০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

চীনের প্রযুক্তি আটকে রাখার কৌশল, তবু বিশ্ব কি থামবে?

বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তির অঙ্গনে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। আগে যেখানে চীনে অতিরিক্ত প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে উদ্বেগ ছিল, এখন উল্টো আশঙ্কা—চীন নিজস্ব উন্নত প্রযুক্তি বাইরে যেতে দিচ্ছে না। এতে পশ্চিমা দেশ ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো নতুন করে চিন্তায় পড়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, চীন কি সত্যিই তার প্রযুক্তিকে পুরোপুরি ঘিরে রাখতে পারবে?

প্রযুক্তি প্রবাহের নতুন বাস্তবতা

গত এক বছরে চিত্র অনেকটাই বদলেছে। আগে পশ্চিমা প্রযুক্তি চীনের হাতে চলে যাওয়া নিয়ে আলোচনা ছিল বেশি। এখন উল্টোভাবে দেখা যাচ্ছে, চীন তার ইলেকট্রিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট প্রযুক্তি অন্যদের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি আদান-প্রদানের প্রচলিত ধারা বদলে যাচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে জ্ঞান বা প্রযুক্তির প্রবাহ থেমে থাকে না। যাদের কাছে প্রযুক্তি আছে, তাদের কাছ থেকে যারা তা চায়, তাদের কাছে কোনো না কোনোভাবে তা পৌঁছায়।

How China's new auto giants left GM, VW and Tesla in the dust | Reuters

বাজারে প্রবেশের বিনিময়ে প্রযুক্তি

বর্তমানে অনেক দেশ নতুন কৌশল নিচ্ছে। তারা চীনা কোম্পানিকে নিজেদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে, তবে শর্ত দিচ্ছে—স্থানীয়ভাবে কারখানা স্থাপন করতে হবে। ইউরোপ ইতিমধ্যে এমন নীতির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে ব্যাটারি বা অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের শর্ত আরোপ করা হচ্ছে।

ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশও একই পথ অনুসরণ করছে। তারা চায়, চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের শিল্প ও প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে।

চীনের কড়া নিয়ন্ত্রণ

অন্যদিকে, চীন নিজেই প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা এমন একটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি রপ্তানির আগে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি প্রযুক্তির মতো খাতে এই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর।

এছাড়া প্রযুক্তি সংক্রান্ত কোম্পানির বিদেশি লেনদেনেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব কিছুটা জটিল হয়ে উঠছে।

চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

How China's EV Boom Powers Its Tech Rise

চীন নিজেই তিন দশক ধরে বিদেশি প্রযুক্তি গ্রহণ ও উন্নয়নের কৌশল তৈরি করেছে। যৌথ উদ্যোগ, স্থানীয় অংশীদারিত্ব, গবেষণা সহযোগিতা—সবকিছুর সমন্বয়ে তারা প্রযুক্তিতে এগিয়েছে। এখন অন্যান্য দেশও একই ধরনের পথ অনুসরণ করতে চাইছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি শুধু একটি নকশা বা যন্ত্র নয়; এটি একটি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা।

বিশ্ববাজারে নতুন সমীকরণ

বর্তমানে অনেক আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনে থেকেই বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি শিখছে। একই সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নতুন ধারণা ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ছে।

চীনের কঠোর নিয়ন্ত্রণ কখনো কখনো উল্টো ফলও দিতে পারে। অনেক তরুণ উদ্ভাবক যদি বিদেশে সুযোগ না পায়, তাহলে তারা শুরুতেই বিদেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করবে।

মাও সে তুংয়ের চীন আজ বিশ্বের কাছে উদাহরণ

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

সব মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে প্রযুক্তি একমুখী থাকবে না। বরং দুই দিকেই প্রবাহিত হবে—চীন থেকে বিশ্বে, আবার বিশ্ব থেকেও চীনে। যদিও বড় শক্তিগুলো এই প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে, তবুও পুরোপুরি থামানো কঠিন হবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, প্রযুক্তি নিয়ে এই টানাপোড়েন আসলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতারই নতুন রূপ, যেখানে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা একসঙ্গে চলছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

চীনের প্রযুক্তি আটকে রাখার কৌশল, তবু বিশ্ব কি থামবে?

০৩:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তির অঙ্গনে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। আগে যেখানে চীনে অতিরিক্ত প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে উদ্বেগ ছিল, এখন উল্টো আশঙ্কা—চীন নিজস্ব উন্নত প্রযুক্তি বাইরে যেতে দিচ্ছে না। এতে পশ্চিমা দেশ ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো নতুন করে চিন্তায় পড়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, চীন কি সত্যিই তার প্রযুক্তিকে পুরোপুরি ঘিরে রাখতে পারবে?

প্রযুক্তি প্রবাহের নতুন বাস্তবতা

গত এক বছরে চিত্র অনেকটাই বদলেছে। আগে পশ্চিমা প্রযুক্তি চীনের হাতে চলে যাওয়া নিয়ে আলোচনা ছিল বেশি। এখন উল্টোভাবে দেখা যাচ্ছে, চীন তার ইলেকট্রিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট প্রযুক্তি অন্যদের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি আদান-প্রদানের প্রচলিত ধারা বদলে যাচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে জ্ঞান বা প্রযুক্তির প্রবাহ থেমে থাকে না। যাদের কাছে প্রযুক্তি আছে, তাদের কাছ থেকে যারা তা চায়, তাদের কাছে কোনো না কোনোভাবে তা পৌঁছায়।

How China's new auto giants left GM, VW and Tesla in the dust | Reuters

বাজারে প্রবেশের বিনিময়ে প্রযুক্তি

বর্তমানে অনেক দেশ নতুন কৌশল নিচ্ছে। তারা চীনা কোম্পানিকে নিজেদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে, তবে শর্ত দিচ্ছে—স্থানীয়ভাবে কারখানা স্থাপন করতে হবে। ইউরোপ ইতিমধ্যে এমন নীতির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে ব্যাটারি বা অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের শর্ত আরোপ করা হচ্ছে।

ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশও একই পথ অনুসরণ করছে। তারা চায়, চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের শিল্প ও প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে।

চীনের কড়া নিয়ন্ত্রণ

অন্যদিকে, চীন নিজেই প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা এমন একটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি রপ্তানির আগে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি প্রযুক্তির মতো খাতে এই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর।

এছাড়া প্রযুক্তি সংক্রান্ত কোম্পানির বিদেশি লেনদেনেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব কিছুটা জটিল হয়ে উঠছে।

চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

How China's EV Boom Powers Its Tech Rise

চীন নিজেই তিন দশক ধরে বিদেশি প্রযুক্তি গ্রহণ ও উন্নয়নের কৌশল তৈরি করেছে। যৌথ উদ্যোগ, স্থানীয় অংশীদারিত্ব, গবেষণা সহযোগিতা—সবকিছুর সমন্বয়ে তারা প্রযুক্তিতে এগিয়েছে। এখন অন্যান্য দেশও একই ধরনের পথ অনুসরণ করতে চাইছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি শুধু একটি নকশা বা যন্ত্র নয়; এটি একটি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা।

বিশ্ববাজারে নতুন সমীকরণ

বর্তমানে অনেক আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনে থেকেই বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি শিখছে। একই সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নতুন ধারণা ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ছে।

চীনের কঠোর নিয়ন্ত্রণ কখনো কখনো উল্টো ফলও দিতে পারে। অনেক তরুণ উদ্ভাবক যদি বিদেশে সুযোগ না পায়, তাহলে তারা শুরুতেই বিদেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করবে।

মাও সে তুংয়ের চীন আজ বিশ্বের কাছে উদাহরণ

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

সব মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে প্রযুক্তি একমুখী থাকবে না। বরং দুই দিকেই প্রবাহিত হবে—চীন থেকে বিশ্বে, আবার বিশ্ব থেকেও চীনে। যদিও বড় শক্তিগুলো এই প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে, তবুও পুরোপুরি থামানো কঠিন হবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, প্রযুক্তি নিয়ে এই টানাপোড়েন আসলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতারই নতুন রূপ, যেখানে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা একসঙ্গে চলছে।