০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

চাকরি পেতে নেটওয়ার্কিংয়ে যে ভুলগুলো আপনাকে সবার অপছন্দের করে তুলতে পারে

চাকরির বাজার যখন প্রতিযোগিতাপূর্ণ, তখন শুধু ভালো জীবনবৃত্তান্ত বা দক্ষতা থাকলেই সব সময় কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়া যায় না। পেশাগত পরিচিতি ও সম্পর্কও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করতে গিয়ে কিছু ভুল উল্টো আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।

কর্মজীবন বিশেষজ্ঞদের মতে, নেটওয়ার্কিংয়ের সবচেয়ে বড় ভুল হলো এটিকে শুধু নিজের প্রয়োজন পূরণের মাধ্যম হিসেবে দেখা। চাকরি দরকার হলেই পুরোনো পরিচিতদের খোঁজ করা, সবার কাছে একই ধরনের বার্তা পাঠানো কিংবা নিজের কথাই শুধু বলে যাওয়া—এসব আচরণ মানুষকে বিরক্ত করতে পারে।

একই বার্তা সবাইকে পাঠাবেন না

পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে একই ধরনের ছকে বাঁধা বার্তা পাঠানো এড়িয়ে চলা উচিত। যাকে যোগাযোগ করছেন, তার কাজ, অভিজ্ঞতা বা আগ্রহ সম্পর্কে সামান্য হলেও ধারণা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লেখা বেশি কার্যকর।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কারও কাছে যদি ১৫ মিনিট সময় চান, তাহলে তার জন্য নিজের অন্তত ১৫ মিনিট প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। অর্থাৎ, ওই ব্যক্তির কাজ সম্পর্কে জেনে তারপর যোগাযোগ করলে আপনার আগ্রহটি আন্তরিক বলে মনে হবে।

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভর করাও ঠিক নয়। অনলাইনে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরাসরি কথোপকথন এখনো পেশাগত সম্পর্ক তৈরির অন্যতম কার্যকর উপায়।

বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও পেশাদার থাকুন

নেটওয়ার্কিংয়ের সময় অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক হওয়া যেমন প্রয়োজন নেই, তেমনি অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টাও বিপরীত ফল দিতে পারে। বিশেষ করে সরাসরি পেশাগত অনুষ্ঠানে নিজের আচরণ ও কথাবার্তায় সংযম রাখা জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের সময়ও পেশাদার ভাষা ও পরিচিতি বজায় রাখা উচিত। তরুণ কর্মীদের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ আর পেশাদারিত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

সাক্ষাতের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী করমর্দন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন উপস্থিতি এবং আত্মবিশ্বাসী আচরণ ইতিবাচক ছাপ তৈরি করতে পারে।5 Professional Networking Mistakes and How to Fix Them | CIO

যে পেশায় যাচ্ছেন, সেই অনুযায়ী পোশাক পরুন

সরাসরি কোনো পেশাগত অনুষ্ঠানে গেলে পোশাকও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব শিল্প বা প্রতিষ্ঠানের পোশাকের ধরন এক নয়।

প্রযুক্তি খাতের কোনো অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক পোশাক যেমন বেমানান লাগতে পারে, আইন পেশার কোনো অনুষ্ঠানে একই পোশাক স্বাভাবিক হতে পারে। তাই যে পরিবেশে যাচ্ছেন, সেখানকার প্রচলিত পোশাক সম্পর্কে আগে ধারণা নেওয়া ভালো।

অনলাইন বৈঠকের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। ক্যামেরার পেছনের পরিবেশ, চুল, পোশাক ও সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখা উচিত।

চাকরি দরকার হওয়ার আগেই সম্পর্ক তৈরি করুন

নেটওয়ার্কিংয়ের সবচেয়ে প্রচলিত ভুলগুলোর একটি হলো চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পর হঠাৎ সবার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে বা চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে অনেকেই পরিচিতদের কাছে ছুটে যান। তখন একই ধরনের অনুরোধ নিয়ে অনেকের কাছে পৌঁছানোয় আপনার বার্তা আলাদা করে নজর কাড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

বরং চাকরি ভালোভাবে চলার সময় থেকেই পরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। মাঝেমধ্যে খোঁজ নেওয়া, তাদের কাজ বা আগ্রহ নিয়ে কথা বলা কিংবা কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই যোগাযোগ করা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

শুধু নিজের কথা বলবেন না

নেটওয়ার্কিংকে নিজের সাফল্যের গল্প বলার মঞ্চ বানানোও বড় ভুল। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার প্রয়োজন আছে, কিন্তু পুরো কথোপকথন যদি শুধু আপনাকে ঘিরে থাকে, তাহলে অন্য ব্যক্তি আগ্রহ হারাতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেয়ে মানুষকে বোঝার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া। যার সঙ্গে কথা বলছেন, তার কাজ, অভিজ্ঞতা, আগ্রহ বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নির্দিষ্ট প্রশ্ন করুন।

নিজের পরিচয় দেওয়ার সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় বক্তব্য থাকা ভালো, কিন্তু সেটিই যেন পুরো কথোপকথনের কেন্দ্র না হয়ে যায়।

প্রথম পরিচয়েই বেশি কিছু চাইবেন না

নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে অনুরোধ করারও একটা সীমা আছে। ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে যে ধরনের সাহায্য চাওয়া যায়, দূরের কোনো পেশাগত পরিচিতের কাছে একই ধরনের বড় অনুরোধ করা ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও কাছে কী চাইছেন, সেটি নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত। প্রথম যোগাযোগেই একাধিক সুবিধা বা বড় ধরনের সহযোগিতা চাওয়া অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

বরং আপনি কীভাবে ওই ব্যক্তিকে কোনো মূল্য দিতে পারেন, সেটিও ভাবা দরকার। শুধু তথ্য নেওয়ার চেষ্টা না করে নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা সহায়তার সুযোগ থাকলে তা দেওয়ার চেষ্টা সম্পর্ককে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে।

ধন্যবাদ জানাতে ভুলবেন না

কেউ সময় দিয়ে কথা বললে বা পরামর্শ দিলে পরে তাকে ধন্যবাদ জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথোপকথনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বা পরের দিন একটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় কৃতজ্ঞতা জানানো ভালো অভ্যাস।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, কয়েক সপ্তাহ পর জানানো যে তার দেওয়া পরামর্শ আপনি কীভাবে কাজে লাগিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, আপনি শুধু সাহায্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেননি; তার সময় ও পরামর্শকে সত্যিই গুরুত্ব দিয়েছেন।

নেটওয়ার্কিং শেষ পর্যন্ত শুধু পরিচিত মানুষের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয় নয়। এটি বিশ্বাস, পারস্পরিক সম্মান এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির প্রক্রিয়া। তাই চাকরি পাওয়ার তাড়নায় সম্পর্ককে ব্যবহার করার বদলে নিয়মিত আন্তরিক যোগাযোগ বজায় রাখাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

চাকরি পেতে নেটওয়ার্কিংয়ে যে ভুলগুলো আপনাকে সবার অপছন্দের করে তুলতে পারে

০৭:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

চাকরির বাজার যখন প্রতিযোগিতাপূর্ণ, তখন শুধু ভালো জীবনবৃত্তান্ত বা দক্ষতা থাকলেই সব সময় কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়া যায় না। পেশাগত পরিচিতি ও সম্পর্কও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করতে গিয়ে কিছু ভুল উল্টো আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।

কর্মজীবন বিশেষজ্ঞদের মতে, নেটওয়ার্কিংয়ের সবচেয়ে বড় ভুল হলো এটিকে শুধু নিজের প্রয়োজন পূরণের মাধ্যম হিসেবে দেখা। চাকরি দরকার হলেই পুরোনো পরিচিতদের খোঁজ করা, সবার কাছে একই ধরনের বার্তা পাঠানো কিংবা নিজের কথাই শুধু বলে যাওয়া—এসব আচরণ মানুষকে বিরক্ত করতে পারে।

একই বার্তা সবাইকে পাঠাবেন না

পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে একই ধরনের ছকে বাঁধা বার্তা পাঠানো এড়িয়ে চলা উচিত। যাকে যোগাযোগ করছেন, তার কাজ, অভিজ্ঞতা বা আগ্রহ সম্পর্কে সামান্য হলেও ধারণা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লেখা বেশি কার্যকর।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কারও কাছে যদি ১৫ মিনিট সময় চান, তাহলে তার জন্য নিজের অন্তত ১৫ মিনিট প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। অর্থাৎ, ওই ব্যক্তির কাজ সম্পর্কে জেনে তারপর যোগাযোগ করলে আপনার আগ্রহটি আন্তরিক বলে মনে হবে।

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভর করাও ঠিক নয়। অনলাইনে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরাসরি কথোপকথন এখনো পেশাগত সম্পর্ক তৈরির অন্যতম কার্যকর উপায়।

বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও পেশাদার থাকুন

নেটওয়ার্কিংয়ের সময় অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক হওয়া যেমন প্রয়োজন নেই, তেমনি অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টাও বিপরীত ফল দিতে পারে। বিশেষ করে সরাসরি পেশাগত অনুষ্ঠানে নিজের আচরণ ও কথাবার্তায় সংযম রাখা জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের সময়ও পেশাদার ভাষা ও পরিচিতি বজায় রাখা উচিত। তরুণ কর্মীদের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ আর পেশাদারিত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

সাক্ষাতের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী করমর্দন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন উপস্থিতি এবং আত্মবিশ্বাসী আচরণ ইতিবাচক ছাপ তৈরি করতে পারে।5 Professional Networking Mistakes and How to Fix Them | CIO

যে পেশায় যাচ্ছেন, সেই অনুযায়ী পোশাক পরুন

সরাসরি কোনো পেশাগত অনুষ্ঠানে গেলে পোশাকও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব শিল্প বা প্রতিষ্ঠানের পোশাকের ধরন এক নয়।

প্রযুক্তি খাতের কোনো অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক পোশাক যেমন বেমানান লাগতে পারে, আইন পেশার কোনো অনুষ্ঠানে একই পোশাক স্বাভাবিক হতে পারে। তাই যে পরিবেশে যাচ্ছেন, সেখানকার প্রচলিত পোশাক সম্পর্কে আগে ধারণা নেওয়া ভালো।

অনলাইন বৈঠকের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। ক্যামেরার পেছনের পরিবেশ, চুল, পোশাক ও সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখা উচিত।

চাকরি দরকার হওয়ার আগেই সম্পর্ক তৈরি করুন

নেটওয়ার্কিংয়ের সবচেয়ে প্রচলিত ভুলগুলোর একটি হলো চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পর হঠাৎ সবার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে বা চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে অনেকেই পরিচিতদের কাছে ছুটে যান। তখন একই ধরনের অনুরোধ নিয়ে অনেকের কাছে পৌঁছানোয় আপনার বার্তা আলাদা করে নজর কাড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

বরং চাকরি ভালোভাবে চলার সময় থেকেই পরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। মাঝেমধ্যে খোঁজ নেওয়া, তাদের কাজ বা আগ্রহ নিয়ে কথা বলা কিংবা কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই যোগাযোগ করা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

শুধু নিজের কথা বলবেন না

নেটওয়ার্কিংকে নিজের সাফল্যের গল্প বলার মঞ্চ বানানোও বড় ভুল। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার প্রয়োজন আছে, কিন্তু পুরো কথোপকথন যদি শুধু আপনাকে ঘিরে থাকে, তাহলে অন্য ব্যক্তি আগ্রহ হারাতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেয়ে মানুষকে বোঝার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া। যার সঙ্গে কথা বলছেন, তার কাজ, অভিজ্ঞতা, আগ্রহ বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নির্দিষ্ট প্রশ্ন করুন।

নিজের পরিচয় দেওয়ার সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় বক্তব্য থাকা ভালো, কিন্তু সেটিই যেন পুরো কথোপকথনের কেন্দ্র না হয়ে যায়।

প্রথম পরিচয়েই বেশি কিছু চাইবেন না

নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে অনুরোধ করারও একটা সীমা আছে। ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে যে ধরনের সাহায্য চাওয়া যায়, দূরের কোনো পেশাগত পরিচিতের কাছে একই ধরনের বড় অনুরোধ করা ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও কাছে কী চাইছেন, সেটি নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত। প্রথম যোগাযোগেই একাধিক সুবিধা বা বড় ধরনের সহযোগিতা চাওয়া অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

বরং আপনি কীভাবে ওই ব্যক্তিকে কোনো মূল্য দিতে পারেন, সেটিও ভাবা দরকার। শুধু তথ্য নেওয়ার চেষ্টা না করে নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা সহায়তার সুযোগ থাকলে তা দেওয়ার চেষ্টা সম্পর্ককে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে।

ধন্যবাদ জানাতে ভুলবেন না

কেউ সময় দিয়ে কথা বললে বা পরামর্শ দিলে পরে তাকে ধন্যবাদ জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথোপকথনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বা পরের দিন একটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় কৃতজ্ঞতা জানানো ভালো অভ্যাস।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, কয়েক সপ্তাহ পর জানানো যে তার দেওয়া পরামর্শ আপনি কীভাবে কাজে লাগিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, আপনি শুধু সাহায্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেননি; তার সময় ও পরামর্শকে সত্যিই গুরুত্ব দিয়েছেন।

নেটওয়ার্কিং শেষ পর্যন্ত শুধু পরিচিত মানুষের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয় নয়। এটি বিশ্বাস, পারস্পরিক সম্মান এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির প্রক্রিয়া। তাই চাকরি পাওয়ার তাড়নায় সম্পর্ককে ব্যবহার করার বদলে নিয়মিত আন্তরিক যোগাযোগ বজায় রাখাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।