০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড, সেনাবাহিনীতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নতুন বার্তা

চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে এবং লি শাংফুকে দুর্নীতির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। তবে সেই দণ্ডে দুই বছরের স্থগিতাদেশ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য জানায়। এই রায়কে চীনা সেনাবাহিনীতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শি জিনপিং সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি দমনে ব্যাপক অভিযান শুরু করেন। সেই অভিযানের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ। বিশেষ করে সামরিক নেতৃত্ব, অস্ত্র ক্রয় এবং পদোন্নতিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করার কথা বলে অভিযান চালানো হয়।

রকেট ফোর্সেও বড় ধাক্কা

২০২৩ সালে এই অভিযান আরও বড় আকার ধারণ করে, যখন চীনের এলিট রকেট ফোর্সে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। এই বাহিনীই চীনের পারমাণবিক অস্ত্র এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছে। পরে অভিযান আরও বিস্তৃত হয়ে সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

এ বছরের শুরুতে পিপলস লিবারেশন আর্মির শীর্ষ জেনারেল ঝাং ইউশিয়াকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি চীনের পলিটব্যুরোর সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে সামরিক নেতৃত্বের ভেতরে এই অভিযান নতুন রাজনৈতিক বার্তাও দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

লি শাংফুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সিনহুয়ার আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লি শাংফুর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ঘুষ গ্রহণ এবং অন্যদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে আরও উঠে আসে, তিনি রাজনৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি এবং নিজে ও ঘনিষ্ঠদের জন্য পদ ও সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রভাব ব্যবহার করেছেন।

China gives suspended death sentences to former defense ministers | CNN

অন্যদিকে ওয়েই ফেংহের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তদন্ত শুরু হয়। পরে ২০২৪ সালে সিনহুয়া জানায়, তিনি বিপুল অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন জনবল নিয়োগ ও পদায়নে অন্যদের অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। চীনা কর্তৃপক্ষ তার কর্মকাণ্ডকে “অত্যন্ত গুরুতর” এবং “ভয়াবহ ক্ষতিকর” বলে উল্লেখ করে।

দুই বছরের স্থগিতাদেশের অর্থ কী

চীনের আইনে মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে দুই বছরের স্থগিতাদেশ থাকলে সাধারণত তা পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়, যদি অভিযুক্ত ওই সময়ে নতুন কোনো অপরাধ না করেন। সিনহুয়া জানিয়েছে, ওয়েই এবং লির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

তবে সাজা পরিবর্তনের পরও তারা সারাজীবন কারাগারেই থাকবেন এবং ভবিষ্যতে তাদের দণ্ড হ্রাস বা প্যারোলে মুক্তির সুযোগ থাকবে না।

সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

চীনের সামরিক বাহিনীতে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআইএসএস এ বছর এক প্রতিবেদনে জানায়, ধারাবাহিক শুদ্ধি অভিযানের কারণে চীনা সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামোতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে দ্রুত আধুনিকায়ন হওয়া চীনা সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

চীনের সামরিক দুর্নীতি দমন

চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলায় মৃত্যুদণ্ড, সেনাবাহিনীতে শি জিনপিংয়ের অভিযান আরও কঠোর।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড, সেনাবাহিনীতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নতুন বার্তা

০৮:০২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে এবং লি শাংফুকে দুর্নীতির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। তবে সেই দণ্ডে দুই বছরের স্থগিতাদেশ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য জানায়। এই রায়কে চীনা সেনাবাহিনীতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শি জিনপিং সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি দমনে ব্যাপক অভিযান শুরু করেন। সেই অভিযানের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ। বিশেষ করে সামরিক নেতৃত্ব, অস্ত্র ক্রয় এবং পদোন্নতিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করার কথা বলে অভিযান চালানো হয়।

রকেট ফোর্সেও বড় ধাক্কা

২০২৩ সালে এই অভিযান আরও বড় আকার ধারণ করে, যখন চীনের এলিট রকেট ফোর্সে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। এই বাহিনীই চীনের পারমাণবিক অস্ত্র এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছে। পরে অভিযান আরও বিস্তৃত হয়ে সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

এ বছরের শুরুতে পিপলস লিবারেশন আর্মির শীর্ষ জেনারেল ঝাং ইউশিয়াকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি চীনের পলিটব্যুরোর সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে সামরিক নেতৃত্বের ভেতরে এই অভিযান নতুন রাজনৈতিক বার্তাও দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

লি শাংফুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সিনহুয়ার আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লি শাংফুর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ঘুষ গ্রহণ এবং অন্যদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে আরও উঠে আসে, তিনি রাজনৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি এবং নিজে ও ঘনিষ্ঠদের জন্য পদ ও সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রভাব ব্যবহার করেছেন।

China gives suspended death sentences to former defense ministers | CNN

অন্যদিকে ওয়েই ফেংহের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তদন্ত শুরু হয়। পরে ২০২৪ সালে সিনহুয়া জানায়, তিনি বিপুল অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন জনবল নিয়োগ ও পদায়নে অন্যদের অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। চীনা কর্তৃপক্ষ তার কর্মকাণ্ডকে “অত্যন্ত গুরুতর” এবং “ভয়াবহ ক্ষতিকর” বলে উল্লেখ করে।

দুই বছরের স্থগিতাদেশের অর্থ কী

চীনের আইনে মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে দুই বছরের স্থগিতাদেশ থাকলে সাধারণত তা পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়, যদি অভিযুক্ত ওই সময়ে নতুন কোনো অপরাধ না করেন। সিনহুয়া জানিয়েছে, ওয়েই এবং লির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

তবে সাজা পরিবর্তনের পরও তারা সারাজীবন কারাগারেই থাকবেন এবং ভবিষ্যতে তাদের দণ্ড হ্রাস বা প্যারোলে মুক্তির সুযোগ থাকবে না।

সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

চীনের সামরিক বাহিনীতে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআইএসএস এ বছর এক প্রতিবেদনে জানায়, ধারাবাহিক শুদ্ধি অভিযানের কারণে চীনা সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামোতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে দ্রুত আধুনিকায়ন হওয়া চীনা সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

চীনের সামরিক দুর্নীতি দমন

চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলায় মৃত্যুদণ্ড, সেনাবাহিনীতে শি জিনপিংয়ের অভিযান আরও কঠোর।