০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

চীনের চাপের মুখে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি থেকে সংকটের বাস্তবতা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া একসময় মনে করেছিল চীনের উত্থান তাদের জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠবে। চীনের ‘মেরিটাইম সিল্ক রোড’ এবং বৃহৎ অবকাঠামো বিনিয়োগ এই অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। গত এক দশকে প্রায় ১২৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে অঞ্চলটি চীনের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার হয়ে ওঠে।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই আশাবাদ এখন অনেকটাই ম্লান। চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব এখন অনেক দেশের জন্য সুবিধার চেয়ে চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা ও বাণিজ্য ঘাটতি
চীনের সস্তা পণ্যের প্রবাহে স্থানীয় শিল্পগুলো ধাক্কা খাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার টেক্সটাইল থেকে থাইল্যান্ডের ইস্পাত শিল্প—সবখানেই প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বেড়েছে।

চীনা বিনিয়োগ থাকলেও এর সুফল পুরোপুরি স্থানীয় অর্থনীতিতে পৌঁছাচ্ছে না। উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং প্রযুক্তি চীনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে প্রযুক্তি স্থানান্তর বা শিল্প উন্নয়ন প্রত্যাশিত মাত্রায় ঘটছে না।

ASEAN will struggle to escape US-China squeeze-Raychaudhuri | Reuters

‘দ্বিতীয় চীন শক’ এবং বাড়ছে অসন্তোষ
২০০১ সালে চীনের বিশ্ব বাণিজ্যে প্রবেশের সময় যে ‘চীন শক’ দেখা গিয়েছিল, এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া একই ধরনের নতুন চাপের মুখে পড়েছে। চীনা পণ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ এবং বিনিয়োগের ফলে অনেক দেশে স্থানীয় ক্ষোভ বাড়ছে।

বিশেষ করে খনি, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে অনিয়ম, জুয়া, প্রতারণা চক্র এবং অপরাধের বিস্তার জনঅসন্তোষ বাড়িয়েছে।

‘ফ্লাইং গিজ’ মডেলের সীমাবদ্ধতা
অর্থনীতিবিদরা একসময় মনে করতেন, চীন উন্নত শিল্পে এগিয়ে গেলে নিম্নমূল্যের শিল্প দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্থানান্তর হবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটছে না।

চীন উচ্চমূল্যের শিল্প নিজের কাছে রেখে শুধু শ্রমনির্ভর অংশগুলো বাইরে সরাচ্ছে। ফলে উৎপাদনের বড় লাভ চীনের হাতেই থাকছে। উদাহরণ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় নিকেল শিল্পে চীনা নিয়ন্ত্রণ প্রায় ৭৫ শতাংশ, অথচ মোট উৎপাদন মূল্য থেকে দেশটি পাচ্ছে মাত্র ১০ শতাংশের মতো।

স্থানীয় শিল্পে চাপ ও কর্মসংস্থানে ধস
চীনা কোম্পানিগুলো স্থানীয় সরবরাহকারীদের বদলে নিজেদের সরবরাহ চেইন ব্যবহার করে। ফলে স্থানীয় শিল্প পিছিয়ে পড়ছে।

থাইল্যান্ডে চীনা গাড়ি কারখানা চালু হওয়ার পর সস্তা যন্ত্রাংশের কারণে স্থানীয় সরবরাহকারীদের বিক্রি ২০ শতাংশ কমে যায়। আবার ইন্দোনেশিয়ায় সস্তা চীনা পোশাক আমদানির কারণে প্রায় ৮০ হাজার চাকরি হারিয়ে যায়।

Automakers from China on ASEAN 'drive' - Chinadaily.com.cn

প্রযুক্তি খাতে প্রতিযোগিতা
চীন নিজস্ব প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর খাতে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম এগোচ্ছিল, কিন্তু চীন নিজস্ব উৎপাদন বাড়ালে এই বাজার সংকুচিত হতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও শাসন সংকট
অর্থনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো। আইন প্রয়োগের দুর্বলতা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা অনেক দেশে চীনা বিনিয়োগকে অনিয়ন্ত্রিত করে তুলেছে।

ইন্দোনেশিয়ায় চীনা প্রকল্প ঘিরে শ্রমিক বিক্ষোভ, পরিবেশ দূষণ এবং সহিংসতা দেখা গেছে। রেমপাং দ্বীপে শিল্পাঞ্চল গড়তে গিয়ে উচ্ছেদ নিয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়।

অপরাধ ও অর্থপাচারের বিস্তার
মিয়ানমার, কম্বোডিয়া এবং এমনকি সিঙ্গাপুরেও চীনা অর্থের সঙ্গে জড়িত প্রতারণা, মানব পাচার ও অর্থপাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। অনেক জায়গায় চীনা বিনিয়োগ অপরাধ চক্রের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

সরকারের নীরবতা ও নির্ভরতা
চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে অনেক সরকার এসব সমস্যার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, চীনা ভর্তুকিপ্রাপ্ত পণ্যের বিরুদ্ধে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো খুবই সীমিত ব্যবস্থা নিয়েছে।

Asean struggles to escape US-China squeeze | FMT

 

সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয়
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রথমত, বাণিজ্য অংশীদার বৈচিত্র্য করা জরুরি। ইউরোপ, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ালে নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত উৎপাদন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক ঐক্য জোরদার করা প্রয়োজন। এককভাবে নয়, বরং সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এই দেশগুলো বড় শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে।

তৃতীয়ত, মানবসম্পদ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি না হলে উচ্চ প্রযুক্তির শিল্পে প্রতিযোগিতা সম্ভব নয়।

চূড়ান্ত বাস্তবতা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া চীন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হতে পারবে না—অর্থনৈতিক সম্পর্ক অনেক গভীর। তবে বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধান না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সুশাসন এবং কার্যকর নীতিমালা ছাড়া এই অঞ্চল চীনের প্রবৃদ্ধি থেকে লাভবান হওয়ার বদলে চাপের মুখেই থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

চীনের চাপের মুখে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি থেকে সংকটের বাস্তবতা

০১:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া একসময় মনে করেছিল চীনের উত্থান তাদের জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠবে। চীনের ‘মেরিটাইম সিল্ক রোড’ এবং বৃহৎ অবকাঠামো বিনিয়োগ এই অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। গত এক দশকে প্রায় ১২৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে অঞ্চলটি চীনের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার হয়ে ওঠে।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই আশাবাদ এখন অনেকটাই ম্লান। চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব এখন অনেক দেশের জন্য সুবিধার চেয়ে চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা ও বাণিজ্য ঘাটতি
চীনের সস্তা পণ্যের প্রবাহে স্থানীয় শিল্পগুলো ধাক্কা খাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার টেক্সটাইল থেকে থাইল্যান্ডের ইস্পাত শিল্প—সবখানেই প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বেড়েছে।

চীনা বিনিয়োগ থাকলেও এর সুফল পুরোপুরি স্থানীয় অর্থনীতিতে পৌঁছাচ্ছে না। উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং প্রযুক্তি চীনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে প্রযুক্তি স্থানান্তর বা শিল্প উন্নয়ন প্রত্যাশিত মাত্রায় ঘটছে না।

ASEAN will struggle to escape US-China squeeze-Raychaudhuri | Reuters

‘দ্বিতীয় চীন শক’ এবং বাড়ছে অসন্তোষ
২০০১ সালে চীনের বিশ্ব বাণিজ্যে প্রবেশের সময় যে ‘চীন শক’ দেখা গিয়েছিল, এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া একই ধরনের নতুন চাপের মুখে পড়েছে। চীনা পণ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ এবং বিনিয়োগের ফলে অনেক দেশে স্থানীয় ক্ষোভ বাড়ছে।

বিশেষ করে খনি, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে অনিয়ম, জুয়া, প্রতারণা চক্র এবং অপরাধের বিস্তার জনঅসন্তোষ বাড়িয়েছে।

‘ফ্লাইং গিজ’ মডেলের সীমাবদ্ধতা
অর্থনীতিবিদরা একসময় মনে করতেন, চীন উন্নত শিল্পে এগিয়ে গেলে নিম্নমূল্যের শিল্প দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্থানান্তর হবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটছে না।

চীন উচ্চমূল্যের শিল্প নিজের কাছে রেখে শুধু শ্রমনির্ভর অংশগুলো বাইরে সরাচ্ছে। ফলে উৎপাদনের বড় লাভ চীনের হাতেই থাকছে। উদাহরণ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় নিকেল শিল্পে চীনা নিয়ন্ত্রণ প্রায় ৭৫ শতাংশ, অথচ মোট উৎপাদন মূল্য থেকে দেশটি পাচ্ছে মাত্র ১০ শতাংশের মতো।

স্থানীয় শিল্পে চাপ ও কর্মসংস্থানে ধস
চীনা কোম্পানিগুলো স্থানীয় সরবরাহকারীদের বদলে নিজেদের সরবরাহ চেইন ব্যবহার করে। ফলে স্থানীয় শিল্প পিছিয়ে পড়ছে।

থাইল্যান্ডে চীনা গাড়ি কারখানা চালু হওয়ার পর সস্তা যন্ত্রাংশের কারণে স্থানীয় সরবরাহকারীদের বিক্রি ২০ শতাংশ কমে যায়। আবার ইন্দোনেশিয়ায় সস্তা চীনা পোশাক আমদানির কারণে প্রায় ৮০ হাজার চাকরি হারিয়ে যায়।

Automakers from China on ASEAN 'drive' - Chinadaily.com.cn

প্রযুক্তি খাতে প্রতিযোগিতা
চীন নিজস্ব প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর খাতে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম এগোচ্ছিল, কিন্তু চীন নিজস্ব উৎপাদন বাড়ালে এই বাজার সংকুচিত হতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও শাসন সংকট
অর্থনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো। আইন প্রয়োগের দুর্বলতা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা অনেক দেশে চীনা বিনিয়োগকে অনিয়ন্ত্রিত করে তুলেছে।

ইন্দোনেশিয়ায় চীনা প্রকল্প ঘিরে শ্রমিক বিক্ষোভ, পরিবেশ দূষণ এবং সহিংসতা দেখা গেছে। রেমপাং দ্বীপে শিল্পাঞ্চল গড়তে গিয়ে উচ্ছেদ নিয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়।

অপরাধ ও অর্থপাচারের বিস্তার
মিয়ানমার, কম্বোডিয়া এবং এমনকি সিঙ্গাপুরেও চীনা অর্থের সঙ্গে জড়িত প্রতারণা, মানব পাচার ও অর্থপাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। অনেক জায়গায় চীনা বিনিয়োগ অপরাধ চক্রের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

সরকারের নীরবতা ও নির্ভরতা
চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে অনেক সরকার এসব সমস্যার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, চীনা ভর্তুকিপ্রাপ্ত পণ্যের বিরুদ্ধে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো খুবই সীমিত ব্যবস্থা নিয়েছে।

Asean struggles to escape US-China squeeze | FMT

 

সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয়
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রথমত, বাণিজ্য অংশীদার বৈচিত্র্য করা জরুরি। ইউরোপ, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ালে নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত উৎপাদন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক ঐক্য জোরদার করা প্রয়োজন। এককভাবে নয়, বরং সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এই দেশগুলো বড় শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে।

তৃতীয়ত, মানবসম্পদ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি না হলে উচ্চ প্রযুক্তির শিল্পে প্রতিযোগিতা সম্ভব নয়।

চূড়ান্ত বাস্তবতা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া চীন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হতে পারবে না—অর্থনৈতিক সম্পর্ক অনেক গভীর। তবে বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধান না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সুশাসন এবং কার্যকর নীতিমালা ছাড়া এই অঞ্চল চীনের প্রবৃদ্ধি থেকে লাভবান হওয়ার বদলে চাপের মুখেই থাকবে।