০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

চীন প্রভাবেই ধাক্কা: ২০২৬ সালে জাপানে বিদেশি পর্যটক কমার আশঙ্কা

গত কয়েক বছর ধরে টানা উত্থানের পর প্রথমবারের মতো ধাক্কা খেতে পারে জাপানের পর্যটন খাত। ২০২৬ সালে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় তিন শতাংশ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জেটিবি। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ওই বছরে জাপানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা নেমে আসতে পারে প্রায় চার কোটি ১৪ লাখে।

চীনা পর্যটক কমার বড় কারণ

এই সম্ভাব্য পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চীনা পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়া। মোট বিদেশি পর্যটকের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই আসে চীন থেকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় চীনা সরকার তাদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে সতর্ক থাকতে বলেছে। এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি পর্যটন খাতে। অনেক চীনা বিমান সংস্থা জাপানগামী ফ্লাইট কমিয়েছে বা স্থগিত করেছে, ফলে যাত্রী প্রবাহও কমে গেছে।

Image

২০২৫ সালে ছিল রেকর্ড উত্থান

এর ঠিক আগের বছর ২০২৫ সালে জাপানের পর্যটন খাত ছিল দারুণ উজ্জ্বল। জেটিবির হিসাব বলছে, ওই বছর বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় চার কোটি ২৬ লাখে, যা আগের বছরের তুলনায় ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়েই পর্যটকের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় আগের বছরের পুরো রেকর্ড। দুর্বল মুদ্রা ও পর্যটন-বান্ধব পরিবেশের কারণে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্য থেকেও ভ্রমণকারীর সংখ্যা বেড়েছিল।

শ্রমসংকট ও অবকাঠামোর চাপ

শুধু আন্তর্জাতিক রাজনীতিই নয়, দেশের ভেতরের সমস্যাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শ্রমিক সংকটের কারণে পর্যাপ্ত বিমান ফ্লাইট ও হোটেল কক্ষের জোগান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ছয় কোটি বিদেশি পর্যটক আনার যে লক্ষ্য জাপান নিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য পূরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পর্যটন চাহিদা ধীরে ধীরে স্থিতাবস্থায় পৌঁছাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Image

চীন-জাপান টানাপোড়েনের অর্থনৈতিক প্রভাব

চীনা পর্যটক কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও। বড় বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোরে করমুক্ত পণ্যের বিক্রি কমেছে। বিশেষ করে চীনা ক্রেতাদের কেনাকাটা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এক হিসাব অনুযায়ী, দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি চলতে থাকলে আগামী এক বছরে জাপানের পর্যটন আয়ে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পর্ক স্বাভাবিকের আশা

জাপানের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের শীর্ষ সংগঠনগুলোর আশা, দ্রুত দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে এবং মানুষের যাতায়াত আবার আগের ছন্দে ফিরবে। পর্যটননির্ভর বহু ব্যবসা এখন তাকিয়ে আছে সেই সম্ভাবনার দিকেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

চীন প্রভাবেই ধাক্কা: ২০২৬ সালে জাপানে বিদেশি পর্যটক কমার আশঙ্কা

১০:৩৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

গত কয়েক বছর ধরে টানা উত্থানের পর প্রথমবারের মতো ধাক্কা খেতে পারে জাপানের পর্যটন খাত। ২০২৬ সালে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় তিন শতাংশ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জেটিবি। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ওই বছরে জাপানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা নেমে আসতে পারে প্রায় চার কোটি ১৪ লাখে।

চীনা পর্যটক কমার বড় কারণ

এই সম্ভাব্য পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চীনা পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়া। মোট বিদেশি পর্যটকের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই আসে চীন থেকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় চীনা সরকার তাদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে সতর্ক থাকতে বলেছে। এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি পর্যটন খাতে। অনেক চীনা বিমান সংস্থা জাপানগামী ফ্লাইট কমিয়েছে বা স্থগিত করেছে, ফলে যাত্রী প্রবাহও কমে গেছে।

Image

২০২৫ সালে ছিল রেকর্ড উত্থান

এর ঠিক আগের বছর ২০২৫ সালে জাপানের পর্যটন খাত ছিল দারুণ উজ্জ্বল। জেটিবির হিসাব বলছে, ওই বছর বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় চার কোটি ২৬ লাখে, যা আগের বছরের তুলনায় ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়েই পর্যটকের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় আগের বছরের পুরো রেকর্ড। দুর্বল মুদ্রা ও পর্যটন-বান্ধব পরিবেশের কারণে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্য থেকেও ভ্রমণকারীর সংখ্যা বেড়েছিল।

শ্রমসংকট ও অবকাঠামোর চাপ

শুধু আন্তর্জাতিক রাজনীতিই নয়, দেশের ভেতরের সমস্যাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শ্রমিক সংকটের কারণে পর্যাপ্ত বিমান ফ্লাইট ও হোটেল কক্ষের জোগান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ছয় কোটি বিদেশি পর্যটক আনার যে লক্ষ্য জাপান নিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য পূরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পর্যটন চাহিদা ধীরে ধীরে স্থিতাবস্থায় পৌঁছাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Image

চীন-জাপান টানাপোড়েনের অর্থনৈতিক প্রভাব

চীনা পর্যটক কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও। বড় বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোরে করমুক্ত পণ্যের বিক্রি কমেছে। বিশেষ করে চীনা ক্রেতাদের কেনাকাটা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এক হিসাব অনুযায়ী, দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি চলতে থাকলে আগামী এক বছরে জাপানের পর্যটন আয়ে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পর্ক স্বাভাবিকের আশা

জাপানের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের শীর্ষ সংগঠনগুলোর আশা, দ্রুত দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে এবং মানুষের যাতায়াত আবার আগের ছন্দে ফিরবে। পর্যটননির্ভর বহু ব্যবসা এখন তাকিয়ে আছে সেই সম্ভাবনার দিকেই।