০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

চীনের সুপারকম্পিউটার আবার বিশ্বসেরা, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে এখনো চ্যালেঞ্জ

বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের তালিকায় আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে চীন। তিন বছর পর আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ফিরে এসে দেশটি শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রদর্শনই করেনি, বরং নিজস্ব চিপ ও কম্পিউটিং প্রযুক্তি উন্নয়নের অগ্রগতিও তুলে ধরেছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে চীনের পূর্ণ আধিপত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

দেশীয় প্রযুক্তিতে নতুন সাফল্য

চীনের শেনজেনে অবস্থিত জাতীয় সুপারকম্পিউটার কেন্দ্রে স্থাপিত ‘লাইনশাইন’ নামের সুপারকম্পিউটার বিশ্বের দ্রুততম কম্পিউটার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সুপারকম্পিউটার র‌্যাঙ্কিংয়ে এটি শীর্ষস্থান অর্জন করে প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই সুপারকম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়েছে দেশীয়ভাবে তৈরি ও নকশা করা চিপ। ফলে এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং চীনের স্বনির্ভর প্রযুক্তি উন্নয়নের সক্ষমতারও প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেলেও বিতর্ক আছে

China beats US with world's fastest supercomputer, but race not geared for AI  work

নতুন র‌্যাঙ্কিংয়ে চীনের লাইনশাইন পেছনে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের এল ক্যাপিটান সুপারকম্পিউটারকে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত এই শক্তিশালী সিস্টেমটি গবেষণা ও কৌশলগত বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত সুপারকম্পিউটার মূল্যায়নের পদ্ধতি বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুগের বাস্তব চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরে না। কারণ এসব র‌্যাঙ্কিং মূলত বৈজ্ঞানিক গণনা, গবেষণা এবং জটিল তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভিন্ন বাস্তবতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কম্পিউটিং সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি পৃথক পরীক্ষায় লাইনশাইনের অবস্থান ছিল চতুর্থ। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে প্রচলিত সুপারকম্পিউটিংয়ে এগিয়ে থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা এখনো অনেক বেশি উন্মুক্ত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য বিশেষভাবে তৈরি বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। এসব ব্যবস্থার অনেকগুলোই প্রচলিত সুপারকম্পিউটার তালিকার বাইরে থাকে। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রকৃত অবস্থান অনেক সময় আনুষ্ঠানিক র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রতিফলিত হয় না।

China beats US with world's fastest supercomputer, but race not geared for AI  work - CNBC TV18

প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার নতুন অধ্যায়

বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্য চীনের চিপ নকশা, কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কয়েক বছর ধরে প্রযুক্তি ও চিপ খাতে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে থেকেও দেশটি নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সুপারকম্পিউটার র‌্যাঙ্কিংয়ে অংশ নিয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করাকে অনেকেই চীনের প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

উন্নত চিপের সীমাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, লাইনশাইন সিস্টেমে সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ ব্যবহার করা হয়নি। উন্নত প্রযুক্তি ও চিপ উৎপাদনসংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ এখনো এই খাতে প্রভাব ফেলছে।

ফলে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের স্বীকৃতি পেলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শীর্ষস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা এখনো শেষ হয়নি। বরং আগামী বছরগুলোতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

চীনের সুপারকম্পিউটার আবার বিশ্বসেরা, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে এখনো চ্যালেঞ্জ

০১:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের তালিকায় আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে চীন। তিন বছর পর আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ফিরে এসে দেশটি শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রদর্শনই করেনি, বরং নিজস্ব চিপ ও কম্পিউটিং প্রযুক্তি উন্নয়নের অগ্রগতিও তুলে ধরেছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে চীনের পূর্ণ আধিপত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

দেশীয় প্রযুক্তিতে নতুন সাফল্য

চীনের শেনজেনে অবস্থিত জাতীয় সুপারকম্পিউটার কেন্দ্রে স্থাপিত ‘লাইনশাইন’ নামের সুপারকম্পিউটার বিশ্বের দ্রুততম কম্পিউটার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সুপারকম্পিউটার র‌্যাঙ্কিংয়ে এটি শীর্ষস্থান অর্জন করে প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই সুপারকম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়েছে দেশীয়ভাবে তৈরি ও নকশা করা চিপ। ফলে এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং চীনের স্বনির্ভর প্রযুক্তি উন্নয়নের সক্ষমতারও প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেলেও বিতর্ক আছে

China beats US with world's fastest supercomputer, but race not geared for AI  work

নতুন র‌্যাঙ্কিংয়ে চীনের লাইনশাইন পেছনে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের এল ক্যাপিটান সুপারকম্পিউটারকে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত এই শক্তিশালী সিস্টেমটি গবেষণা ও কৌশলগত বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত সুপারকম্পিউটার মূল্যায়নের পদ্ধতি বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুগের বাস্তব চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরে না। কারণ এসব র‌্যাঙ্কিং মূলত বৈজ্ঞানিক গণনা, গবেষণা এবং জটিল তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভিন্ন বাস্তবতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কম্পিউটিং সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি পৃথক পরীক্ষায় লাইনশাইনের অবস্থান ছিল চতুর্থ। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে প্রচলিত সুপারকম্পিউটিংয়ে এগিয়ে থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা এখনো অনেক বেশি উন্মুক্ত।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য বিশেষভাবে তৈরি বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। এসব ব্যবস্থার অনেকগুলোই প্রচলিত সুপারকম্পিউটার তালিকার বাইরে থাকে। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রকৃত অবস্থান অনেক সময় আনুষ্ঠানিক র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রতিফলিত হয় না।

China beats US with world's fastest supercomputer, but race not geared for AI  work - CNBC TV18

প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার নতুন অধ্যায়

বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্য চীনের চিপ নকশা, কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কয়েক বছর ধরে প্রযুক্তি ও চিপ খাতে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে থেকেও দেশটি নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সুপারকম্পিউটার র‌্যাঙ্কিংয়ে অংশ নিয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করাকে অনেকেই চীনের প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

উন্নত চিপের সীমাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, লাইনশাইন সিস্টেমে সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ ব্যবহার করা হয়নি। উন্নত প্রযুক্তি ও চিপ উৎপাদনসংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ এখনো এই খাতে প্রভাব ফেলছে।

ফলে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের স্বীকৃতি পেলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শীর্ষস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা এখনো শেষ হয়নি। বরং আগামী বছরগুলোতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।