃত হতে পারেন

যেসব মানুষের প্রধান সমস্যা হলো অতিরিক্ত চিন্তা বা মাথায় একের পর এক ভাবনার ঘূর্ণি, তাদের জন্য এই কৌশল বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে। কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক উদ্বেগ বা দৈনন্দিন মানসিক ক্লান্তি নিয়ে যারা বিছানায় যান, তারা এই পদ্ধতি থেকে সুবিধা পেতে পারেন।

তবে এটি সব ধরনের ঘুমের সমস্যার সমাধান নয়। দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ব্যাধি বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে ঘুম না এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘুম না এলেও আতঙ্ক নয়

অনেকেই কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘুম না এলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোয়ার পর কিছু সময় জেগে থাকা স্বাভাবিক বিষয়। সমস্যা তখনই বাড়ে, যখন মানুষ ঘুম না আসা নিয়েই উদ্বিগ্ন হতে শুরু করে।

এই কারণেই কগনিটিভ শাফলিং কার্যকর। এটি মনকে উদ্বেগের চক্র থেকে বের করে এনে শান্তভাবে অপেক্ষা করার একটি পথ তৈরি করে। ফলে ঘুম না আসার চাপও কমে যায় এবং ঘুম আসার সম্ভাবনা বাড়ে।

Insomnia: Causes, Symptoms, What to Do When You Can't Sleep

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ঘুম আসছে না? ‘মনের তাস মেশানো’ কৌশলেই মিলতে পারে শান্তির ঘুম

১১:০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রাত গভীর হচ্ছে, কিন্তু ঘুমের দেখা নেই। দিনের কাজ, ভবিষ্যতের চিন্তা কিংবা নানা উদ্বেগ মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকে। অনেকেই তখন ভেঙে ভেঙে সংখ্যা গোনেন বা অন্য কোনো উপায়ে ঘুম আনার চেষ্টা করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্থির মনকে শান্ত করার জন্য আরও কার্যকর একটি মানসিক কৌশল রয়েছে, যা দ্রুত ঘুমের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এই কৌশলটির নাম ‘কগনিটিভ শাফলিং’ বা সহজ ভাষায় ‘মনের তাস মেশানো’। এর উদ্দেশ্য হলো মস্তিষ্ককে এমন কিছু নিরপেক্ষ চিন্তায় ব্যস্ত রাখা, যা মনকে উদ্বেগ থেকে সরিয়ে ধীরে ধীরে ঘুমের দিকে নিয়ে যায়।

কীভাবে করবেন এই কৌশল

বিছানায় শোয়ার পর এমন একটি শব্দ বেছে নিতে হবে, যার সঙ্গে কোনো আবেগ বা দুশ্চিন্তার সম্পর্ক নেই। শব্দটি মাঝারি দৈর্ঘ্যের হলে ভালো হয়।

Overthinking: Can't sleep? How thought blocking can help

ধরা যাক আপনি একটি সাধারণ শব্দ বেছে নিলেন। এরপর সেই শব্দের প্রতিটি অক্ষর ধরে নতুন নতুন অসংলগ্ন শব্দ ভাবতে হবে। যেমন প্রথম অক্ষর দিয়ে একটি প্রাণীর নাম, একটি বস্তুর নাম বা কোনো ফলের নাম কল্পনা করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শব্দগুলোর মধ্যে যেন কোনো সম্পর্ক না থাকে।

প্রতিটি শব্দ ভাবার সময় কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার একটি মানসিক ছবি কল্পনা করতে হবে। তারপর পরবর্তী শব্দে চলে যেতে হবে। এভাবে মন ধীরে ধীরে এক ধরনের শান্ত ও এলোমেলো চিন্তার প্রবাহে প্রবেশ করে, যা ঘুমকে সহজ করে তোলে।

কেন কার্যকর এই পদ্ধতি

যখন মানুষ বিছানায় শুয়ে দিনের ঘটনা বা ভবিষ্যতের চিন্তা নিয়ে ভাবতে থাকে, তখন মস্তিষ্ক সতর্ক অবস্থায় থেকে যায়। ফলে শরীর বিশ্রামে থাকলেও মন ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয় না।

কগনিটিভ শাফলিং সেই চিন্তার ধারা ভেঙে দেয়। এটি মস্তিষ্ককে হালকা ও নিরপেক্ষ কাজে ব্যস্ত রাখে, ফলে উদ্বেগের জায়গা কমে যায়। একই সঙ্গে মন ধীরে ধীরে সক্রিয় চিন্তা থেকে ঘুমের উপযোগী শিথিল অবস্থায় চলে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সংখ্যা গোনার তুলনায় এই পদ্ধতি বেশি কার্যকর। কারণ সংখ্যা গোনা খুব দ্রুত একঘেয়ে হয়ে যায় এবং তখন মনের ভেতর আবারও উদ্বেগজনক চিন্তা ফিরে আসতে পারে। কিন্তু কগনিটিভ শাফলিং মস্তিষ্ককে সামান্য ব্যস্ত রাখে, আবার অতিরিক্ত উদ্দীপিতও করে না।

What to Do About Overthinking, Rumination, and Worrying

কারা বেশি উপকৃত হতে পারেন

যেসব মানুষের প্রধান সমস্যা হলো অতিরিক্ত চিন্তা বা মাথায় একের পর এক ভাবনার ঘূর্ণি, তাদের জন্য এই কৌশল বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে। কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক উদ্বেগ বা দৈনন্দিন মানসিক ক্লান্তি নিয়ে যারা বিছানায় যান, তারা এই পদ্ধতি থেকে সুবিধা পেতে পারেন।

তবে এটি সব ধরনের ঘুমের সমস্যার সমাধান নয়। দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ব্যাধি বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে ঘুম না এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘুম না এলেও আতঙ্ক নয়

অনেকেই কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘুম না এলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোয়ার পর কিছু সময় জেগে থাকা স্বাভাবিক বিষয়। সমস্যা তখনই বাড়ে, যখন মানুষ ঘুম না আসা নিয়েই উদ্বিগ্ন হতে শুরু করে।

এই কারণেই কগনিটিভ শাফলিং কার্যকর। এটি মনকে উদ্বেগের চক্র থেকে বের করে এনে শান্তভাবে অপেক্ষা করার একটি পথ তৈরি করে। ফলে ঘুম না আসার চাপও কমে যায় এবং ঘুম আসার সম্ভাবনা বাড়ে।

Insomnia: Causes, Symptoms, What to Do When You Can't Sleep