১২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

চীন থেকে কমছে মার্কিন শিক্ষার্থী, বদলে যাচ্ছে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের চীনে পড়াশোনা ও গবেষণার সংখ্যা কমে যাওয়ায় দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চীন সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কমে গেলে ভবিষ্যতে কূটনীতি, বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

চীনে মার্কিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক বছরের ব্যবধানে বড় ধরনের কমেছে। একসময় যেখানে হাজার হাজার মার্কিন তরুণ চীনে ভাষা শেখা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার জন্য যেতেন, এখন সেই আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে।

শিক্ষার্থী বিনিময়ে বড় পরিবর্তন

২০১৯ সালের পর থেকে চীনে পড়তে যাওয়া মার্কিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত কমেছে। করোনা মহামারির প্রভাব, দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এই পরিবর্তনের বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, চীনে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি বা বিশেষ নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। আবার কেউ কেউ চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ হিসেবে দেখার কারণে সেখানে যাওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছেন।

Fewer US students are studying in China | The Straits Times

সরাসরি অভিজ্ঞতার গুরুত্ব কমছে

যেসব শিক্ষার্থী এখনো চীনে যাচ্ছেন, তারা বলছেন, দেশটিকে কাছ থেকে দেখা তাদের ধারণা বদলে দিয়েছে। চীনের শহর, সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাপন ও উন্নয়ন সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা তাদের চিন্তাভাবনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশকে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও শিক্ষাগত বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় দুই দেশের যৌথ কর্মসূচি সীমিত করেছে। মার্কিন সরকারের নজরদারি ও সতর্ক বার্তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

Fewer US students are studying in China | The Straits Times

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও অতিরিক্ত বাধা তৈরি করলে ভবিষ্যতে চীন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ তৈরির পথ সংকুচিত হতে পারে।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চীন সম্পর্কে দক্ষ নতুন প্রজন্মের গবেষক ও নীতিনির্ধারক তৈরি না হলে ভবিষ্যতে দুই দেশের জটিল সম্পর্ক সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু তরুণ শিক্ষার্থী আবার চীনে যাওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা মনে করছেন, প্রতিযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্যও একে অপরকে বোঝা জরুরি।

দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের যোগাযোগ কতটা সহজ হয় তার ওপর।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

চীন থেকে কমছে মার্কিন শিক্ষার্থী, বদলে যাচ্ছে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের চিত্র

১২:১৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের চীনে পড়াশোনা ও গবেষণার সংখ্যা কমে যাওয়ায় দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চীন সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কমে গেলে ভবিষ্যতে কূটনীতি, বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

চীনে মার্কিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক বছরের ব্যবধানে বড় ধরনের কমেছে। একসময় যেখানে হাজার হাজার মার্কিন তরুণ চীনে ভাষা শেখা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার জন্য যেতেন, এখন সেই আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে।

শিক্ষার্থী বিনিময়ে বড় পরিবর্তন

২০১৯ সালের পর থেকে চীনে পড়তে যাওয়া মার্কিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত কমেছে। করোনা মহামারির প্রভাব, দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এই পরিবর্তনের বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, চীনে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি বা বিশেষ নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। আবার কেউ কেউ চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ হিসেবে দেখার কারণে সেখানে যাওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছেন।

Fewer US students are studying in China | The Straits Times

সরাসরি অভিজ্ঞতার গুরুত্ব কমছে

যেসব শিক্ষার্থী এখনো চীনে যাচ্ছেন, তারা বলছেন, দেশটিকে কাছ থেকে দেখা তাদের ধারণা বদলে দিয়েছে। চীনের শহর, সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাপন ও উন্নয়ন সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা তাদের চিন্তাভাবনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশকে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও শিক্ষাগত বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় দুই দেশের যৌথ কর্মসূচি সীমিত করেছে। মার্কিন সরকারের নজরদারি ও সতর্ক বার্তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

Fewer US students are studying in China | The Straits Times

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও অতিরিক্ত বাধা তৈরি করলে ভবিষ্যতে চীন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ তৈরির পথ সংকুচিত হতে পারে।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চীন সম্পর্কে দক্ষ নতুন প্রজন্মের গবেষক ও নীতিনির্ধারক তৈরি না হলে ভবিষ্যতে দুই দেশের জটিল সম্পর্ক সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু তরুণ শিক্ষার্থী আবার চীনে যাওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা মনে করছেন, প্রতিযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্যও একে অপরকে বোঝা জরুরি।

দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের যোগাযোগ কতটা সহজ হয় তার ওপর।